প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
‘বাটেক্সপো’ বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের সোনালি দিনগুলোকে পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে কাজ করছে। ১২ বছরের বিরতির পর এই মেলা ফিরে আসায় দেশের তৈরি পোশাক খাতে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার এই প্রত্যাবর্তনকে পোশাক শিল্পের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে গোলাম পরওয়ার বাটেক্সপোর সফলতা কামনা করেছেন এবং বিজিএমইএ-এর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন পুরোনো ও গৌরবময় ঐতিহ্য ধরে রাখার জন্য।
স্মৃতির পাতা থেকে বাটেক্সপো
১৯৮৯ সালে শুরু হওয়া এই আয়োজনের উদ্দেশ্য ছিল বিদেশি ক্রেতাদের আকৃষ্ট করা এবং বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির সুযোগ বৃদ্ধি করা। সেই ছোট আয়োজনটি এখন দেশের প্রধান রপ্তানি শিল্পের বৃহত্তম আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে।
বিজিএমইএ ঘোষণা করেছে, আগামী ১৮ ও ১৯ নভেম্বর ঢাকার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘বাটেক্সপো ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হবে।
জাতীয় ঐকমত্যের সেই চিরচেনা ঐতিহ্য
বিবৃতিতে গোলাম পরওয়ার অতীতের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাটেক্সপোর উদ্বোধন ও সমাপনী অনুষ্ঠানে দেশের সরকার ও বিরোধী দলের শীর্ষ নেতারা একসাথে অংশগ্রহণ করতেন। দেশের স্বার্থে এবং অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তিকে এগিয়ে নিতে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে এক হয়ে কাজ করার বার্তা বিশ্বে পৌঁছাত এই মেলা।
তবে এবারের আয়োজনের উদ্বোধনীতে প্রধানমন্ত্রী এবং সমাপনীতে রাষ্ট্রপতিকে আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্তে কিছুটা উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। বিজিএমইএ-এর এই সিদ্ধান্ত তাদের নিজস্ব বিষয় হলেও, তিনি মনে করেন রাজনৈতিক মতপার্থক্য ভুলে অতীতের ঐতিহ্যটি ধরে রাখা গেলে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সৌহার্দ্যের বার্তা আরও জোরালোভাবে পৌঁছাতে পারবে।
বর্তমান প্রযুক্তির যুগে যে কোনো বার্তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, যা ব্যবসা-বাণিজ্য এবং বিদেশি ক্রেতাদের আস্থার ওপর প্রভাব ফেলে। মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, "একটি পোশাক যখন বাংলাদেশের কারখানা থেকে তৈরি হয়ে বিদেশি ক্রেতার হাতে পৌঁছায়, তখন কেবল সেই কাপড়টিই যায় না; তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, আমাদের সংস্কৃতি আর লালিত মূল্যবোধ।"
এভাবে বাটেক্সপো কেবল ক্রেতা ও বিক্রেতার কেনাকাটার মেলা নয়, বরং এটি বাংলাদেশকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার একটি অপূর্ব সুযোগ। এই সুযোগে দেশের রাজনৈতিক বিভাজনের কোনো ভুল বার্তা যেন বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে না যায়, সে বিষয়ে জাতীয় শিল্প সংগঠনগুলোকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
জামায়াতের এই নেতা জানান, কাউকে ছোট করা বা বিতর্কের জন্ম দেওয়া উদ্দেশ্য নয়। লাখ লাখ পোশাক শ্রমিক, হাজারো উদ্যোক্তা এবং স্থানীয় ব্যবসার ঘামে তৈরি এই পোশাক শিল্প পুরো বাংলাদেশের সম্পদ।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে বিজিএমইএ আরও বেশি পেশাদারিত্ব, যোগ্যতা ও দূরদর্শিতার পরিচয় দেবে। বাটেক্সপো যেন একটি প্রদর্শনী হয়ে না থেকে বাংলাদেশের ঐক্য, স্থায়িত্ব এবং ইতিবাচক ভাবমূর্তির বিশ্বস্ত প্রতীক হয়ে উঠতে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন