প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ : সরকার প্রাথমিক শিক্ষার বৃত্তি ও উপবৃত্তি প্রদানে প্রচলিত সমতার ধারণার পরিবর্তে শিক্ষার্থীর প্রকৃত আর্থিক প্রয়োজন ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থাকে অগ্রাধিকার দিয়ে ‘ইকুইটি-বেসড’ বা ন্যায্যতানির্ভর ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
প্রতিমন্ত্রী আজ মঙ্গলবার ঢাকার বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র মিলনায়তনে ‘প্রমাণ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ : বিদ্যালয় পর্যায়ের উন্নয়ন পরিকল্পনা (এসএলআইপি)-এর কার্যকারিতা বিষয়ক গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। এই কর্মশালাটি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) এবং ইউনিসেফের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়।
তিনি বলেন, ‘সব শিক্ষার্থীকে ঢালাওভাবে সমান সহায়তা দিলেই শিক্ষায় সমতা আসে না। যার প্রয়োজন বেশি, তাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়াই প্রকৃত ন্যায্যতা। সরকারি সহায়তার প্রতিটি টাকা যেন এমন শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছায়, যার জন্য এই সহায়তা শিক্ষাজীবন চালিয়ে যাওয়ার প্রধান সম্বল।’
প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, বিনামূল্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও যদি কোনো পরিবার নিজস্ব আর্থিক সক্ষমতায় সন্তানকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পড়ায়, তবে তাদের ক্ষেত্রে সরকারি সহায়তা পুনর্বিবেচনা করা যেতে পারে। অন্যদিকে, যেসব পরিবার সন্তানের শিক্ষা ব্যয় বহনে হিমশিম খাচ্ছে, তাদের জন্য সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধের তাগিদ দিয়ে ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘সরকারের মূল লক্ষ্য শুধু বিদ্যালয়ে নামেমাত্র ভর্তি নয়, বরং দারিদ্র্য বা আর্থিক সংকটের কারণে কোনো শিশু যেন শিক্ষা থেকে ছিটকে না পড়ে তা নিশ্চিত করা। এ জন্য উপবৃত্তি, শিক্ষা উপকরণ ও স্কুল ফিডিংসহ সব কর্মসূচিকে আরও সমন্বিত ও লক্ষ্যভিত্তিক করা হচ্ছে।’
প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য সাঁতার শেখাকে জীবনরক্ষাকারী দক্ষতা হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নদীমাতৃক এই দেশে সাঁতারকে কেবল খেলাধুলা নয়, বরং নিরাপত্তা ও জীবনরক্ষার অংশ হিসেবে প্রাথমিক শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
কর্মশালায় সূচনা বক্তব্য দেন ইউনিসেফের শিক্ষা বিশেষজ্ঞ জয় মিলান মালের। মূল গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান।
অন্যান্য আলোচকদের মধ্যে ইউনিসেফ বাংলাদেশের চিফ অব এডুকেশন দীপা শংকর এবং গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে. চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন