প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকায় নিযুক্ত সিঙ্গাপুরের হাইকমিশনার মিচেল লি মন্তব্য করেছেন যে, আন্তর্জাতিক কার্বন বাণিজ্যে বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণের জন্য একটি বড় সুযোগ রয়েছে। তিনি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় কার্বন বাণিজ্যের পাশাপাশি পানি ব্যবস্থাপনা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং আধুনিক প্রযুক্তিতে দুই দেশের সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় সিঙ্গাপুর হাইকমিশনে ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড জাস্টিস ফাউন্ডেশনের (সিএজেএফ) একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
বৈঠকে জলবায়ু কার্যক্রম ও ন্যায়বিচার, কার্বন বাণিজ্য, নবায়নযোগ্য ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, পানি ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু প্রযুক্তি, টেকসই নগরায়ণ এবং খাদ্য নিরাপত্তা সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।
হাইকমিশনার মিচেল লি বলেন, "জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় কার্বন বাণিজ্য বাংলাদেশের জন্য নতুন অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।"
তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ যদি নিজের সম্ভাবনাকে কাজে লাগায়, তবে পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সুবিধাও অর্জন করতে সক্ষম হবে। আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এ সুযোগ কাজে লাগানোর জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।
সিঙ্গাপুরের উল্লম্ব কৃষি এবং সীমিত ভূমিতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে হাইকমিশনার বলেন, পানি ব্যবস্থাপনা, জ্বালানি দক্ষতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং টেকসই নগর উন্নয়নে সিঙ্গাপুরের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশে কার্যকর হতে পারে। সীমিত ভূমি ও প্রাকৃতিক সম্পদের মধ্যেও প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে সিঙ্গাপুর টেকসই উন্নয়নের পথে এগিয়েছে বলেও তিনি জানান।
সিএজেএফের চেয়ারম্যান আরিফুজ্জামান মামুন বলেন, "জলবায়ু পরিবর্তন এখন শুধু পরিবেশগত সংকট নয়; এটি অর্থনীতি, খাদ্য নিরাপত্তা, পানি, স্বাস্থ্য, নগরায়ণ এবং মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।" তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবন একসঙ্গে কাজে লাগানোর প্রয়োজন রয়েছে।
বৈঠকে বাংলাদেশে কার্বন প্রকল্পের সম্ভাবনা, কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং পরিবেশবান্ধব বিনিয়োগ আকর্ষণের বিষয়েও আলোচনা হয়। পাশাপাশি দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় করেন প্রতিনিধিরা।
বাংলাদেশ থেকে সিঙ্গাপুরে সবজি, সামুদ্রিক খাদ্যসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য রপ্তানির সুযোগ এবং সিঙ্গাপুরের আধুনিক খাদ্য উৎপাদন ও সংরক্ষণ প্রযুক্তি থেকে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা নেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় আসে।
ভবিষ্যতে জলবায়ু, পরিবেশ, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, খাদ্য নিরাপত্তা, নগর ব্যবস্থাপনা এবং কার্বন বাণিজ্যে দুই দেশের বেসরকারি ও নাগরিক পর্যায়ের অংশীদারত্ব বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন