প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্রে এক ভারতীয় বংশোদ্ভূত বিনিয়োগ উপদেষ্টাকে ১১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনি বিনিয়োগকারীদের কোটি কোটি ডলার আত্মসাৎ করে বিলাসবহুল জীবনযাপন এবং পূর্ববর্তী বিনিয়োগকারীদের অর্থ পরিশোধের অপরাধে দণ্ডিত হয়েছেন। মার্কিন বিচার বিভাগ (ডিডিওজে) বিষয়টি নিশ্চিত করেছে একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে।
প্রতারণার শিকার ব্যক্তিদের তালিকায় আমেরিকান ফুটবল তারকা এবং খ্যাতনামা সংগীতশিল্পী টেইলর সুইফটের স্বামী ট্র্যাভিস কেলসি অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। আদালতের কৌঁসুলি শুনানিতে তার নাম উল্লেখ করেন। তবে কেলসির বিনিয়োগের সুনির্দিষ্ট তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
মিসৌরি আদালতে দায়ের করা অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ২০১৬ সালের জুলাই থেকে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩৮ বছর বয়সী সিদ্ধার্থ জাওহার বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ৩৫ মিলিয়ন ডলারের (সাড়ে তিন কোটি ডলার) বেশি অর্থ সংগ্রহ করেছেন। কিন্তু তিনি বিনিয়োগ করেছিলেন মাত্র ১০ মিলিয়ন ডলারের মতো।
যুক্তরাষ্ট্রের ডিস্ট্রিক্ট বিচারক জ্যাকারি এম ব্লুস্টোন গত মঙ্গলবার এক আদেশে জাওহারকে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের ৩১ দশমিক ৩৫ মিলিয়ন ডলার ফেরত বা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেন। বিচারক এই জালিয়াতিকে ‘অত্যন্ত ভয়াবহ’ বলে উল্লেখ করে বলেন, জাওহার বিনিয়োগকারীদের বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে প্রতারণা করেছেন এবং ক্ষতিপূরণ না দেওয়াটাই তার দণ্ড বাড়াতে বড় ভূমিকা রেখেছে।
যেভাবে প্রতারণার জাল বুনেছিলেন
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১০ সালে জাওহার ‘সুইফটআর্ক ক্যাপিটাল এলএলসি’ নামের একটি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। প্রথমে তিনি কিছু শেয়ারবাজারে টাকা বিনিয়োগ করলেও ২০১৫ সাল থেকে গ্রাহকদের প্রায় ৯৯ শতাংশ অর্থ কেবল একটি প্রতিষ্ঠানেই—‘ফিলিপ মরিস পাকিস্তান (পিএমপি)’—বিনিয়োগ করতে শুরু করেন।
জাওহার বিনিয়োগের টাকা দিয়ে ব্যক্তিগত বিমান ব্যবহার, বিলাসবহুল হোটেলে অবস্থান, অস্টিন ও নিউইয়র্কে দামি অ্যাপার্টমেন্ট কেনা, অভিজাত ক্লাবের সদস্যপদ নেওয়া এবং নামীদামি রেস্তোরাঁয় আমোদ-প্রমোদ চালিয়ে যেতেন।
নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জালিয়াতি
২০২২ সালের জুনে টেক্সাস স্টেট সিকিউরিটিজ বোর্ড জাওহারের সব ধরনের বিনিয়োগ কার্যক্রমের অনুমতি বাতিল করে এবং তাকে সব কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেয়। কিন্তু তিনি এই নিষেধাজ্ঞার কথা গোপন রেখে নতুন বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ অব্যাহত রাখেন। এমনকি আদেশ জারির কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এক বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে আরও ১ মিলিয়ন (১০ লাখ) ডলার হাতিয়ে নেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন