প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জলবায়ু ও পরিবেশ সুরক্ষায় প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর ৫ দফা বিশদ সুপারিশ উপস্থাপন করেছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)। সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এই ব্যাপারে বলেন, যেহেতু বাজেট জবাবদিহিতাহীন ও আমলাতান্ত্রিক উপায়ে তৈরি হচ্ছে, ফলে এটি পরিবেশগত সংকটগুলো মোকাবেলা করতে অসমর্থ।
প্রকৃত অর্থে সবুজ অর্থনীতি গড়ে তুলতে পৃথক মেগা প্রজেক্টের আওতায় পরিবেশ ধ্বংসের মহোৎসব বন্ধ করা প্রয়োজন।
শনিবার (২০ জুন) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সদস্যরা এসব কথা তুলে ধরেন।
বাপার সভাপতি অধ্যাপক নুর মোহাম্মদ তালুকদারের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর কবিরের সঞ্চালনায় এই সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত সুপারিশগুলোতে বলা হয়, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে যে ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে, তা প্রশমনে বর্তমান ০.৭৬ শতাংশ বরাদ্দ অত্যন্ত অজস্র। ফলে, ২০৩০ সালের মধ্যে এটি অন্তত ৩ শতাংশে উন্নীত করতে হবে।
এ ক্ষেত্রে বেসরকারি খাত থেকে পরিবেশবান্ধব অর্থায়ন নিশ্চিত করতে সরকার গ্যারান্টিযুক্ত বন্ড চালুর মাধ্যমে তহবিল গঠন করতে পারে।
সুপারিশ অনুযায়ী, উচ্চ কার্বন নিঃসরণকারী শিল্প ও লাক্সারি গাড়ির আমদানিতে বিশেষ কার্বন কর আরোপ করে সেই অর্থ পরিবেশ সংরক্ষণে ব্যবহার করতে হবে। যেসকল শিল্প বর্জ্য শোধনাগার চালায় না, তাদের ওপর কঠোর জরিমানা আরোপ করে সেই তহবিল থেকে কেন্দ্রীয় শোধনাগার নির্মাণের পরিকল্পনা প্রস্তুত করতে হবে।
এছাড়া, মহানগরগুলোর ল্যান্ডফিল এলাকায় বর্জ্য পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রকল্প গ্রহণ করার মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণ ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করতে হবে। একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি, প্লাস্টিক রিসাইক্লিং শিল্পে কর ছাড় দিতে হবে। ক্লাইমেট টেকনোলজি স্টার্টআপদের জন্য বিশেষ ইনকিউবেশন সেন্টার এবং সিড ফান্ড প্রদান করতে হবে। নদীর গতিপথ ও বনভূমি দখল রিয়েল-টাইম ট্র্যাকিংয়ের জন্য মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্রকে শক্তিশালী করতে হবে। সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় কৃত্রিম বাঁধের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নতুন ম্যানগ্রোভ বনায়নের সৃষ্টি করে সাইক্লোন থেকে রক্ষার জন্য প্রাকৃতিক দেয়াল গঠনের উদ্যোগ নিতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনের মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন বাপার সদস্য ফারহান হোসেন জয়।
তিনি মন্তব্য করেন, বিএনপি সরকারের আগের আমলেই আমরা দেখেছি পলিথিনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আসতে। এই সরকারই আগেরবার বেবি-ট্যাক্সির কালো ধোঁয়া থেকে ঢাকাকে মুক্ত করে সিএনজি মোটরের ব্যবহার শুরু করেছিল। এবারও তিনি আশাবাদী যে, সরকার পরিবেশ ও নাগরিকদের স্বার্থে কাজ করবে।
তিনি আরও বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বরাদ্দের তুলনায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ প্রায় ২২ শতাংশ বৃদ্ধি পেলেও, কঠোর জবাবদিহিতা ছাড়া এই বরাদ্দ শাপে বর হবে।
বাপার সহসভাপতি অধ্যাপক এম. ফিরোজ আহমেদ বলেন, কার্বন ট্রেডিং কিয়োটো-প্রটোকলের মাধ্যমে বিক্রি করা সম্ভব হলেও বাংলাদেশ তা করতে ব্যর্থ হয়েছে। ফ্লাইওভার তৈরির ফলে শহরে বায়ুদূষণ বৃদ্ধি পেয়েছে; যদি আন্ডারগ্রাউন্ড যোগাযোগের ব্যবস্থা করা হয়, তবে দূষণের মাত্রা অনেকাংশে কমানো সম্ভব হতে পারে। পয়ঃবর্জ্য ও শিল্প দূষণ সুপেয় পানির উৎসে বাধা সৃষ্টি করছে।
বাজেটে ‘গ্রিন জব’ অর্থাৎ সরকার আসলে কী বুঝাতে চেয়েছে, সেটি স্পষ্ট করার আহ্বান জানান বাপার সহসভাপতি জাকির হোসেন। তিনি মন্তব্য করেন, পরিবেশ সুরক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির প্রয়োজন। বাজেটের বরাদ্দকৃত অর্থকে দুর্নীতিমুক্তভাবে খরচ করতে হবে। পরিবেশের বাজেট তৈরির আগে পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ গ্রহণ করা আবশ্যক।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন