প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি আবদুল মালেক আজ জুমার খুতবা পূর্ব বয়ানে উল্লেখ করেন, আল্লাহ নবুওয়াতের দরজা বন্ধ করে দিয়েছেন আখেরি নবী (সা.) এর আগমনের মাধ্যমে। তিনি বলেন, বিশ্ব নবী (সা.) হলেন সর্বশেষ নবী। আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য আমাদের নবীর ওপর ঈমান আনতে হবে। আল্লাহ সর্বশেষ কিতাব আল কুরআন রাসূল (সা.) এর মাধ্যমে নাজিল করেছেন। পবিত্র কুরআন থেকে যারা বঞ্চিত হবে, তাদের জন্য জাহান্নাম থেকে মুক্তির কোনো পথ নেই। কুরআনের ওপর যারা ঈমান এনেছে, তারাই হেদায়েতপ্রাপ্ত। কুরআনকে অস্বীকারকারীদের ঠিকানা হবে জাহান্নাম। কুরআন থেকে বিচ্যুত হয়ে হেদায়েতের রাস্তা পাওয়া সম্ভব নয়। কুরআনের শরীয়ত আখেরি শরীয়ত। বিকৃত শরীয়তের দিকে যাওয়া যাবে না। আল্লাহ আখেরি শরীয়তকে অনুসরণ করার নির্দেশ দিয়েছেন। রহিত ও বিকৃত শরীয়ত অনুসরণ করলে ঈমান থাকবে না।
খতিব আরও বলেন, পশ্চিমা সংস্কৃতি জাহেলিয়াত পূর্ণ সংস্কৃতি। কুরআন ছেড়ে যারা জাহেলি সংস্কৃতি অনুসরণ করবে, তাদের ঠিকানা হবে জাহান্নাম। তিনি বলেন, এলমে অহীর জ্ঞান থেকে বঞ্চিত ব্যক্তিরাই পথভ্রষ্ট হয়। খতিব বলেন, আল্লাহ ওয়াদা করেছেন, "কুরআন আমি নাজিল করেছি, এর হেফাজত ও সংরক্ষণ আমিই করবো।" ইসলামের শরীয়ত কিয়ামত পর্যন্ত জারি থাকবে। ইসলামের শরীয়তকে পরিবর্তনের কোনো অবকাশ নেই। পবিত্র কুরআন কিয়ামত পর্যন্ত অক্ষত থাকবে। কুরআনের কোনো নির্দেশনাকে পরিবর্তনের চেষ্টা করলে তা জ্বলে পুড়ে ছারখার হয়ে যাবে।
ঢাকা মুগদা ব্যাংক কলোনি রসুলবাগ জামে মসজিদের খতিব মুফতি রাহমাতুল্লাহ তাক্বী বিন আব্দুল গনি আজ জুমার খুতবা-পূর্ব বয়ানে বলেন, আল্লাহ তাআলা মানুষকে সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে তৈরি করেছেন। তবে মানব ইতিহাসের শুরু থেকেই মানুষের সবচেয়ে বড় শত্রু হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে ইবলিস শয়তান। শয়তানের প্রধান লক্ষ্য হলো মানুষকে সরল পথ থেকে বিচ্যুত করা, শরীয়তের বিধি-বিধানের ব্যাপারে অনীহা তৈরি করা, প্ররোচনার মাধ্যমে জাহান্নামের অধিবাসী বানানো এবং শরীয়তের বিরোধিতার জন্য অন্তরে ওয়াসওয়াসা (কুমন্ত্রণা) দেওয়া।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা সতর্ক করে বলেছেন, "নিশ্চয়ই শয়তান তোমাদের শত্রু, তাই তাকে শত্রু হিসেবেই গ্রহণ করো। সে তো তার দলকে কেবল এজন্যই ডাকে, যেন তারা প্রজ্বলিত আগুনের অধিবাসী হয়।" (সূরা ফাতির: ৬) শয়তান একবারে মানুষকে বড় পাপে লিপ্ত করে না; বরং চতুর উপায়ে অন্তরে কুমন্ত্রণা দেয় এবং পাপকাজকে আকর্ষণীয় করে তোলে। সে আল্লাহর কাছে চ্যালেঞ্জ করে বলেছিল, সে মানুষকে সব দিক থেকে আক্রমণ করে পথভ্রষ্ট করবে: "সে বলল, ‘আপনি যে আমাকে পথভ্রষ্ট করলেন, তার কারণে আমি অবশ্যই আপনার সরল পথে তাদের জন্য ওত পেতে বসে থাকব।’" (সূরা আল-আ’রাফ: ১৬) কিছুদিন পর পর আমরা দেখি, শয়তানের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করার জন্য শয়তানের প্ররোচনায় কিছু মানুষের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের শরীয়তবিরোধী কর্মকাণ্ড মুসলমানদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। বর্তমান সময়ে শরীয়তবিরোধী ‘হেবা’ (দান) আইনকে মুসলমানদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে, যা স্পষ্ট কুরআন ও হাদিসের বিধানের পরিপন্থী। এ ধরনের কোনো বিষয় মুসলমানদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া সমীচীন নয় এবং সচেতন মুসলিম জনগণ কখনো তা মেনে নেবে না। দেশের দায়িত্বশীলদের উচিত মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের ধর্মীয় অনুভূতি ও চাহিদা বুঝে সে অনুযায়ী নিয়ম-কানুন প্রণয়ন করা। তা না হলে এর সাথে জড়িত সকলেই শয়তান ও তাগুতের এজেন্ট হিসেবে সাব্যস্ত হবে, নিজেদের ধ্বংস ডেকে আনবে এবং পর্যায়ক্রমে ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবে।
তিনি বলেন, শয়তানের এই প্ররোচনা মানুষের জীবনের রগে রগে মিশে যায়। হাদিস শরীফে রসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "নিশ্চয়ই শয়তান মানুষের রগে রগে রক্তের মতো প্রবাহিত হয়।" (সহিহ বুখারি) বর্তমান সময়ে শয়তানি চক্রান্তের অন্যতম বড় প্রকাশ হলো সমাজের নানামুখী ফিতনা, দ্বীনি ইলমের অভাব এবং সৃষ্টির স্বাভাবিক সৌন্দর্য বিকৃতি। শেষ জামানায় দ্বীনি অজ্ঞতা ও পাপাচারের সয়লাব সম্পর্কে রসূলুল্লাহ (সা.) সতর্ক করে বলেছেন, "কিয়ামতের কিছু নিদর্শন হলো: দ্বীনি ইলম উঠে যাবে, মূর্খতা ছড়িয়ে পড়বে, মদ্যপান বৃদ্ধি পাবে এবং ব্যভিচার প্রকাশ্যে ছড়িয়ে পড়বে।" (সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম) এমন নাজুক পরিস্থিতিতে শয়তানের প্রবঞ্চনা ও ফিতনা থেকে বেঁচে থাকার মূল উপায় হলো ইখলাসের সাথে আল্লাহর জিকির ও তাঁর আশ্রয় প্রার্থনা করা। আল্লাহ তাআলা বলেন, "শয়তান তাদের ওপর প্রভাব বিস্তার করেছে এবং তাদেরকে আল্লাহর জিকির ভুলিয়ে দিয়েছে। তারা শয়তানের দল। জেনে রাখো! শয়তানের দলই চূড়ান্ত ক্ষতিগ্রস্ত।" (সূরা আল-মুজাদালাহ: ১৯) আর সালাতে বা দৈনন্দিন জীবনে শয়তানের কুমন্ত্রণা অনুভব করলে নবীজি (সা.) আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতে এবং ইখলাসের সাথে তাওহীদের কালিমা জপতে শিক্ষা দিয়েছেন। আসুন, আমরা কুরআনের হেদায়েত ও সুন্নাহর আলোয় নিজেদের জীবন সাজাই এবং শয়তানের যাবতীয় চক্রান্ত থেকে আল্লাহর দরবারে হিফাজত প্রার্থনা করি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন