প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ফার্স্টলেডি মেলানিয়া ট্রাম্প বুধবার ওয়াশিংটনের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং ও তার স্ত্রী পেং লিয়ুয়ানকে স্বাগত জানান। শির এই সফরটি ট্রাম্পের আমন্ত্রণে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরের অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
এএনআই নিউজের তথ্য অনুযায়ী, শির সফরের প্রধান কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক। এটি ছয় মাসেরও কম সময়ের মধ্যে দুই নেতার দ্বিতীয় বৈঠক। বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য, প্রযুক্তি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ এবং দুই দেশের সামগ্রিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হওয়ার আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে, দুই দেশের চলমান শুল্ক যুদ্ধবিরতি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে। গত অক্টোবরে বুসান শীর্ষ বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন এই যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল। আগামী নভেম্বরে এর মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। তাই যুদ্ধবিরতি আরো বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। এছাড়া, চিপ রপ্তানির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া বর্তমান অনুমতিপত্র নিয়েও আলোচনা হতে পারে। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এসব বিষয়ে বৈঠকের আগে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের মধ্যে বিরল মাটির খনিজের সরবরাহ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ বিদ্যমান। এই খনিজগুলো প্রযুক্তি এবং বিভিন্ন শিল্পপণ্যের উৎপাদনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিরল মাটির খনিজের সরবরাহের ওপর চীনের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ তুলে নেওয়ার বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র কোনো বড় ধরনের ছাড় দেওয়ার পরিকল্পনা করছে না। তবে দুই দেশের অর্থনীতির জন্য লাভজনক হতে পারে এমন কিছু ‘অকৌশলগত’ পণ্যের ওপর শুল্ক কমানোর বিষয়ে আলোচনা চলছে। কর্মকর্তাদের মতে, এ ধরনের পণ্যের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়েও দুই নেতার মধ্যে আলোচনা হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের মধ্যে নতুন এআই মডেল আগেভাগে দেখানোর বিষয়ে কিছু প্রস্তাব রয়েছে। চীনের উন্মুক্ত উৎসের এআই ব্যবস্থাগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নজরদারি বাড়ানোর বিষয়টিও আলোচনায় আসতে পারে। তবে শি এবং ট্রাম্পের বৈঠকের আগে মার্কিন কর্মকর্তারা এ বিষয়ে ওয়াশিংটনের নির্দিষ্ট অবস্থান প্রকাশ করেননি। যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের আরো কয়েকটি বিরোধপূর্ণ বিষয়ও বৈঠকে উঠে আসতে পারে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মেক্সিকোর মাদক চক্রগুলোর কাছে ফেন্টানিল তৈরির উপকরণ সরবরাহ বন্ধ করার জন্য চীনের ওপর চাপ অব্যাহত রেখেছে ওয়াশিংটন। এছাড়া, চীনের কারাগারে আটক মার্কিন নাগরিকদের বিষয়টিও ট্রাম্প আলোচনা করতে পারেন। আগের বৈঠকগুলোতেও তিনি এ বিষয়টি উত্থাপন করেছিলেন।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শির যুক্তরাষ্ট্র সফরের আগে গত মে মাসে ট্রাম্প নিজেই চীন সফর করেছিলেন। সে সময় বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে শি চিনপিং ট্রাম্পকে স্বাগত জানান। ওই সফরে দুই নেতা যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্ককে ‘গঠনমূলক, কৌশলগত ও স্থিতিশীল’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। এবার শি চিনপিংয়ের যুক্তরাষ্ট্র সফরেও ট্রাম্প তাকে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্বাগত জানাচ্ছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন