প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিশ্বকাপে ফুটবল বলতে লাতিন আমেরিকা ও ইউরোপের দলের কর্তৃত্বের কথা মনে পড়ে। তবে দক্ষিণ এশিয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয় ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, জার্মানি ও পর্তুগাল নিয়ে। বাংলাদেশেও এর ব্যতিক্রম কিছু নয়, বিশ্বকাপ আসলে এই চার দেশের পতাকা সর্বাধিক উড়তে দেখা যায়।
ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা সবচেয়ে বেশি আলোচিত হলেও ২০২৬ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে ইউরোপের দেশ পর্তুগাল। গত আসরের ফাইনালের মঞ্চে তারা না পৌঁছালেও এবার আশা বর্ণনা করছে ভক্তরা।
এদিকে, জার্সি ও পতাকার বাজারেও রোনালদো-ভিতিনহারা সম্প্রতি আলো ছড়াচ্ছেন। হাউসস্টোনে নিজেদের প্রথম ম্যাচে দুর্বল ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ড্র করলেও বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার ব্যস্ততম গুলিস্তান মার্কেটের পর্তুগালের জার্সি ও পতাকার চাহিদা চরমে রয়েছে।
গতকাল শুক্রবার (১৯ জুন) ছুটির দিনে গুলিস্তান মার্কেটের দৃশ্য পরিদর্শন করে এ চিত্র দেখা গেছে।
মার্কেটে জার্সির পাশাপাশি পতাকাও বিক্রির জন্য খুবই চাহিদাসম্পন্ন। পর্তুগালের ৫ ফুট দৈর্ঘ্যের চায়না প্রিন্টের পতাকা বিক্রি হচ্ছে ২৫০-২০০ টাকায় এবং দেশীয় পতাকা ১৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। অন্য দেশের পতাকায় ছাড় থাকলেও পর্তুগালের ক্ষেত্রে বিক্রেতারা কিছুতেই দাম কমাতে প্রস্তুত নন।
সাব্বির আহমেদ নামের এক রোনালদো ভক্ত আরটিভি'কে জানান, ‘ছুটির দিনে একটি পতাকা কেনার জন্য গুলিস্তানে এসেছিলাম। তবে দোকানদাররা দাম কমাচ্ছে না। ২০০ টাকার নিচে নামছে না, একদরে বিক্রি করছে।’
পতাকা ব্যবসায়ী গফুর আহমেদ বলেন, আগে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার চাহিদা ছিল বেশি। কিন্তু বর্তমানে পর্তুগালের পতাকা বেশি বিক্রি হচ্ছে। চায়না প্রিন্টের ৫ ফুটের পতাকা ২০০ টাকায় (ফিক্সড) এবং এর চেয়ে বড়টি ৮০০ টাকায় বিক্রি করছি। এর থেকে কম রাখার সুযোগ নেই।
অন্যদিকে ফুটপাতেও জার্সির বাজার দৃশ্যমান। বিভিন্ন দেশের জার্সির বেশ কিছুর এডিশন পাওয়া যাচ্ছে। ক্রেতারা নিজেদের চাহিদা অনুযায়ী দামের উপর ভিত্তি করে জার্সি কিনছেন নিজের এবং প্রিয়জনের জন্য। কোয়ালিটির ওপর ভিত্তি করে ১৫০-৭০০ টাকায় জার্সি বিক্রি হচ্ছে। উন্নত মানের বা প্লেয়ার এডিশন কিনতে মার্কেটের দোকানে ভিড় করছেন ফুটবল প্রেমীরা।
কয়েকটি দোকানে পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, একদরের দোকানে প্লেয়ার এডিশন জার্সি ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে দামদরের সুবিধা থাকলে ১৬০০-১৮০০ টাকা চাওয়া হচ্ছে। কিন্তু এখানেও চাহিদার শীর্ষে রয়েছে পর্তুগালের জার্সি।
ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, জার্মানি, স্পেন, ইংল্যান্ড, মরক্কোসহ অন্যান্য আলোচিত দলগুলোর জার্সি দোকানে থাকলেও পর্তুগালের জার্সি কয়েকটি দোকানে নেই। তরুণ ব্যবসায়ী রবিন জানান, আমাদের এখানে পর্তুগালের জার্সি সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে, তাই স্টক শেষ হয়ে গেছে। প্লেয়ার এডিশন জার্সিগুলো বিদেশ থেকে আসে এবং আমরা আবার নতুন অর্ডার করেছি, কাল-পরশু পাওয়া যাবে।
সুতরাং বোঝা যাচ্ছে, পর্তুগাল নিয়ে বাংলাদেশের মানুষের আত্মবিশ্বাস এখনও দৃঢ় রয়েছে। প্রথম ম্যাচের হার সত্ত্বেও ভক্তরা আশা করছেন পরবর্তী দুই ম্যাচে রোনালদোরা ঘুরে দাঁড়াবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এবারের বিশ্বকাপে পর্তুগাল যোগ্য দাবিদার। বিশ্বসেরা মিডফিল্ড ও রোনালদোর মতো কিংবদন্তি ফরোয়ার্ডকে নিয়ে স্কোয়াড প্রতিপক্ষকে চাপ দেবে। কিন্তু কঙ্গোর বিপক্ষে বাজে শুরুর পর কিছুটা তা এলোমেলো হয়েছে। বাকি দুই ম্যাচে প্রত্যাশা করা যায় কেমন হবে।
ফুটবল বিশ্বকাপে পর্তুগালের সর্বোচ্চ সাফল্য হলো তৃতীয় স্থান অর্জন করা। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, লুইস ফিগো অথবা ইউসেবিওয়ের মতো কিংবদন্তি ফুটবলার উপহার দিয়েও পর্তুগাল কখনো বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছাতে পারেনি।
ইতিহাসে তারা মাত্র দুইবার সেমিফাইনালে যেতে পেরেছে। নিচে পর্তুগালের বিশ্বকাপের সেরা দুটি পারফরম্যান্সের বিবরণ দেওয়া হলো—
পর্তুগালের ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সাফল্য আসে তাদের প্রথম বিশ্বকাপ অংশগ্রহণে। কিংবদন্তি স্ট্রাইকার ইউসেবিও সেই সময় সবাইকে চমকে দিয়েছিল।
কোয়ার্টার ফাইনাল: উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ৩–০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়া পর্তুগাল ইউসেবিওর অবিশ্বাস্য ৪ গোলের ওপর ভর করে ৫–৩ ব্যবধানে ম্যাচ জিতে। এটি বিশ্বকাপের ইতিহাসের অন্যতম সেরা কামব্যাক।
সেমিফাইনাল: স্বাগতিক ও সেবারের চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডের কাছে ২–১ ব্যবধানে হেরে বিদায় নিতে হয়।
তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ: সোভিয়েত ইউনিয়নকে ২–১ ব্যবধানে হারিয়ে টুর্নামেন্টে তৃতীয় স্থান অর্জন
করেছিল। ইউসেবিও ওইবার ৯ গোল করে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা (গোল্ডেন বুট) হন।
পর্তুগালের সোনালী প্রজন্মের লুইস ফিগো, ডেকো এবং তরুণ ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর উপর ভর করে ৪০ বছর পর তারা আবার সেমিফাইনালে উঠেছিল।
নকআউট পর্বে রাউন্ড অব ১৬-এ নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে বিখ্যাত 'ব্যাটল অব নুরেমবার্গ' (যেখানে রেকর্ড সংখ্যক কার্ড দেখানো হয়েছিল) ম্যাচটি ১–০ গোলে জিতে। পরে কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডকে টাইব্রেকারে হারিয়ে সেমিফাইনালে ওঠে।
সেমিফাইনালে জিনেদিন জিদানের ফ্রান্সের কাছে ১–০ গোলে হেরে যায়।
তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে স্বাগতিক জার্মানির কাছে ৩–১ ব্যবধানে হেরে চতুর্থ স্থানে টুর্নামেন্ট শেষ করে।
সংক্ষেপে, পর্তুগালের বিশ্বকাপ ইতিহাস।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন