প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় অবৈধভাবে সরকারি খালের ওপর গড়ে তোলা মুরগির দুটি খামার ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে, গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের নাজিরউদ্দিন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় এ অভিযান অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা প্রশাসনের একটি দল ওই অঞ্চলে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাস ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ মুনতাসির হাসান খান।
অভিযানকালে খালের পানি প্রবাহ সচল রাখা এবং স্থানীয় কৃষির সুরক্ষার বিষয়ে তদারকি করার জন্য উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি অফিসার সৈয়দ রায়হানুল হায়দার ও অবকাঠামোগত বিষয়ে সহায়তা প্রদান করেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোঃ আবু বকর।
এছাড়া, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গোয়ালন্দ ঘাট থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রাশেদুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি পুলিশ ফোর্সও অভিযানে নিয়োজিত ছিল।
সকলের উপস্থিতিতে খালের ওপর নির্মিত খামারের অবৈধ অংশটি সম্পূর্ণ ভাবে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়নে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে গোয়ালন্দের নাজিরউদ্দিন পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিশ্বনাথপাড়া বেরিবাঁধ পর্যন্ত ১ দশমিক ৬৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ খাল পুনঃখননের জন্য ২১ লাখ ৬৭ হাজার ১৭২ টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, পুনঃখননের সরকারি খালের ওপর অবৈধভাবে মুরগির খামারটি নির্মাণ করা হয়েছিল। খাল পুনঃখনন কাজ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা, খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ফিরিয়ে আনা এবং কৃষকদের সেচ সুবিধা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
বিসমিল্লাহ এগ্রো ফার্মের মালিক হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, “এটি ১০ থেকে ১২ জনের যৌথ মালিকানাধীন একটি খামার। খালের এই জায়গাটি বিএস রেকর্ডে সরকারের নামে থাকলেও আরএস ও এসএ রেকর্ডে আমার নামে রয়েছে। পরবর্তীতে রেকর্ড সংশোধন সংক্রান্ত মামলায় আমরা আমাদের পক্ষে রায় পেয়েছি বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, উপজেলা প্রশাসন থেকে প্রায় এক মাস আগে খামারটি সরিয়ে নেওয়ার জন্য তাঁকে জানানো হয়েছিল।”
অভিযান শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস বলেন, “সরকারের চলমান খাল খনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে খালটি খননের কাজ চলমান রয়েছে। কিন্তু খালের ওপর অবৈধ নির্মিত এই হ্যাচারির কারণে খননকাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল। হ্যাচারিটি সরিয়ে নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের একাধিকবার বলা হলেও তারা তা অপসারণ করেনি। ফলস্বরূপ, আজ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। পরিবেশ সংরক্ষণ, কৃষকদের সেচ সুবিধা নিশ্চিত করা এবং খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ফিরিয়ে আনার জন্য ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন