প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মহাষষ্ঠী উপলক্ষে আজ শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) শুরু হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গোৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা। দেশের পূজামণ্ডপগুলো ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ অক্টোবর মহালয়ার মাধ্যমে দেবীপক্ষের সূচনা হয়েছে। এর পর থেকে দেবী দুর্গার আগমনের অপেক্ষায় ছিলেন ভক্তরা। রাজধানীসহ সারা দেশের মন্দির ও পূজামণ্ডপগুলোতে প্রতিমা নির্মাণ, মণ্ডপ সাজানো, আলোকসজ্জা এবং অন্যান্য প্রস্তুতির কাজ নিয়ে আয়োজকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। বেশির ভাগ মণ্ডপে প্রস্তুতির কাজ ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে গেছে।
কিছু স্থানে চলছে শেষ মুহূর্তের সাজসজ্জা, অন্যদিকে আলোকসজ্জা ও দর্শনার্থীদের চলাচলের ব্যবস্থা তৈরির কাজ চলছে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আজ মহাষষ্ঠীর মাধ্যমে দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। সকালে ষষ্ঠীপূজা এবং সন্ধ্যায় দেবী দুর্গার বোধন অনুষ্ঠিত হবে। বোধন শব্দের অর্থ হলো জাগরণ বা চৈতন্যপ্রাপ্তি।
শাস্ত্রীয় বিধান অনুসারে, শরৎকালের দুর্গাপূজায় দেবীর বোধন করা হয়। প্রচলিত পৌরাণিক কাহিনীর ভিত্তিতে, রাবণবধের উদ্দেশ্যে ভগবান রামচন্দ্র শরৎকালে দেবী দুর্গার আরাধনা করেছিলেন। অসময়ে এই পূজা করা হয়েছিল বলে এটি অকালবোধন নামে পরিচিত। বসন্তকালের পূজায় বোধনের বিধান নেই।
পঞ্জিকা অনুযায়ী, এবারের দেবী দুর্গা স্বর্গ থেকে ঘোড়ায় চড়ে মর্ত্যে আগমন করবেন এবং নৌকায় চড়ে স্বর্গলোকে ফিরে যাবেন।
প্রতিবছর পাঁচ দিন পূজা হলেও এবারে ছয় দিন পূজা অনুষ্ঠিত হবে। তিথির কারণে মহাসপ্তমীর পূজা শনিবার ও রবিবার দুদিন অনুষ্ঠিত হবে। এরপর সোমবার মহা অষ্টমী, মঙ্গলবার মহানবমী এবং বুধবার বিজয়া দশমীর মাধ্যমে পূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে। পূজার দিনগুলোতে মণ্ডপগুলোতে দেবীদর্শন, অঞ্জলি, প্রসাদ বিতরণ, আরতি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকবে।
দুর্গাপূজার প্রস্তুতির মধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে মন্দির ও প্রতিমায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পূজার প্রস্তুতির পাশাপাশি এসব ঘটনার তথ্য তুলে ধরা হয়েছে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ এবং মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির পক্ষ থেকে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শুভাশীষ কুমার বিশ্বাস (সাধন)। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর, সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী ও কাজল দেবনাথ, সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা প্রমুখ।
লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়, পূজার আগে দেশের ৩৪টি স্থানে হামলা ও প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় করা ১১টি মামলায় কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সিলেট, রাজবাড়ী, পঞ্চগড়, নেত্রকোনা ও টাঙ্গাইলসহ বিভিন্ন জেলায় দুর্গাপ্রতিমা ও মন্দিরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। ফরিদপুরে ঐতিহ্যবাহী কালীমন্দিরে চুরি এবং সুনামগঞ্জে হিন্দু সম্প্রদায়ের ঘরবাড়ি, দোকানপাট ও মন্দিরে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগও তুলে ধরা হয়েছে। নওগাঁয় ডাকাতির খবর পাওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ এবং পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। বলা হয়েছে, সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপিত হবে— এটাই তাদের প্রত্যাশা। ঈদ, পূজা, বড়দিন, বুদ্ধপূর্ণিমাসহ সব ধর্মীয় উৎসব যেন ভয়ভীতি ছাড়াই উদযাপন করা যায়, এমন অসাম্প্রদায়িক সমাজ গড়ে তোলার ওপরও তাঁরা গুরুত্ব দিয়েছেন।
এদিকে, পূজা উপলক্ষে বিপণিবিতান ও স্থানীয় বাজারগুলোতেও মানুষের আনাগোনা বেড়েছে। ক্রেতারা নতুন পোশাক, জুতা, প্রসাধনী ও শিশুদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনছেন। পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের সঙ্গে বিভিন্ন মণ্ডপে ঘুরে উৎসব উদযাপনের পরিকল্পনা করছেন অনেকে। ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি দুর্গোৎসব বাঙালির সম্প্রীতি, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও সামাজিক মিলনমেলার উপলক্ষ হিসেবেও পরিচিত। এবারের দীর্ঘ ছুটির কারণে উৎসবে মানুষের অংশগ্রহণ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর সারা দেশে ৩৩ হাজার ৮৫১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৩৩ হাজার ৩৫৫টি। সেই হিসেবে এবারে মণ্ডপের সংখ্যা বেড়েছে ৪৯৬টি। ঢাকা মহানগরে এবারে ২৫৮টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ২৬১টি।
পূজা উদযাপন পরিষদ জানিয়েছে, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নিরাপত্তা নিশ্চিতে ২২ দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সার্বক্ষণিক স্বেচ্ছাসেবী মোতায়েন, সম্ভব হলে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, অগ্নিনির্বাপক সরঞ্জাম রাখা এবং কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন