প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে ফরিদপুরের সদরপুরে ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। দুর্গোৎসবের দিন যতই নিকটে আসছে, ততই উৎসবের আমেজ বৃদ্ধি পাচ্ছে। উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে মৃৎশিল্পী ও কারিগররা প্রতিমা নির্মাণ, মণ্ডপ তৈরি, সাজসজ্জা ও আলোকসজ্জার কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।
মাটির অবয়বে দেবীর রূপ ধীরে ধীরে ফুটে উঠতে শুরু করায় ফরিদপুরের সদরপুরের বিভিন্ন এলাকায় দুর্গোৎসবের আগমনী বাতাস বইতে শুরু করেছে। সদরপুর পূজা উদযাপন কমিটির তথ্য অনুযায়ী, এ বছর উপজেলায় প্রায় ৩৮টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হবে। ইতোমধ্যে অধিকাংশ মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ চলমান রয়েছে।
কিছু স্থানে বাঁশ ও খড় দিয়ে প্রতিমার কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে, অন্যদিকে মাটির প্রলেপ দেওয়ার কাজ চলছে। আবার কিছু মণ্ডপে প্রতিমায় রং করা, পোশাক-অলংকার পরানোসহ সাজসজ্জার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। পাশাপাশি মণ্ডপ নির্মাণ ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজও সমানতালে চলছে।
বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী, আগামী ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মাধ্যমে দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। হাতে থাকা সময়ের মধ্যে প্রতিমা নির্মাণ ও মণ্ডপের অন্যান্য প্রস্তুতি শেষ করতে দিন-রাত কাজ করছেন মৃৎশিল্পী ও কারিগররা।
সরেজমিনে সদরপুর উপজেলার কয়েকটি পূজা মণ্ডপে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত কয়েকজন মৃৎশিল্পী। বাঁশ ও খড়ের কাঠামোর ওপর ধাপে ধাপে মাটি দিয়ে দেবীর অবয়ব গড়ে তোলা হচ্ছে। কারিগরদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় কাঁচা মাটির সেই অবয়ব ধীরে ধীরে পূর্ণাঙ্গ প্রতিমার রূপ নিচ্ছে। কেউ কাঠামো তৈরিতে ব্যস্ত, কেউ মাটি লাগাচ্ছেন, আবার কেউ প্রতিমার বিভিন্ন অংশে সূক্ষ্ম কারুকাজ ফুটিয়ে তুলছেন।
মৃৎশিল্পী সুজন পাল বলেন, "প্রতিমা তৈরির কাজ কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন করতে হয়। একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিমা তৈরি করতে চার-পাঁচজন মৃৎশিল্পীর প্রায় সাত থেকে আট দিন সময় লাগে। প্রথমে বাঁশ ও খড় দিয়ে কাঠামো তৈরি করা হয়। এরপর কয়েক স্তরে মাটি দিয়ে প্রতিমার অবয়ব গড়ে তোলা হয়। মাটি শুকিয়ে গেলে শুরু হয় সূক্ষ্ম কারুকাজ। সবশেষে রং, পোশাক, অলংকারসহ বিভিন্ন সাজসজ্জার কাজ সম্পন্ন করা হয়।"
তিনি আরও বলেন, "নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিমা প্রস্তুত করতে এবার তাদের ব্যস্ততার মধ্যেই কাজ করতে হচ্ছে। প্রতিমার সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলতে প্রতিটি ধাপেই বিশেষ যত্ন ও নিপুণতার প্রয়োজন হয়।"
উপজেলার কয়েকটি পূজামণ্ডপ ঘুরে আরো দেখা গেছে, প্রতিমা তৈরির পাশাপাশি মণ্ডপ নির্মাণ ও সাজসজ্জার কাজও চলছে পুরোদমে। কোথাও বাঁশের কাঠামো তৈরি হচ্ছে, কোথাও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ চলছে। আবার কোথাও আলোকসজ্জার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
সদরপুর পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি নিলয় ভৌমিক বলেন, "পূজাকে সামনে রেখে উপজেলার বিভিন্ন মণ্ডপে প্রতিমা নির্মাণ, মণ্ডপ তৈরি ও সাজসজ্জার কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সব প্রস্তুতি শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।"
কমিটির সাধারণ সম্পাদক গোবিন্দ ভৌমিক বলেন, "শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা আয়োজনের জন্য আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। এ বিষয়ে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।"
সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফ শাওন বলেন, "শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা ও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করে নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপন নিশ্চিত করতে প্রশাসন কাজ করবে।"
মৃৎশিল্পীদের নিপুণ হাতে মাটি যখন দেবীর রূপ নিচ্ছে, তখন সদরপুরের আকাশ-বাতাসে যেন বেজে উঠছে শারদীয় দুর্গোৎসবের আগমনী সুর। প্রতিমা ও মণ্ডপের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত কারিগরদের কর্মচাঞ্চল্য জানান দিচ্ছে—আর মাত্র কয়েক দিনের অপেক্ষা। এরপর ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, উৎসব ও সম্প্রীতির আবহে মুখর হয়ে উঠবে সদরপুরের ৩৮টি পূজামণ্ডপ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন