প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পেছনের গাড়িটি সামনে থাকা গাড়িটিকে অতিক্রম করার চেষ্টা করছে। এই কারণে সিলেটগামী একটি পণ্যবাহী ট্রাক বাম দিকে সরে যায়।
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট নতুন ব্রিজ এলাকায় মহাসড়কের কিনারায় উঠতেই গাড়ির চাকা দেবে যায়। অনেক চেষ্টা করেও সেটি তোলা সম্ভব হয়নি। পরে উদ্ধারযন্ত্র আনতে আরেকটি গাড়িতে সিলেটের উদ্দেশে রওনা হন চালক ও হেলপার।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে মহাসড়কে এমন দৃশ্য দেখা গেছে।
তবে এটি একমাত্র এই অংশের সমস্যা নয়, হবিগঞ্জের ৮২ কিলোমিটার অংশজুড়ে প্রতিদিনের চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক স্থানে পিচের অস্তিত্ব নেই, সড়কজুড়ে রয়েছে খানাখন্দ। এর ফলে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে, এবং বৃষ্টির কারণে দুর্ভোগ আরো বৃদ্ধি পাচ্ছে।
জানা গেছে, ছয়লেন প্রকল্প শুরু হওয়ার প্রায় ১০ বছর পরেও জমি অধিগ্রহণ শেষ না হওয়ায় কাজ থমকে রয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় আসার কারণে স্থানীয় সড়ক ও জনপথ বিভাগও বড় ধরনের সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনা করছে না। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে মহাসড়কের ছোট গর্তগুলো বড় খানাখন্দে পরিণত হয়েছে।
সরেজমিনে শায়েস্তাগঞ্জের নতুন ব্রিজ এলাকা, বাহুবল এবং নবীগঞ্জের মিনাজপুর, শেরপুর ও দিনারপুর ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় ১০ কিলোমিটার অংশজুড়ে মহাসড়কের দূরাবস্থা। একই চিত্র মাধবপুর, শাহজিবাজার ও ওলিপুরেও। যানবাহন চলাচল ও যাত্রী ওঠানামায় প্রতিদিন চরম ভোগান্তির সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
নতুন ব্রিজ এলাকার আশপাশে দুই কিলোমিটারে ১০ থেকে ২০ ফুট আকারের শতাধিক বড় গর্ত দেখা যাচ্ছে। এছাড়া পুরো সড়ক ছোট-বড় অসংখ্য খানাখন্দে ভরা। বৃষ্টির সময় এসব গর্তে পানি জমে ছোট জলাশয়ের মতো হয়ে যায়। যাত্রীদের কাদা মাড়িয়ে বাসে ওঠানামা করতে হয়।
হবিগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী দিগন্ত পরিবহনের চালক মারুফ আহমেদ মন্তব্য করেন, নতুন ব্রিজ এলাকায় বাসগুলো পাঁচ থেকে ১০ মিনিট দাঁড়িয়ে যাত্রী তোলে। বৃষ্টির সময় গর্তে পানি জমে, যাত্রীরা শুরুতেই কাদায় ভিজে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একই ধরনের দুর্ভোগের কথা জানান বাসচালক সুজন মিয়া, রুহুল আমিন ও আল আমিন মিয়া।
জানা গেছে, ঢাকা-সিলেট ২০৯ কিলোমিটার মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করার কাজ ২০২১ সালে শুরু হয়। এজন্য জমি অধিগ্রহণ প্রকল্প ২০১৮ সালে শুরু হয়। ২০২৩ সালের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু হবিগঞ্জের ৮২ কিলোমিটারে প্রয়োজনীয় ৩০৩ একরের বিপরীতে অধিগ্রহণ হয়েছে মাত্র ৯০ একর। এখন প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৭ সাল করা হয়েছে।
হবিগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জাকির হোসেন বলেন, ছয় লেন প্রকল্পের কাছে সড়ক হস্তান্তরের পর আমাদের পক্ষ থেকে সংস্কার করা সম্ভব হচ্ছে না। তাদের দায়িত্বে রয়েছে। এ কারণে দীর্ঘদিন ধরে খানাখন্দ বড় আকার ধারণ করেছে।
প্রকল্প ব্যবস্থাপক এ কে এম সামছুজ জোহা জানান, যেখানে গর্ত হচ্ছে, সেখানে ইট ফেলে সাময়িক মেরামত করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে ক্ষতি বেড়েছে। ছয় লেনের কাজ শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত ঢালাইয়ের মাধ্যমে স্থায়ী সমাধান করা যায় কিনা, সেটিও বিবেচনা করা হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন