প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কক্সবাজারের ঈদগাঁও–ঈদগড়–বাইশারী সড়কের হিমছড়ি ঢালায় দিনদুপুরে দুই দফায় সশস্ত্র ডাকাতির ঘটনায় অন্তত ৫০ থেকে ৬০টি যানবাহনের যাত্রী লুটপাটের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা। মুখোশধারী ডাকাতেরা সড়কে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে যানবাহন থামিয়ে যাত্রীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে। পরে তাঁদের পাশের জঙ্গলে নিয়ে মারধর করে নগদ টাকা, মুঠোফোন ও মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকাল ও দুপুরে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, ১০ থেকে ১২ জনের একটি সশস্ত্র দল দুই দফায় সড়কটির নির্জন অংশে অবস্থান নিয়ে ডাকাতি চালায়। ডাকাতদের কবলে পড়া যানবাহনের অধিকাংশই সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল। তবে লুটপাটের শিকার যানবাহনের সঠিক সংখ্যা পুলিশ নিশ্চিত করতে পারেনি।
একটি বেসরকারি সংস্থার ঈদগড় শাখার ব্যবস্থাপক মো. রবিউল ইসলাম জানান, সোমবার দুপুর ১২টার দিকে তিনি এক সহকর্মীকে নিয়ে মোটরসাইকেলে ঈদগাঁও বাজার থেকে ঈদগড় যাচ্ছিলেন। তাঁদের সঙ্গে ছিল ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। হিমছড়ি ঢালায় পৌঁছালে মুখোশধারী ১০ থেকে ১২ জন সশস্ত্র ব্যক্তি তাঁদের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে। পরে দুজনকে পাশের জঙ্গলে নিয়ে মারধর করে তাঁদের কাছ থেকে নগদ টাকা, দুটি মুঠোফোন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছিনিয়ে নেয়। কিছুক্ষণ পর তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
রবিউল ইসলামের দাবি, প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে ডাকাতেরা একের পর এক যানবাহন থামিয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে মালামাল লুট করে। তাঁর হিসাব অনুযায়ী, ৫০ থেকে ৬০টি অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের শতাধিক যাত্রী এ ঘটনার শিকার হন। বিকেল ৩টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান শুরু করলেও তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে আটক করতে পারেনি।
একই সড়কে ডাকাতির শিকার হয়েছেন আরেকটি বেসরকারি সংস্থার ঈদগড় শাখার হিসাবরক্ষক আবদুল হাকিম। তিনি জানান, তিনজন একটি অটোরিকশায় ঈদগাঁও বাজার থেকে ঈদগড় বাজারে যাচ্ছিলেন। পথে সশস্ত্র ডাকাতেরা তাঁদের থামিয়ে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে জঙ্গলে নিয়ে যায়। সেখানে মারধর করে তাঁদের কাছ থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও ব্যাংকের চেকবই ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
আবদুল হাকিম বলেন, এ সড়কে প্রায়ই লুটপাটের ঘটনা ঘটে। অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। অথচ যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা চোখে পড়ে না। ফলে এ পথে চলাচল করতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে আতঙ্কে থাকতে হচ্ছে।
ডাকাতদের কবলে পড়া ঈদগড়ের বাসিন্দা মোহাম্মদ তারেক জানান, সোমবার সকালে পাঁচ যাত্রী নিয়ে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ঈদগাঁও থেকে ঈদগড় যাচ্ছিলেন তিনি। হিমছড়ি ঢালায় পৌঁছালে ডাকাতেরা অটোরিকশাটির গতিরোধ করে। এ সময় তাঁর মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরিস্থিতি বিপজ্জনক বুঝতে পেরে জীবন বাঁচাতে চলন্ত অটোরিকশা থেকে লাফ দিয়ে পালিয়ে যান তিনি।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে সড়কটিতে ডাকাতি চললেও ঘটনার সময় সেখানে পুলিশের টহল ছিল না। পাহাড়ি বনাঞ্চলের মধ্য দিয়ে যাওয়া সড়কটির নির্জন অংশে নিরাপত্তার ঘাটতি থাকায় ডাকাতেরা সহজেই যানবাহন থামিয়ে লুটপাট চালানোর সুযোগ পাচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তাঁদের ভাষ্য, ডাকাতির পাশাপাশি অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগও দীর্ঘদিনের। ঈদগাঁও, ঈদগড় ও বাইশারী এলাকার মানুষের যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কে নিয়মিত টহল ও নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এদিকে, ঘটনার পর ডাকাতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। ঈদগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ টি এম সিফাতুল মাজদার জানান, স্থানীয় কিছু দুর্বৃত্ত সড়কে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে যানবাহনে লুটপাট চালিয়ে পাশের জঙ্গলে আত্মগোপন করেছে। তাদের ধরতে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।
ওসি আরও জানান, ১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ ঈদগাঁও–ঈদগড়–বাইশারী সড়কের গহিন বনাঞ্চল এলাকায় পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। ডাকাতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন