প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে দু’দিনব্যাপী ‘স্কলারশিপ ফেস্টিভ্যাল : সিজন-১’ অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও স্কলারশিপের সুযোগ সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের ধারণা প্রদান করে। খুলনা ইউনিভার্সিটি রিসার্চ সোসাইটি (কেইউআরএস)-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই ফেস্টিভ্যালের শেষ দিন আজ শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক লিয়াকত আলী মিলনায়তনে ফরমাল সেশন অনুষ্ঠিত হয়।
আজ শনিবার সকালে সাংবাদিক লিয়াকত আলী মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিম।
তিনি উল্লেখ করেন, "বর্তমান বিশ্ব অত্যন্ত প্রতিযোগিতাপূর্ণ। এ প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, দক্ষতা ও যোগ্যতা অর্জনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিসরে নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে। আর এ ক্ষেত্রে পরিশ্রমের কোনো বিকল্প নেই।"
উপাচার্য সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া ও নেদারল্যান্ডস সফরের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে বলেন, "উন্নত দেশগুলোর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষা ও গবেষণার জন্য যে সুযোগ-সুবিধা ও অনুকূল পরিবেশ রয়েছে, তা শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চা ও উদ্ভাবনী সক্ষমতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আমাদেরও সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিশ্বমানের শিক্ষা ও গবেষণার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ত করতে হবে।"
তিনি আরও বলেন, "খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের রিসার্চ পেপার পাবলিকেশনে প্রণোদনা দেয়া হচ্ছে। শিক্ষাজীবনেই একটি ভালো গবেষণাপত্র প্রকাশ করতে পারলে তা শুধু একাডেমিক সক্ষমতার পরিচয় বহন করবে না, ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক স্কলারশিপ অর্জনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।"
বর্তমান সরকারের শিক্ষা ও গবেষণার উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন উপাচার্য, যেমন মডার্ন রিসার্চ ফ্যাসিলিটি, কো-অর্ডিনেটেড রিসার্চ ফান্ডিং, স্মার্ট ক্লাসরুম, স্মার্ট ক্যাম্পাস ও ডিজিটাল রিসার্চ ইনফ্রাস্ট্রাকচার।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নারায়ণগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. নাজমুস সাদাত।
তিনি বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল কাজ জ্ঞান সৃষ্টি করা। স্কলারশিপ ফেস্টিভ্যাল হচ্ছে বিশ্ব দরবারে নিজেকে উপস্থাপনের একটি সুযোগ। এজন্য নিজের লক্ষ্য ও ইচ্ছা, ক্রিটিক্যাল থিংকিং, ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা, রিসার্চ রাইটিংয়ের সক্ষমতা এবং বৈজ্ঞানিক বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান থাকা প্রয়োজন।" তিনি আরও বলেন, "সবারই একটি লক্ষ্য থাকা উচিত যে, বিদেশে উচ্চ শিক্ষা শেষে দেশে ফিরে এসে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখা।"
বিশেষ অতিথি হিসেবে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. হারুনর রশীদ খান বলেন, "রিসার্চ হচ্ছে একটি লাইফটাইম জার্নি। এই ট্রেনে উঠতে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সুযোগ-সুবিধা পাওয়া। আর স্কলারশিপ হচ্ছে সেই সুযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। স্কলারশিপ জীবনের জন্য সম্মানের বিষয়। তাই এর জন্য শিক্ষার্থীদের নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে।"
তিনি বলেন, "একটা সময় স্কলারশিপের বিষয়ে তথ্য জানাও কঠিন ছিল। কিন্তু বর্তমানে তথ্য-প্রযুক্তির উৎকর্ষের কারণে প্রয়োজনীয় তথ্য হাতের মুঠোয় চলে এসেছে। শিক্ষার্থীদের এ সুযোগ কাজে লাগাতে হবে।"
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বিষয়ক পরিচালক প্রফেসর ড. মো. সালাউদ্দীন, কেইউআরএস-এর উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মো. মতিউল ইসলাম ও সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা মো. ইয়াছিন আহমেদ।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সভাপতি চয়ন বক্সী।
দ্বিতীয় দিনের ফরমাল সেশন শেষে ‘ডিএএডি স্কলারশিপ’ এর আবেদন নির্দেশিকা ও প্রস্তুতি কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র বিষয়ক পরিচালক ও বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ নাজমুস সাদাত। এছাড়া ‘এমইএক্সটি স্কলারশিপ’ নিয়ে আবেদন নির্দেশিকা ও প্রস্তুতি কৌশল তুলে ধরেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সয়েল, ওয়াটার এন্ড এনভায়রনমেন্ট ডিসিপ্লিনের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. তারেক বিন সালাম।
দুই দিনব্যাপী ফেস্টিভ্যালে যুক্তরাজ্য, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, জাপান ও ইউরোপের বিভিন্ন স্কলারশিপ সম্পর্কে আবেদন প্রক্রিয়া, প্রস্তুতি ও প্রয়োজনীয় কৌশল নিয়ে আলোচনা করা হয়। ফেস্টিভ্যালে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন