প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পারমাণবিক অস্ত্র নীতিতে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটিয়ে ভারত প্রথমবারের মতো ১২টি পারমাণবিক ওয়ারহেড ‘মোতায়েন’ করেছে। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এসআইপিআরআই) সর্বশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ হয়েছে।
বিশ্বের শীর্ষ অস্ত্র-নজরদারি সংস্থা এসআইপিআরআই তাদের সর্বশেষ প্রতিবেদনে নয়াদিল্লির কয়েক দশকের নীতির ব্যাপক বিচ্যুতির কথা জানায়, যেখানে পারমাণবিক ওয়ারহেড এবং সরবরাহ ব্যবস্থা আলাদাভাবে সংরক্ষিত ছিল।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয় যে এবারই প্রথম ভারতের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারকে কেবল মজুত বহন করে না, বরং ‘কার্যক্ষমভাবে মোতায়েনকৃত’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে।
এসআইপিআরআই বলছে, প্রস্তুত অবস্থায় রাখা পারমাণবিক অস্ত্রকে ক্ষেপণাস্ত্র সাইলো এবং নতুন পারমাণবিক সাবমেরিনে মোতায়েনের মাধ্যমে ভারতের সামরিক প্রস্তুতির মাত্রা বৃদ্ধির একটি ইঙ্গিত প্রকাশ করছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে নতুন করে মোতায়েন করা ১২টি ওয়ারহেড একটি নতুন উদাহরণ, যেখানে ভারত পারমাণবিক ওয়ারহেডকে সরাসরি ডেলিভারি সিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত করেছে অথবা সক্রিয় সামরিক ঘাঁটিতে রেখেছে।
এসআইপিআরআই-এর হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ভারতের পারমাণবিক অস্ত্র সংখ্যা প্রায় ১৯০-এ পৌঁছেছে, যা আগের বছরের তুলনায় সামান্য বেশি। এসব অস্ত্র বিমান, স্থলভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী পারমাণবিক সাবমেরিনের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত, যা ভারতের ক্রমবর্ধমান ‘নিউক্লিয়ার ট্রায়াড’-এর অংশ।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে ধারণা করা হতো ভারত শান্তিকালীন সময়ে পারমাণবিক ওয়ারহেড ও উৎক্ষেপণ ব্যবস্থাকে আলাদা করে রাখে। তবে ক্ষেপণাস্ত্রকে ক্যানিস্টারে সংরক্ষণ এবং সমুদ্রভিত্তিক প্রতিরোধমূলক টহল পরিচালনার দেশটির সাম্প্রতিক পদক্ষেপটি ইঙ্গিত করে যে ভারত কিছু ওয়ারহেড শান্তিকালেই উৎক্ষেপণ ব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত রাখার দিকে এগোতে পারে।
তবে ভারত এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে তার ‘নো ফার্স্ট ইউজ’ নীতি বজায় রেখেছে। এই নীতির আওতায় তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে তারা কোনো সংঘর্ষের সময় প্রথমে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করবে না। শুধু ভারতের ভূখণ্ড বা বিশ্বের যেকোনো স্থানে অবস্থানরত ভারতীয় বাহিনীর ওপর পারমাণবিক হামলা হলে তার জবাব হিসেবে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করা হবে।
ভারত দীর্ঘদিন ধরে বলছে, তাদের পারমাণবিক সক্ষমতার উদ্দেশ্য অস্ত্র প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়া নয়; বরং সম্ভাব্য प्रतিপক্ষকে নিরুৎসাহিত করার জন্য একটি সীমিত কিন্তু কার্যকর প্রতিরোধক্ষমতা বজায় রাখা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন