প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দেশের শীর্ষস্থানীয় ফকিহ, রাজধানীর শায়খ যাকারিয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও প্রধান মুফতি আল্লামা মিযানুর রহমান সাঈদ মন্তব্য করেছেন যে, কওমি মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থার মৌলিক কিতাবগুলো অপরিবর্তিত রেখে আনুষঙ্গিক কিতাবাদিতে যুগোপযোগী সংস্কার এবং ঈমান-আকিদা সংক্রান্ত নতুন কিতাব যুক্ত করা প্রয়োজন। তিনি আধুনিক আলেমদের রচিত বই সিলেবাসে অন্তর্ভুক্তির ওপরও গুরুত্বারোপ করেছেন, যা বাতিল মতবাদ ও নাস্তিক্যবাদের বুদ্ধিভিত্তিক মোকাবিলায় সহায়ক হবে।
বৃহস্পতিবার এক ভিডিও সাক্ষাৎকারে কওমি সিলেবাসের সংস্কার ও আধুনিকায়ন নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি এ অভিমত ব্যক্ত করেন।
মুফতি মিযানুর রহমান সাঈদ বলেন, “বর্তমান সময়ে নানা ধরনের যুগোপযোগী প্রশ্ন ও জটিলতা সামনে আসছে। আমাদের শিক্ষার্থীরা যেন এসব প্রশ্নের সঠিক ও দাঁতভাঙা জবাব দিতে পারে, সেজন্য ঈমান-আকিদা সংক্রান্ত আরও কিছু কিতাব কওমি সিলেবাসে যুক্ত করা অপরিহার্য।”
তিনি কওমি ধারার ঐতিহ্যবাহী ভিত্তি তুলে ধরে বলেন, “আমাদের কওমি নেসাবের যে মৌলিক কিতাবগুলো রয়েছে, সেগুলোতে হাত দেওয়ার বা পরিবর্তন আনার কোনো সুযোগ নেই। কারণ এগুলোই শিক্ষার্থীদের যোগ্যতা অর্জনের মূল বুনিয়াদ। এগুলোতে পরিবর্তন আনলে প্রকৃত ইলম অর্জন ব্যাহত হবে। প্রতিটি জামাতের মৌলিক কিতাবগুলো যেভাবে আছে, সেভাবেই বহাল রাখা উচিত।”
তবে তিনি সহায়ক ও আনুষঙ্গিক বিষয়ে পর্যালোচনার সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে বলেন, “সিলেবাসের আনুষঙ্গিক কিতাবগুলোতে প্রয়োজনীয় সংস্কার আনা যেতে পারে। গভীর গবেষণার মাধ্যমে সময়ের চাহিদার সাথে সামঞ্জস্য রেখে প্রয়োজনীয় সংযোজন-বিয়োজন করা যেতে পারে।”
বিশেষ করে আকিদা ও সিরাত অধ্যয়নের ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে শাইখুল হাদিস মুফতি মিযানুর রহমান সাঈদ বলেন, বর্তমান সিলেবাসে এই দুই বিষয়ের কিতাব খুবই কম। সমকালীন ফিতনা মোকাবিলায় আকিদার কিতাব বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রিয় নবীজির (সা.) সিরাত চর্চাকে আরো বিস্তৃত করতে পর্যাপ্ত কিতাব পাঠ্যভুক্ত করা দরকার।
একই সঙ্গে হাদিস মুখস্থকরণের ওপর জোর দিয়ে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করেন, “আমাদের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ শিক্ষাজীবন শেষ করে আলেম হয়ে বের হচ্ছে, অথচ অনেকেরই অন্তত একশ’ হাদিসও মুখস্থ থাকে না—এটি অত্যন্ত দুঃখজনক।” এ অবস্থা দূর করতে সিলেবাসে থাকা ছোট ছোট হাদিসের কিতাবগুলো গুরুত্বসহকারে ছাত্রদের হিফজ করানোর পরামর্শ দেন তিনি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন