প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নারায়ণগঞ্জে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বিএনপির দুই নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) প্রদান করা হয়েছে। তাদেরকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু সই করা নোটিশে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
শোকজপ্রাপ্ত নেতাদের মধ্যে রয়েছেন, নারায়ণগঞ্জ সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এইচ এম আনোয়ার প্রধান এবং মহানগর বিএনপির ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি অ্যাডভোকেট শেখ আঞ্জুম আহমেদ রিফাত।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ৬ অক্টোবর দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির দ্বিতীয় তলায় সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সরকার হুমায়ুন কবিরের কক্ষে প্রবেশ করেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। এ সময় সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এইচ এম আনোয়ার প্রধান, নারায়ণগঞ্জ জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ জাকির, মহানগর বিএনপির ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি অ্যাডভোকেট শেখ আঞ্জুম আহমেদ রিফাত এবং জেলা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট ওমর ফারুক নয়নসহ আরও পাঁচ থেকে ছয়জন তার সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন।
নোটিশে দাবি করা হয়েছে যে, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা সাখাওয়াত হোসেন খানকে উদ্দেশ্য করে অশালীন ও আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করেন। যখন তাদের এই আচরণের কারণ জানতে চাওয়া হয়, তখন তারা মারমুখী হয়ে ওঠেন।
এছাড়া ঘটনার দিন অনলাইন গণমাধ্যমে অ্যাডভোকেট এইচ এম আনোয়ার প্রধান দাবি করেন যে, তারা সাখাওয়াত হোসেন খানকে দুই ঘণ্টা আটকে রেখেছিলেন এবং পরে ক্ষমা চেয়ে চলে যান। নোটিশে আনোয়ার প্রধানের এই বক্তব্যকে মিথ্যা, বানোয়াট, উদ্দেশ্য প্রণোদিত ও ষড়যন্ত্রমূলক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
নোটিশে আরও বলা হয়েছে, ঘটনার পর মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু অভিযুক্তদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সাখাওয়াত হোসেন খানের কাছে ক্ষমা চাইতে আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু তারা সেই আহ্বানে সাড়া দেননি। পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে দলীয় কর্মসূচিতে অনুপস্থিত থাকা, কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অমান্য করা এবং দলের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগও আনা হয়েছে।
নোটিশে অভিযোগ করা হয়েছে যে, গত ২৫ আগস্ট নারায়ণগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে অ্যাডভোকেট সুমন মিয়াকে বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পর তার দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি করা হয়। এমনকি তার সরকারি চেম্বার প্রায় দেড় মাস ধরে তালাবদ্ধ রাখা এবং তাকে ভয়ভীতিসহ প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উল্লেখ করা হয়েছে।
শোকজপ্রাপ্ত নারায়ণগঞ্জ সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এইচ এম আনোয়ার প্রধান বলেন, "আমাকে হোয়াটসঅ্যাপে শোকজ পাঠানো হয়েছে। কিন্তু আমাকে অফিশিয়ালি কোনো চিঠি দেওয়া হয়নি। আমি হোয়াটসঅ্যাপেই শোকজের জবাব দেব।"
মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু বলেন, "অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক। তার সঙ্গে যে ঘটনা ঘটেছে তা কোনোভাবেই বরদাশত করা যাবে না। দলের নিয়ম অনুযায়ী শোকজ করা হয়েছে। শোকজের জবাব না দিলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন