প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইউরোপের বিভিন্ন দেশের বিমান সংস্থাগুলো আবারও বোমা হামলার হুমকি পেয়েছে। চলতি সপ্তাহে এটি তৃতীয়বারের মতো ঘটেছে। শুক্রবার লিসবন, রোম, প্রাগ ও সোফিয়াগামী এবং এসব শহর থেকে আসা একাধিক ফ্লাইটকে হুমকি দেওয়া হয়। নিরাপত্তার কারণে তিনটি বিমানকে হাঙ্গেরির যুদ্ধবিমানের পাহারায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনায় আয়ারল্যান্ডের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম আরটিইসহ কয়েকটি পরিচিত গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ও খালি করা হয়। তবে বিমান সংস্থাগুলোর কাছে পাঠানো হুমকির সঙ্গে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোকে দেওয়া হুমকির কোনো সরাসরি যোগসূত্র পাওয়া যায়নি। এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে প্রায় ৩০টি বিমান ও কয়েকটি বিমানবন্দর একই ধরনের হুমকির মুখে পড়ে। এসব ঘটনাকে যুক্তরাজ্য ‘বিদ্বেষপূর্ণ প্রতারণা’ বলে অভিহিত করেছে।
শুক্রবার লিসবন থেকে রোমগামী রায়ানএয়ারের একটি নির্ধারিত ফ্লাইট বোমা হামলার হুমকির মুখে পড়ে বলে জানিয়েছে বিমান সংস্থাটি। এ ছাড়া বার্তা সংস্থা এএফপির তথ্য অনুযায়ী, চেক প্রজাতন্ত্র ও বুলগেরিয়ায় অন্তত ১১টি ফ্লাইটকে একই ধরনের হুমকি দেওয়া হয়েছে।
ফ্রান্সও জানিয়েছে, দেশটির অন্তত চারটি ফ্লাইট বোমা হামলার হুমকির মুখে পড়েছিল। তবে সবগুলো উড়োজাহাজই নিরাপদে অবতরণ করেছে। শুক্রবার পর্যন্ত কোনো উড়োজাহাজে বিস্ফোরক বা বোমার সন্ধান পাওয়া যায়নি। বিমান সংস্থাগুলো যখন একের পর এক বোমা হামলার হুমকি সামলাতে ব্যস্ত, তখন একই ধরনের হুমকি পেয়ে আয়ারল্যান্ডের কয়েকটি গণমাধ্যমের কার্যালয় থেকেও কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে আয়ারল্যান্ডের জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যম আরটিই।
এ ছাড়া আইরিশ ইন্ডিপেনডেন্ট পত্রিকার কর্মীদের পাশাপাশি নিউস্টকএফএম ও টুডেএফএম রেডিও স্টেশনের ডাবলিন কার্যালয়ের কর্মীদেরও ভবন ছেড়ে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
যুক্তরাজ্যের সম্প্রচারমাধ্যম স্কাইও জানিয়েছে, তারাও একটি নিরাপত্তা হুমকি পেয়েছে। এক বিবৃতিতে আয়ারল্যান্ডের পুলিশ বাহিনী গার্দাই জানায়, আয়ারল্যান্ড ও ইউরোপের বিভিন্ন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দেওয়া একটি হুমকির বিষয়ে তারা অবগত রয়েছে।
বিমান সংস্থা ও গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে দেওয়া হুমকির মধ্যে এখনো কোনো যোগসূত্র পাওয়া যায়নি। তবে আইরিশ সরকার আশঙ্কা করছে, এসব হুমকি পরিকল্পিতভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির একটি সমন্বিত প্রচেষ্টার অংশ হতে পারে।
সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এ ধরনের ভুয়া হুমকির কারণে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড ব্যাহত হয়। পাশাপাশি মানুষের মধ্যে ভয় ও উদ্বেগ তৈরি হয়। তবে এসব হুমকির পেছনে কারা রয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এর সঙ্গে কোনো ব্যক্তি জড়িত, নাকি এটি কোনো সংঘবদ্ধ গোষ্ঠীর পরিকল্পিত কর্মকাণ্ড, তা-ও স্পষ্ট নয়।
আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মাইকেল মার্টিন পরিস্থিতিকে ‘উদ্বেগজনক’ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, তার সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হলো দেশের জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তিনি আরো বলেন, ‘গতকাল বিমান চলাচল ব্যাহত করতে সমন্বিতভাবে চেষ্টা চালানো হয়েছিল বলে মনে হচ্ছে।’
আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মাইকেল মার্টিন জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক হুমকিগুলো কোনো ব্যক্তির কাজ, নাকি এর পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ গোষ্ঠী রয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে সরকার বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। আগামী সপ্তাহে ডাবলিনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দুটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
আরটিইর কার্যালয় খালি করার কয়েক ঘণ্টা পর যুক্তরাজ্যের সম্প্রচারমাধ্যম স্কাইও নিরাপত্তা হুমকি পাওয়ার কথা জানায়। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, তারা নিরাপত্তা মূল্যায়ন সম্পন্ন করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছে। কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করছে তারা।
এদিকে ইতালির বিমানবন্দরগুলোতে ভুয়া বোমা হামলার হুমকির ঘটনায় আলোচনায় আসা রুশ চরমপন্থী গোষ্ঠী ‘মেল স্টেট’ এসব হুমকির সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছে। বিবিসি রাশিয়ান সার্ভিসকে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় গোষ্ঠীটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্ট এ অভিযোগকে উপহাস করে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন