প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
শান্তি প্রক্রিয়ায় অংশ হিসেবে নিষিদ্ধ ঘোষিত কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টির(পিকেকে) হাজার হাজার যোদ্ধাকে শর্তসাপেক্ষে ক্ষমা করার একটি আইন পাস করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। মঙ্গলবার(১৮ আগস্ট) সরকারি গেজেটে এই আইনটি প্রকাশিত হয়।
দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ জানিয়েছে, সংগঠনটি পুরোপুরি বিলুপ্ত হলে এবং অস্ত্র সমর্পণ করলে এই আইন কার্যকর হবে। গত সপ্তাহে পার্লামেন্টে বিপুল ভোটে বিলটি পাস হয়েছে। এই আইনের ফলে পিকেকে-র দণ্ডপ্রাপ্ত সদস্যদের কারাদণ্ড স্থগিত করা হবে এবং অপরাধের গুরুত্বের ওপর ভিত্তি করে অন্যদের বিরুদ্ধে চলমান তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া পাঁচ বা দশ বছরের জন্য স্থগিত রাখা হবে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তারা যদি পুনরায় কোনো অপরাধ না করে, তবে কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো প্রত্যাহার করে নেবে। আইনটিতে সংগঠনটির নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া তদারকির জন্য একটি কমিটি গঠনেরও বিধান রাখা হয়েছে। আগামী সপ্তাহে এই কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে।
গত বছর কারাবন্দী নেতা আবদুল্লাহ ওজালানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে পিকেকে তুরস্ক এবং তার পশ্চিমা মিত্ররা সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে গণ্য করে নিজেদের সংগঠন বিলুপ্ত করার ঘোষণা দেয়। তবে ওজালান এবং পিকেকে-র অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় নেতারা এই ক্ষমার আওতাভুক্ত নন।
এর পরপরই উত্তর ইরাকে এক প্রতীকী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কিছু যোদ্ধা অস্ত্র সমর্পণ করে এবং তুরস্কের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো থেকে কিছু যোদ্ধাকে ইরাকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। ১৯৮০-র দশক থেকে পিকেকে-র সঙ্গে চলা এই সংঘাতে কয়েক হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। এর ফলে কুর্দি-অধ্যুষিত দক্ষিণ-পূর্ব তুরস্কের ওপর একটি গুরুতর অর্থনৈতিক বোঝা তৈরি হয়েছে এবং কয়েক দশক ধরে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভাজনকে উসকে দিয়েছে।
আইনপ্রণেতারা বলেছেন, এই পদক্ষেপের প্রাথমিক পর্যায়ে পিকেকে-সংশ্লিষ্ট প্রায় ৩ হাজার ৫০০ বন্দীকে মুক্তি দেওয়া হতে পারে। এটি তুরস্কের কারাগারে আটক মোট বন্দীর সংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।
সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন