প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ জানিয়েছেন, সাইবার সুরক্ষা আইন এমনভাবে তৈরি করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে এটি ব্যবহার করে গণমাধ্যম বা অন্য কারও কণ্ঠরোধ করার সুযোগ না থাকে।
তিনি উল্লেখ করেন, পূর্ববর্তী ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ বিভিন্ন আইন সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব করতে ব্যবহৃত হয়েছে। নতুন আইনে এ ধরনের অপব্যবহারের সুযোগ না রাখার জন্য সরকার সতর্ক রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সাইবার সুরক্ষা আইন প্রণয়নের লক্ষ্যে গঠিত কমিটির সভার শুরুতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
মন্ত্রী বলেন, সাইবার সুরক্ষা আইন নিয়ে এখনও খসড়া প্রণয়ন ও আলোচনা চলছে। কিছু শব্দের দ্বৈত অর্থ থাকতে পারে। তাই কোনো শব্দ বা ধারার ব্যাখ্যার সুযোগ নিয়ে ভবিষ্যতে আইনটির অপব্যবহার না হয়, সে বিষয়ে তারা সতর্কভাবে কাজ করছেন।
তিনি আরও বলেন, গত ১৭-২০ বছরে দেখা গেছে, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ কিছু আইন সংবাদমাধ্যম বা সংবাদপত্রকে দমিয়ে রাখার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে।
আইনের খসড়া নিয়ে সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং পরবর্তী পর্যায়েও তাদের সঙ্গে কথা বলা হবে। আইনটির কোনো শব্দ বা ধারার ব্যাখ্যার কারণে গণমাধ্যম বা অন্য কারও ওপর নিপীড়ন কিংবা অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি না হয়, সেটিই তাদের অন্যতম লক্ষ্য।
সাইবার সুরক্ষা আইনের মূল লক্ষ্য সম্পর্কে জানতে চাইলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জননৈতিকতা নষ্ট করে এমন কর্মকাণ্ড বন্ধ করা এবং অনলাইন পরিবেশকে নিরাপদ রাখা তাদের অন্যতম লক্ষ্য। বিশেষ করে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নামে গালাগাল ও অশালীন ভাষার ব্যবহার বেড়েছে। এসব বিষয় কীভাবে আইনের আওতায় আনা যায়, একই সঙ্গে মতপ্রকাশ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতাও কীভাবে সুরক্ষিত রাখা যায়, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।
তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জননৈতিকতা নষ্ট করে এমন বিষয়গুলো আইনের মধ্যে আনতে পারার পাশাপাশি মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে সম্মান করার বিষয়েও আলোচনা চলছে। দুটির মধ্যে সংঘাত না হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, তারা আশ্বস্ত করার চেষ্টা করছেন যে, এই আইন কোনোভাবেই কারও কণ্ঠরোধ বা নিপীড়নের জন্য তৈরি করা হচ্ছে না।
আইনের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো কনটেন্ট পেলেই যাচাই না করে শেয়ার করে দেওয়া, মানহানিকর বক্তব্য প্রচার বা পুনরায় প্রচারের মতো বিষয়গুলো নিয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, যেকোনো কনটেন্ট পেলেই শেয়ার করে দেওয়া, মানহানিকর বক্তব্য বা মানহানির বিষয় পুনরায় প্রচার করাও যে সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে, এসব বিষয়ে মানুষকে সচেতন করতে হবে।
আইনের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা তৈরির জন্য একটি কর্মসূচি নেওয়া হবে। সেখানে সংবাদমাধ্যমসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে বলে জানান আন্দালিভ রহমান পার্থ।
তিনি বলেন, আইনটি এমনভাবে প্রণয়ন করাই তাদের লক্ষ্য, যাতে ভবিষ্যতে এর অপব্যবহারের কোনো সুযোগ না থাকে এবং একই সঙ্গে মানুষের সম্মানহানি বা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি না হয়।
বিডি প্রতিদিন/কেএইচটি
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন