প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
১৯৭৩ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের পর, আলজেরিয়া প্রথমবারের মতো দেশের সীমানা অতিক্রম করে বিদেশে সৈন্য পাঠানোর একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। নাইজারে নিরাপত্তা ঝুঁকি বৃদ্ধি এবং নিজেদের কৌশলগত অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষার লক্ষ্যে, আলজেরিয়ার সংসদ এই নতুন সামরিক মোতায়েনের পক্ষে অনুমোদন প্রদান করেছে। তবে, কখন এবং কতজন সৈন্য মোতায়েন করা হবে, সে সম্পর্কে কোনো ঘোষণা করা হয়নি।
রবিবার (২৫ অক্টোবর) আলজেরিয়ার সংসদের উচ্চকক্ষে এ বিষয়ে একটি জরুরি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। বিবিসির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে, ১৭৪ জন সিনেটরের মধ্যে ১৪৮ জন সেনা পাঠানোর পক্ষে ভোট প্রদান করেন। পরবর্তীতে সংসদের নিম্নকক্ষও প্রস্তাবটিকে সমর্থন জানায়। এর ফলে ২০২০ সালের সাংবিধানিক বিধানের প্রথম প্রয়োগ ঘটেছে, যা বিদেশে সামরিক বাহিনী পাঠানোর অনুমতি দেয়। এর মাধ্যমে আলজেরিয়ার দীর্ঘদিনের পররাষ্ট্রনীতিতে বিদেশে সৈন্য না পাঠানোর ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে।
নাইজারের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর আলজেরিয়া সফরের পর এই পদক্ষেপটি নেওয়া হয়েছে। নাইজার আল-কায়েদা এবং ইসলামিক স্টেটের (আইএস) মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সহিংসতা থেকে নিজেদের সুরক্ষিত করার জন্য আলজেরিয়ার সাহায্য চেয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সেনা মোতায়েনের পেছনে অর্থনৈতিক স্বার্থের একটি বড় ভূমিকা রয়েছে। নাইজারের মধ্য দিয়ে নাইজেরিয়ার গ্যাস আলজেরিয়ায় নিয়ে আসার জন্য একটি মেগা পাইপলাইন প্রকল্প রয়েছে। এছাড়াও, লিবিয়া সীমান্তের কাছে উত্তর নাইজারের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনাগুলো সুরক্ষার জন্য এই সৈন্যরা নিয়োজিত থাকবে। সম্প্রতি, আলজেরিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি কোম্পানি ‘সোনাট্রাক’ নাইজারের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয়ের সাথে তেল অনুসন্ধানের একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, সংশ্লিষ্ট কূপগুলোতে ২৬ কোটি ৮০ লাখ ব্যারেল তেল মজুদ রয়েছে।
ভোটগ্রহণের পর, আলজেরীয় সিনেটর বেলকাসেম বুলঘিতি সংবাদমাধ্যমকে স্পষ্ট করে বলেন, ‘আমরা নাইজারে যুদ্ধ করতে আমাদের সৈন্যদের পাঠাচ্ছি না, বরং দেশের অর্থনৈতিক অবকাঠামো সুরক্ষিত করার একটি মিশনে পাঠাচ্ছি।’ তবে, এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কতজন সৈন্য পাঠানো হবে বা কবে নাগাদ তারা দেশ ছাড়বেন, সে বিষয়ে কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
উল্লেখযোগ্য যে, বিগত বছরগুলোতে আলজেরিয়া ও নাইজারের মধ্যে কিছুটা টানাপোড়েন ছিল। ২০২৩ সালে নাইজারে সংঘটিত সামরিক অভ্যুত্থানের নিন্দা জানিয়েছিল আলজেরিয়া। এরপর ২০২৫ সালে আলজেরীয় সীমান্তে মালির একটি ড্রোন ভূপাতিত করার ঘটনায় দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে বড় ধরনের ফাটল ধরে এবং নাইজার আলজেরিয়া থেকে তাদের রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করে।
তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দুই দেশের মধ্যে উল্লেখযোগ্য বরফ গলেছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নাইজারের সেনাশাসক আবদুরাহমানে চিয়ানি আলজেরিয়া সফর করেন এবং গত আগস্টের শেষের দিকে আলজেরিয়ার রাষ্ট্রপতি আবদেলমাজিদ তেব্বুন নাইজারে অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা দমনে যুদ্ধবিমান ও সামরিক হেলিকপ্টার পাঠিয়ে দেশটির অন্তর্বর্তী সরকারকে সহযোগিতা করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন