প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার যমুনা ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের ইউরিয়া উৎপাদন আবারও বন্ধ হয়ে গেছে। উৎপাদন শুরুর মাত্র দুই দিন পর এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হলো। প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘ আট মাস পর গ্যাস সংকট কাটিয়ে ইউরিয়া উৎপাদন শুরু করেছিল।
যমুনা সার কারখানার উৎপাদনের বিভাগীয় প্রধান মো. ফজলুল হক গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, রোববার (২৫ অক্টোবর) ভোর ৫টা থেকে কারখানার উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, সার উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে দৈনিক ৪২ থেকে ৪৩ পিএসআই গ্যাস প্রয়োজন। তবে গ্যাসের চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না থাকায় ভোর থেকে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হলে উৎপাদন আবার শুরু হবে।
ফজলুল হক আরও জানান, দীর্ঘদিন গ্যাস সংকটের কারণে কারখানা বন্ধ থাকার পর গত ৬ অক্টোবর গ্যাস পেয়ে উৎপাদন শুরু হয়েছিল। কিন্তু কারিগরি ত্রুটির কারণে দুই দিনের মাথায় ৮ অক্টোবর উৎপাদন আবারও বন্ধ হয়ে যায়। পরে শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) কারিগরি ত্রুটি সমাধান করে উৎপাদনে ফিরলেও পেট্রোবাংলা ও তিতাস কর্তৃপক্ষ গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দিলে উৎপাদন আবারও থেমে যায়। যদিও পুরোপুরি উৎপাদনে যেতে না পারলেও গত দুই দিনে মোট এক হাজার ৬০০ মেট্রিক টন সার উৎপাদন করা হয়েছে।
গ্যাসের অভাব এবং যান্ত্রিক জটিলতার কারণে যমুনা সার কারখানা ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত ২৩ মাস বন্ধ ছিল। চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি গ্যাস সংকটের কারণে পুনরায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। তবে গত ২০ সেপ্টেম্বর দুপুরে কারখানাটি আবার গ্যাস সংযোগ পায়।
যমুনা সার কারখানা দৈনিক ১৭০০ মেট্রিক টন সার উৎপাদনের সক্ষমতা নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে গ্যাসের চাপস্বল্পতা এবং যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দৈনিক ১২০০ থেকে ১৪০০ মেট্রিক টন সার উৎপাদন করতে সক্ষম। যমুনা সার কারখানা বিসিআইসির তালিকাভুক্ত এক হাজার ৯০০ ডিলারের মাধ্যমে জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইলসহ উত্তরবঙ্গের ২১টি জেলায় সার সরবরাহ করে আসছে। স্বাভাবিক গ্যাস সরবরাহ ও কারখানাটি সচল থাকলে প্রতিমাসে প্রায় ২০০ কোটি টাকার সার উৎপাদন হয়, যার লাভ থাকে প্রায় ৬০ কোটি টাকা। অন্যদিকে, কারখানা বন্ধ থাকলে অন্যান্য খরচ ছাড়া প্লান্ট সচল রাখতে গ্যাস বিল দিতে হয় প্রায় ৬ কোটি টাকা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন