প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
অর্থ কোথায় বিনিয়োগ করবেন, তা নিয়ে চিন্তিত থাকেন অনেকেই সারাজীবন। কিছু মানুষ স্থায়ী সম্পদে বিনিয়োগ করেন, অন্যরা সঞ্চয়পত্র বা বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগ করেন। তবে মধ্যবিত্তদের জন্য সঞ্চয়ের অন্যতম কার্যকর মাধ্যম হলো প্রাইজবন্ড। মাত্র ১০০ টাকার প্রাইজবন্ড কিনে সর্বোচ্চ পুরস্কার ৬ লাখ টাকা জেতার সম্ভাবনা রয়েছে।
সঞ্চয় প্রবণতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে সরকার ‘বাংলাদেশ প্রাইজবন্ড’ নামে এই বন্ড চালু করেছে। এটি যে কোনো সময় কেনা এবং ভাঙানো সম্ভব।
প্রাইজবন্ড কী?
প্রাইজবন্ড হচ্ছে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের একটি বিনিয়োগ প্রকল্প, যেখানে বিনিয়োগকারীরা যেকোনো সময় বিনিয়োগ করতে পারেন এবং যেকোনো সময় প্রাইজবন্ড ফেরত নিয়ে আসল অর্থ উত্তোলন করতে পারেন। এই প্রকল্প থেকে মুনাফা বা সুদ প্রদান করা হয় না। তবে প্রতি বছর তিন মাস অন্তর অন্তর ড্র অনুষ্ঠিত হয় এবং বিজয়ীদের বিভিন্ন মূল্যমানের পুরস্কার প্রদান করা হয়।
ড্র অনুষ্ঠিত হওয়ার নির্দিষ্ট তারিখগুলো হলো ৩১ জানুয়ারি, ৩০ এপ্রিল, ৩১ জুলাই এবং ৩১ অক্টোবর। যদি নির্ধারিত তারিখে সরকারি ছুটি থাকে, তাহলে পরবর্তী কার্যদিবসে ড্র অনুষ্ঠিত হয়।
তবে বিক্রিত সকল বন্ড লটারির আওতায় আসে না। যে তারিখে ড্র অনুষ্ঠিত হবে, সেই তারিখ থেকে ২ মাস আগে যে সমস্ত নতুন বন্ড বিক্রি হবে, সেগুলো ড্রয়ের আওতায় আসবে। অর্থাৎ, বন্ডের বিক্রির তারিখ থেকে ন্যূনতম ২ মাস অতিক্রমের পর উক্ত বন্ড ড্র-এর আওতায় আসবে।
সরকার কর্তৃক নির্ধারিত স্থানে 'ড্র' অনুষ্ঠিত হয় এবং সরকার কর্তৃক নিয়োজিত 'ড্র' কমিটি এই অনুষ্ঠানের পরিচালনা করে। একক সাধারণ পদ্ধতিতে 'ড্র' পরিচালিত হয়, অর্থাৎ প্রত্যেক সিরিজের জন্য একই নম্বর। বাজারে প্রচলিত প্রাইজবন্ড সিরিজগুলো এই 'ড্র'-এর আওতাভুক্ত।
প্রাইজবন্ড কেন প্রচলন করা হয়েছে?
বাংলাদেশ সরকার অভ্যন্তরীণ সম্পদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই স্কীমটি চালু করেছে। এই প্রকল্পটি সকল শ্রেণির মানুষের সঞ্চয় প্রবণতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে প্রবর্তন করা হয়েছে। সরকারের অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ আহরণ এই প্রকল্পের মাধ্যমে অনেকটাই সহজ হয়েছে। প্রাইজবন্ড বিক্রির মাধ্যমে সরকার জনগণের কাছ থেকে সরাসরি ঋণ গ্রহণ করে।
বর্তমানে বাজারে কত টাকা মূল্যের প্রাইজবন্ড উপলব্ধ? বাংলাদেশে এ পর্যন্ত তিনটি প্রাইজবন্ড প্রকল্প চালু হয়েছে। প্রথমটি ১৯৭৪ সালে ১০ টাকা মূল্যমানের প্রাইজবন্ড, যা ১৯৯৫ সালে বাতিল করা হয়। দ্বিতীয়টি ১৯৭৪ সালে ৫০ টাকা মূল্যমানের আরেকটি প্রাইজবন্ড চালু হয়েছিল, সেটিও ১৯৯৫ সালে বাতিল হয়।
বর্তমানে শুধুমাত্র ১০০ টাকা মূল্যমানের প্রাইজবন্ড বাজারে চালু রয়েছে। ১৯৯৫ সালের ২ জুলাই থেকে এই বন্ড বাজারে প্রচলন শুরু হয়।
কেন কিনবেন প্রাইজ বন্ড?
সারাজীবন কষ্ট করে কিছু টাকা জমিয়েছেন, কিন্তু কোথায় বিনিয়োগ করবেন তা নিয়ে দ্বিধায় আছেন। যেহেতু যে কোনো বিনিয়োগের ঝুঁকি থাকে, তাই প্রাইজবন্ড একটি নিরাপদ বিকল্প। খুব ক্ষুদ্র সঞ্চয়ের মাধ্যমে আলাদাভাবে অর্থনীতিতে লাভজনক বিনিয়োগ সম্ভব নয়।
মাত্র ১০০ টাকায় অন্য কোনোভাবে সঞ্চয় বা বিনিয়োগ করা কঠিন। অন্য বিনিয়োগ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে মূলধন প্রত্যাহার করা সম্ভব নয়। তবে প্রাইজবন্ড ভাঙিয়ে যে কোনো সময় নগদ অর্থ তুলে নেওয়া যায়। এটি সহজে হস্তান্তরযোগ্য। ব্যাংক বা অন্য কোথাও সঞ্চয় জমা রাখলে তা সহজে হস্তান্তরযোগ্য নয়। কিন্তু আপনার অধিকারে থাকা প্রাইজবন্ড যে কোনো সময় যে কাউকে হস্তান্তর করা সম্ভব। ড্র এর সময় বন্ড যার হাতে থাকবে, সেই পুরস্কার লাভ করবে।
কীভাবে কিনবেন?
প্রাইজবন্ড কেনার জন্য কোনো আবেদন করতে হয় না। যেকোনো ইস্যু অফিসে গিয়ে নগদ অর্থের বিনিময়ে প্রাইজবন্ড ক্রয় করা এবং ভাঙানো যায়। বর্তমানে দেশে চারটি প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাইজবন্ড কেনা এবং ভাঙানো সম্ভব।
১) বাংলাদেশ ব্যাংক
২) শরীয়াহ ভিত্তিক ব্যাংক ব্যতীত সকল তফসিলি ব্যাংক
৩) জাতীয় সঞ্চয় অধিদফতরের অধীনস্থ সব সঞ্চয় ব্যুরো অফিস
৪) ডাকঘর
প্রাইজবন্ড 'ড্র' পদ্ধতি কেমন?
বাংলাদেশ প্রাইজবন্ড স্কিমের অধীনে প্রাইজবন্ড বিক্রয়, 'ড্র' অনুষ্ঠান এবং পুরস্কারের টাকা প্রদানের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে। সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে প্রাইজবন্ড 'ড্র' কমিটির চেয়ারম্যান (বিভাগীয় কমিশনার) কর্তৃক নির্দেশিত পূর্ব নির্ধারিত স্থানে 'ড্র' অনুষ্ঠান পরিচালিত হয়। চেয়ারম্যান 'ড্র' অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এবং অনুমোদিত পদ্ধতি অনুযায়ী 'ড্র' অনুষ্ঠানের বিষয়টি সুনিশ্চিত করেন।
'ড্র' অনুষ্ঠানটি বিটিভি বা অন্য কোনো চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচার করা হয় না, তবে বর্তমান তথ্য প্রযুক্তির যুগে প্রচুর জনসাধারণ, মিডিয়া প্রতিনিধি, সংবাদ মাধ্যম উপস্থিত থাকে। বাংলাদেশ ব্যাংক অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে এই অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন করে আসছে, কখনো কোনো বিরূপ পরিবেশ তৈরি হয়নি।
চেয়ারম্যান কর্তৃক মনোনীত গেজেটেড কর্মকর্তারা অর্থাৎ ড্রয়িং অফিসার 'ড্র' পদ্ধতিটি পাঠ, ড্রাম ঘুরানো, গুটি উত্তোলন, ড্রামের সঙ্গে রক্ষিত ট্রে-তে গুটিগুলো স্থাপন ইত্যাদি কার্যক্রম সুচারুভাবে পালন করেন এবং সদস্যগণ অন্যান্য কাজের সাথে পুরস্কার বিজয়ী নম্বর রেকর্ড করা এবং নির্ধারিত পদ্ধতি অনুযায়ী 'ড্র' অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধান করেন।
প্রাইজবন্ড 'ড্র' অনুষ্ঠানের প্রায় দেড় মাস পূর্বে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের ডেট ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্টের নির্দেশনার আলোকে মতিঝিল অফিসের প্রাইজবন্ড শাখার উপ-ব্যবস্থাপকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীদেরকে 'ড্র' অনুষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করতে হয়। প্রাইজবন্ড 'ড্র' কমিটির সভাপতি মহোদয় ও সার্বিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা বা কর্মচারীদেরকে প্রাইজবন্ড নীতিমালায় বর্ণিত কার্যাবলী মোতাবেক যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করতে হয় এবং দায়িত্ব পালনে ব্যত্যয় ঘটার সুযোগ নেই।
প্রাইজবন্ডের ড্রয়ের ফলাফল জানার সহজ পদ্ধতি সম্পর্কে জানুন।
সহজেই প্রাইজবন্ড ড্রয়ের ফলাফল জানার পদ্ধতি হলো বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েব সাইটের সার্চ বক্সে এক বা একাধিক নম্বর অনুসন্ধান করা। একটি নম্বরের জন্য শুধুমাত্র নম্বরটি টাইপ (সিরিজ নয়) করলেই ফলাফল জানা যাবে। একাধিক প্রাইজবন্ড থাকলে এবং তা যদি ক্রমানুসারে হয়, তাহলে প্রথম ও শেষ নম্বরের মাঝে হাইফেন (-) টাইপ করে সমস্ত নম্বর অনুসন্ধান করা যাবে। যদি একাধিক প্রাইজবন্ড থাকে এবং তা যদি ক্রমানুসারে না হয়, তাহলে কমা (,) দ্বারা আলাদা করে সমস্ত নম্বরগুলো টাইপ করে খুব অল্প সময়ের মধ্যে ফলাফল জানা যাবে।
এছাড়া প্রাইজবন্ডের লটারির ফলাফল জানার জন্য বাংলাদেশ সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ চালু করেছে প্রাইজ বন্ড রেজাল্ট ইনকোয়ারি সফটওয়্যার (পিবিআরআইএস)। এর ওয়েব এড্রেস হলো www.irdbd.online।
এই সফটওয়্যারটি ব্যবহার করে ২টি পদ্ধতিতে ফলাফল অনুসন্ধান করা যাবে। সার্চ বক্সে সরাসরি নম্বর লিখে এবং নম্বর আপলোড করে অনুসন্ধান করা যাবে।
প্রথম পদ্ধতিতে সার্চ বক্সে প্রাইজবন্ডের নম্বরটি (সিরিজ ব্যতীত) বাংলায় অথবা ইংরেজিতে অনুসন্ধান করা যাবে। একসঙ্গে একাধিক নম্বর অনুসন্ধান করলে নম্বরগুলোকে কমা (,) দিয়ে আলাদা করতে হবে। ধারাবাহিক নম্বর অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে প্রথম ও শেষ সংখ্যার মধ্যে হাইফেন (-) ব্যবহার করতে হবে।
দ্বিতীয় পদ্ধতিতে মাইক্রোসফট এক্সেল সিটের কলাম এ প্রাইজবন্ডের নম্বরগুলো (সিরিজ ব্যতীত) ইংরেজিতে লিখে শেষ করতে হবে। তারপর এক্সেল ফাইলটি সরাসরি সফটওয়্যারে আপলোড করতে হবে। অনুসন্ধানের তারিখ শুরু করে পূর্ববর্তী ২ বছরের মধ্যে প্রকাশিত সব ফলাফলের বিপরীতে কোনো মিল পেলে ফলাফলের কপি দেখাবে।
এই সফটওয়্যার থেকে প্রাইজবন্ড ক্রেতারা পুরস্কারের টাকা দাবি ফরম ডাউনলোড করতে পারবেন। সেই সঙ্গে প্রাইজবন্ডের ড্র বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানতে পারবেন।
ক্রেতারা এ সফটওয়্যারে বিনামূল্যে ই-মেইল সাবস্ক্রিপশন করতে পারবেন। এতে সাবস্ক্রিপশনপ্রাপ্ত নাগরিকরা প্রতি ৩ মাস পরপর প্রকাশিত ফলাফল সম্পর্কে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইমেইলে অবহিত হতে পারবেন।
পুরস্কার
প্রাইজবন্ডের প্রথম পুরস্কার বিজয়ীকে ৬ লাখ টাকা প্রদান করা হয়। দ্বিতীয় পুরস্কার বিজয়ীকে তিন লাখ ২৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়। তৃতীয় পুরস্কার বিজয়ী এক লাখ টাকা পান এবং চতুর্থ পুরস্কার বিজয়ী ৫০ হাজার টাকা পান। পঞ্চম পুরস্কার বিজয়ী প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়। প্রাইজবন্ডের পুরস্কারের জন্য ঘোষিত সংখ্যার প্রতিটি সিরিজের সেই সংখ্যার বন্ড একই পুরস্কারের যোগ্য বলে বিবেচিত হয়।
পুরস্কার দাবির সময়সীমা দুই বছর। সাধারণত পুরস্কার দাবির তারিখ থেকে দুই মাসের মধ্যে পুরস্কারের অর্থ পাওয়া যায়। মূলত প্রাপকের সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবে পুরস্কারের অর্থ জমা হয়। তবে আয়কর আইন ২০২৩ এর ১১৮ ধারার নির্দেশনা অনুযায়ী প্রাইজবন্ডে পুরস্কারের অর্থ থেকে ২৫ শতাংশ হারে উৎসে কর কাটার বিধান রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন