প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের পরিকল্পনা অনুযায়ী চাগোস দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব মরিশাসের কাছে হস্তান্তর করা হতে পারে। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন উদ্যোগ হোয়াইট হাউসের মাধ্যমে এই পরিকল্পনাকে নস্যাৎ করে দিতে পারে। হোয়াইট হাউস এখন মরিশাস থেকে সরাসরি এই কৌশলগত দ্বীপপুঞ্জটি কেনার বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা করছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কর্মকর্তারা ব্রিটেনকে বাদ দিয়ে সরাসরি মরিশাসের সঙ্গে আলোচনা করে কৌশলগত সামরিক ঘাঁটি ডিয়েগো গার্সিয়ার নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করার একটি বিকল্প প্রস্তাব তৈরি করেছেন।
প্রতিবেদন অনুসারে, ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যে দ্বীপপুঞ্জ কেনার ধারণার বিশেষ উল্লেখ রয়েছে। যদিও এটি এখনও ওয়াশিংটনের প্রধান বিকল্প হিসেবে ধরা হচ্ছে না, তবুও মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের মাধ্যমে বিষয়টি প্রেসিডেন্টের কাছে পৌঁছানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ইরান সংকট এবং চীনের ক্রমবর্ধমান নৌ-সামরিক সক্ষমতার প্রেক্ষাপটে, বিশ্বব্যাপী কৌশলগত সামরিক ঘাঁটির গুরুত্ব একটি নতুন মাত্রা পেয়েছে। ডিয়েগো গার্সিয়ার অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রকে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘপাল্লার সামরিক অভিযান পরিচালনার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা দিয়ে থাকে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দ্বীপপুঞ্জের নিয়ন্ত্রণ চীন প্রভাবিত মরিশাসের হাতে চলে গেলে সামুদ্রিক গোয়েন্দাগিরির ঝুঁকি উঁচুতে উঠে যেতে পারে।
ব্রিটেনের পূর্ববর্তী পরিকল্পনা ছিল, চাগোস দ্বীপপুঞ্জকে মরিশাসের কাছে হস্তান্তর করা হবে এবং পরে প্রায় ৯৯ বছরের জন্য ডিয়েগো গার্সিয়া সামরিক ঘাঁটি ইজারা নেওয়া হবে। তবে এ চুক্তি কার্যকর করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সম্মতি প্রয়োজন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুরুতে স্টারমারের পরিকল্পনাকে সমর্থন করলেও পরে ট্রাম্প এর বিরোধিতা করেন। বিশেষ করে ইরান সম্পর্কিত সামরিক অভিযানে ডিয়েগো গার্সিয়া ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ায় তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এরপর থেকে ট্রাম্প এই চুক্তিকে “দুর্বলতার পরিচয়” এবং “বড় ধরনের বোকামি” বলে অভিহিত করেছেন।
এদিকে, ব্রিটিশ সরকার এখনও মরিশাসের সঙ্গে করা চুক্তির প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ বলে জানিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার বিষয়ক ব্রিটিশ মন্ত্রী হামিশ ফ্যালকনার মে মাসে বলেছিলেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে চাগোস দ্বীপপুঞ্জ কেনার কোনো বাস্তবসম্মত সুযোগ নেই।
তবে, হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিয়েগো গার্সিয়ার কার্যকারিতা বজায় রাখার প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের মধ্যে নিয়মিত আলোচনা চলছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন