প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মানবপাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে : প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী
প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, মানবপাচার ও অবৈধ অভিবাসনের মাধ্যমে মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। তিনি উল্লেখ করেন, মানবপাচারকারী ও দালালচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সুনামগঞ্জ থেকে লিবিয়া হয়ে গ্রিসের উদ্দেশ্যে যাত্রা করতে গিয়ে নিহত ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের অবৈধ পথে বিদেশ যেতে উদ্বুদ্ধকারী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন মন্ত্রী।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ঝুঁকিপূর্ণ ও অবৈধ পথে বিদেশ গমন প্রতিরোধ এবং নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, সাম্প্রতিক মর্মান্তিক ঘটনার সঙ্গে জড়িত সব দালালচক্র এবং মানবপাচারকারীদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। অবৈধ পথে বিদেশ যাওয়ার প্রবণতা বন্ধে প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সচেতন হতে হবে।
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে কর্মী পাঠানোর বিষয়ে আরিফুল হক চৌধুরী জানান, দ্রুতই নতুন করে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো শুরু হবে। এ ক্ষেত্রে সিলেট অঞ্চল, বিশেষ করে সুনামগঞ্জের কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এর ফলে এ অঞ্চলের তরুণেরা দালালের খপ্পরে না পড়ে সরকারি নিয়মে নিরাপদে বিদেশ যাওয়ার সুযোগ পাবেন।
দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার লক্ষ্যে সুনামগঞ্জের প্রতিটি উপজেলায় একটি করে আধুনিক কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (ট্রেনিং সেন্টার) স্থাপনের ঘোষণা দেন মন্ত্রী।
সভায় প্রজেক্টরের মাধ্যমে সমুদ্রপথে অনিয়মিত অভিবাসনসংক্রান্ত তথ্য উপস্থাপন করা হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৩ ও ২০২৪ সালে সমুদ্রপথে অনিয়মিতভাবে ইতালিতে যাওয়া অভিবাসীদের মধ্যে বাংলাদেশিরা শীর্ষে ছিলেন। ২০২৩ সালে ইতালিতে পৌঁছানো মোট অনিয়মিত অভিবাসীদের প্রায় ৩১ শতাংশ বাংলাদেশি নাগরিক ছিলেন।
সভায় উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, সমুদ্রপথে ইতালিতে পৌঁছানো বাংলাদেশির সংখ্যা ২০২১ সালে প্রায় ১৫ হাজার ১৮৮, ২০২২ সালে ১২ হাজার ৭৭৫, ২০২৩ সালে প্রায় ১৫ হাজার এবং ২০২৪ সালে প্রায় ২০ হাজার ছিল।
সভায় জানানো হয়, বাংলাদেশ থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে অনিয়মিতভাবে বিদেশে যাওয়া ব্যক্তিদের প্রায় সবাই প্রথমে লিবিয়াকে ট্রানজিট ও রুট হিসেবে ব্যবহার করেন।
বাংলাদেশে অবৈধ পথে বিদেশ যাওয়ার প্রবণতা বেশি এমন জেলার মধ্যে সুনামগঞ্জ, মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও মাগুরার নাম উল্লেখ করা হয়।
সভায় আরো বক্তব্য দেন সুনামগঞ্জ-৫ আসনের এমপি কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন, সুনামগঞ্জ-৩ আসনের এমপি কয়ছর আহমদ, সুনামগঞ্জ-৪ আসনের এমপি নুরুল ইসলাম, সুনামগঞ্জ-১ আসনের এমপি কামরুজ্জামান কামরুল, জেলা পরিষদ প্রশাসক মিজানুর রহমান চৌধুরী, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমানসহ প্রমুখ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন