প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির ডানপন্থী সরকার দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বোরকা ও নেকাব পরিধান নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সরকারের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে দেশটির মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা এবং বিশ্লেষকরা তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাদের মতে, রাজনীতির উদ্দেশ্যে এবং আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যেখানে বাস্তব কোনো সংকট নেই।
সম্প্রতি মেলোনির দল 'ব্রাদার্স অব ইতালি' (FdI)-র একটি সমাবেশে স্কুলে মুখ ঢেকে আসার ওপর নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব করা হয়। প্রধানমন্ত্রী মেলোনি এই সিদ্ধান্তকে "নারীর সমতা ও নিরাপত্তার প্রয়াস" হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, "ইতালিতে কোনো ঐতিহ্য বা ধর্মের নামে একজন তরুণীকে নিজের পরিচয় লুকিয়ে রাখতে বাধ্য করা যাবে না।"
কিন্তু কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইতালির মিলানের আল-ওয়াহিদ মসজিদের ইমাম ও ইসলামিক স্কলাররা এই ধরনের নিষেধাজ্ঞাকে একটি 'ভুয়া সমস্যা' তৈরি করার প্রচেষ্টা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
মিলানের আল-ওয়াহিদ মসজিদের ইমাম ইয়াহিয়া পাল্লাভিচিনি মন্তব্য করেন, "এটি সমাজের একটি ক্ষুদ্র অংশের চর্চাকে লক্ষ্য করে সার্বিক মুসলিম সমাজ সম্পর্কে একটি ভুল ধারণা তৈরির চক্রান্ত। এতে শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গি ফুটিয়ে তোলার অপচেষ্টা করা হচ্ছে।"
অন্যদিকে, মিলানের একটি উচ্চবিদ্যালয়ের গণিত শিক্ষক মুলাইকা লরা এনরিয়েলো বলেন, "আমার দীর্ঘ শিক্ষাকথা জীবনে কোনো ছাত্রীকে স্কুলে বোরকা বা নেকাব পরে আসতে দেখিনি। এটি কোনো বাস্তব সমস্যা নয়। যে মেয়েরা হিজাব পরে, তারা তা স্বাভাবিকভাবেই পরে—কেউ তাদের বিরক্ত করে না।" তথ্য অনুযায়ী, পুরো ইতালিতে মাত্র ৫০০ থেকে ৬০০ জন ছাত্রী পূর্ণাঙ্গ মুখ ঢেকে স্কুলে আসে।
রাজনৈতিক মেরুকরণের কৌশল?
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৭ সালের সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে ডানপন্থী ভোটারদের ধরে রাখতে মেলোনি এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। সম্প্রতি দেশটির সাবেক জেনারেল রবার্তো ভান্নাচ্চির চরম ডানপন্থী 'ন্যাশনাল ফিউচার' দল জনমতে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করায় মেলোনি নিরাপত্তা ও অভিবাসন ইস্যুতে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করছেন।
লুইস (LUISS) বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ লরেঞ্জো কাস্তেলানি বলেন, "মেলোনি মূলত রক্ষণশীল ভোটারদের বার্তা দিতে চাচ্ছেন। কট্টর ডানপন্থী প্রতিদ্বন্দ্বীদের রুখতে তিনি ইসলাম ও জাতীয় পরিচয়কেন্দ্রিক বিষয়গুলোকে রাজনীতিতে সামনে নিয়ে আসছেন।"
এটি উল্লেখ্য যে, ইতালির সংবিধানে ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং জননিরাপত্তার বিষয়ে আইনি ভারসাম্য রয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই নিষেধাজ্ঞাটি সংসদ এবং আদালতের আইনি পরীক্ষার মুখোমুখি হতে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন