প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের কারাবাসের অবস্থার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের নির্যাতনবিষয়ক বিশেষ র্যাপোর্টিয়ার অ্যালিস জিল এডওয়ার্ডস। তিনি পাকিস্তানের ইসলামাবাদ সরকারের প্রতি ইমরান খানের সঙ্গে মানবিক আচরণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সময়ে, ইমরান খানের রাজনৈতিক দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দেশের বিভিন্ন এলাকায় তার মুক্তির দাবিতে আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ খবরটি প্রকাশ করেছে দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্টে অ্যালিস জিল এডওয়ার্ডস জানান, ইমরান খান গত ৩৩ মাস ধরে প্রায় পুরো সময় একাকী অবস্থায় একটি ছোট, জানালাবিহীন কক্ষে বন্দি রয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, তার কক্ষে সার্বক্ষণিক সিসিটিভি নজরদারি রয়েছে। অভিযোগ করা হয়েছে যে, অনেক সময় টানা দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ইমরান খানকে ব্যায়াম বা অর্থবহ মানবিক যোগাযোগের সুযোগ ছাড়াই রাখা হচ্ছে।
এডওয়ার্ডস আরও বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতি জাতিসংঘের ‘ম্যানডেলা রুলস’-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘনের শামিল হতে পারে। তিনি পাকিস্তান সরকারের প্রতি ইমরানের জন্য মানবিক কারাবাসের পরিবেশ পুনর্বহালের জন্য আহ্বান জানান।
জাতিসংঘের ‘ম্যানডেলা রুলস’ অনুযায়ী, কোনো বন্দিকে দিনে ২২ ঘণ্টা বা তার বেশি সময় অর্থবহ মানবিক যোগাযোগ ছাড়া একাকী রাখা হলে সেটি একাকী কারাবাস হিসেবে বিবেচিত হবে। একই নীতিমালায় টানা ১৫ দিনের বেশি একাকী কারাবাস নিষিদ্ধ উল্লেখ করা হয়েছে, কারণ এটি নির্যাতন বা নিষ্ঠুর, অমানবিক এবং অবমাননাকর আচরণের পর্যায়ে পড়ে।
লিংকডইনে প্রকাশিত একটি বিবৃতিতে এডওয়ার্ডস আরও জানান, ইমরান খান প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন, যা তাকে উদ্বিগ্ন করেছে। তিনি বলেন, ২০১৩ সালের একটি দুর্ঘটনায় মেরুদণ্ডে পাওয়া আঘাত এবং ২০২২ সালের নভেম্বরে হত্যাচেষ্টায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার ক্ষতির যথাযথ চিকিৎসা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এদিকে, ইমরান খানের যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সংক্রান্ত উপদেষ্টা সৈয়দ জুলফিকার বুখারি দাবি করেছেন যে, গত আট মাসেরও বেশি সময় ধরে ইমরান খানকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রাখা হয়েছে এবং কাউকে তার সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি দেওয়া হয়নি। তিনি আরো বলেন, ইমরান খান ও তার স্ত্রীর ন্যায্য বিচার এবং বন্দি হিসেবে মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তাদের বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
এদিকে, ইমরান খানের কারাবাসের তৃতীয় বছরে পদার্পণের উপলক্ষে আগামী ৫ আগস্ট আদিয়ালা কারাগারের উদ্দেশে পদযাত্রার কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে পিটিআই। এই কর্মসূচির সমর্থনে খাইবার পাখতুনখোয়ার বিভিন্ন শহরে প্রচারণা চালাচ্ছেন ইমরানের বোন আলিমা খান।
তবে, লাহোরে এই কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি পাঞ্জাব সরকার। এরপর আদালতের মাধ্যমে অনুমতি নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে দলটি। আয়োজকরা দাবি করেছেন যে ইমরান খানের মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
এক সমাবেশে আলিমা খান অভিযোগ করেছেন যে, দেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার কারণে তার ভাইকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে এবং তিনি মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।
২০২২ সালে অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতা হারানোর পর থেকে ইমরান খানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য ফাঁস এবং সন্ত্রাসবাদ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক মামলা হয়েছে। তবে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করে সেগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছেন।
ইমরানের পরিবার ও পিটিআই অভিযোগ করেছে যে, কারাগারে তার দৃষ্টিশক্তির অবনতি হয়েছে, এমনকি এক চোখে আংশিক দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন এবং তিনি প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন না। যদিও পাকিস্তান সরকার এসব অভিযোগ নাকচ করে বলেছে, ইমরান খানের সঙ্গে কোনো ধরনের দুর্ব্যবহার করা হচ্ছে না।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন