প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আজ ইসরাইলে অনুষ্ঠিত হচ্ছে পার্লামেন্ট নির্বাচন। দেশটির প্রধান দুই নির্বাচনি জোটের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ভোটের ফল প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভাগ্য নির্ধারণ করবে, যিনি দেশের সবচেয়ে বেশি সময় ক্ষমতায় আছেন। ইসরাইলে ভোটার সংখ্যা প্রায় ৭৩ লাখ। ইসরাইলি পার্লামেন্ট নেসেটের ১২০ আসনে ভোট গ্রহণ করা হচ্ছে। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ৬১ আসন।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ইসরাইলের আইন অনুযায়ী ভোটাররা সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে ভোট দেন না। তারা পছন্দের রাজনৈতিক দলকে ভোট দেন। প্রতিটি দল নির্বাচনের আগে প্রার্থীদের একটি তালিকা প্রকাশ করে। আসন বণ্টন প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে হয়। নেসেটে প্রবেশের জন্য কোনো দলকে অন্তত ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ ভোট পেতে হয়।
যুদ্ধবাজ নেতানিয়াহু তার দল লিকুদকে নিয়ে ডানপন্থি ও ধর্মীয় জাতীয়তাবাদী শিবিরের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তার সরকারের গুরুত্বপূর্ণ শরিক কট্টর ডানপন্থি ইতামার বেন-গভিরের জিউইশ পাওয়ার ও বেজালেল স্মোত্রিচের রিলিজিয়াস জায়োনিজম। বেন-গভির জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী এবং স্মোত্রিচ অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অতি রক্ষণশীল ইহুদি দল শাস ও ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজমও নেতানিয়াহুর সম্ভাব্য মিত্র।
অপরদিকে, ইয়াশার, টুগেদার, ইসরাইল বেইতেনু ও ডেমোক্র্যাটসদের নিয়ে বিরোধী শিবির গঠিত হয়েছে। এই শিবির জিতলে প্রধানমন্ত্রী কে হবেন, তা এখনও ঘোষণা করা হয়নি। তবে সাবেক সেনাপ্রধান ও ইয়াশারের নেতা গাদি আইজেনকটকে সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী প্রার্থীদের মধ্যে এগিয়ে রাখা হচ্ছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটও টুগেদারের নেতা হিসেবে দাবিদার। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়ার লাপিদও সরকারের প্রধান হওয়ার দাবিদার।
গত শুক্রবারের এক জরিপ অনুযায়ী, লিকুদ ও ইয়াশার ২২টি করে, টুগেদার ১৪টি এবং ডেমোক্র্যাটস ও জয়েন্ট লিস্ট ৯টি করে আসন পেতে পারে। জিউইশ পাওয়ার, শাস ও ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম ৮টি, ইসরাইল বেইতেনু ও রিলিজিয়াস জায়োনিজম ৭টি করে এবং রা’আম ৫টি আসন পেতে পারে।
এভাবে নেতানিয়াহুর শিবিরের ৫৩ এবং বিরোধী শিবিরের ৫২টি করে আসন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মানে হলো, কোনো জোটেরই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। ফলে ইসরাইলের ফিলিস্তিনি নাগরিকদের প্রতিনিধিত্বকারী আরব দলগুলোর সমর্থন সরকার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
তবে আইজেনকটসহ অধিকাংশ বিরোধী নেতা তাদের সঙ্গে জোটের সম্ভাবনা নাকচ করেছেন। সমঝোতা না হলে আবার নির্বাচন হতে পারে। ততদিন তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে থাকতে পারেন নেতানিয়াহু। নেতানিয়াহু এ পর্যন্ত ছয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। আবার সরকার গড়তে পারলে এটি হবে তার সপ্তম মেয়াদ।
ইসরাইলে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে হামলার পর এটিই প্রথম নির্বাচন। নিরাপত্তাব্যর্থতার দায় ও স্বাধীন তদন্তের দাবি ভোটের বড় বিষয়। নেতানিয়াহু দায় নিতে অস্বীকৃতি জানালেও বিরোধীরা জবাবদিহি চাইছেন। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সামরিক সেবা থেকে অব্যাহতি এবং রাষ্ট্র ও ধর্মের সম্পর্ক নিয়েও ভোটারদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে।
গাজার বাস্তুচ্যুত বাসিন্দা মোহাম্মদ ইলিয়ান আলজাজিরাকে বলেছেন, "নেতানিয়াহুর হারলেও ইসরাইলের নীতিতে বড় কোনো পরিবর্তন আসবে না। তারপরও আমি নেতানিয়াহুর পরাজয় চাই।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন