প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য অরুণাচল প্রদেশের একটি আদিবাসী সংগঠন অভিযোগ করেছে যে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) ভারতীয় ভূখণ্ডের কয়েক কিলোমিটার অভ্যন্তরে ঢুকে পড়েছে। সংগঠনটির দাবি অনুযায়ী, সেখানে সামরিক ঘাঁটি তৈরি করতে চারণভূমি ও কৃষিজমিসহ একটি বিস্তৃত এলাকা দখল করে নিয়েছে চীন। কিন্তু ভারতীয় সেনাবাহিনী আদিবাসী সংগঠনের এই দাবি অস্বীকার করেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া এবং আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, অরুণাচল প্রদেশের আপার সুবনসিরি জেলার সীমান্তবর্তী অঞ্চলের আদিবাসীদের ওই অভিযোগকে সামনে রেখে বলা হয়েছে, চীনা পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) ভারতীয় ভূখণ্ডের কয়েক কিলোমিটার অভ্যন্তরে স্থায়ী ঘাঁটি স্থাপন করেছে। তাদের অভিযোগ অনুসারে, চীনা সেনাবাহিনীর দখলদারির কারণে গত ছয় বছর ধরে ওই অঞ্চলের স্থানীয় চাষের কাজ এবং পশুচারণ বন্ধ হয়ে গেছে। ভারতীয় সেনাবাহিনী পক্ষ থেকে এই অভিযোগ নাকচ করা হয়েছে। তারা বিবৃতিতে মন্তব্য করেছে যে, "অরুণাচল প্রদেশে চীনার সেনাবাহিনীর অনুপ্রবেশ এবং সেখানে ঘাঁটি স্থাপনের অভিযোগ করে যেসব প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, তা ভিত্তিহীন।" অরুণাচল প্রদেশের উত্তর অংশে চীনের তিব্বত ভূখণ্ডের কিছুকালের পাশে এ এলাকার ‘নাহ’ আদিবাসীরা বসবাস করে। তাদের সংগঠন ‘নাহ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি’-র সভাপতি কেরু চাদের টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদককে জানান, "ওই জমিটি আমাদের পূর্বপুরুষদের। সেখানে বহু যুগ ধরে আমরা শিকার, পশুচারণ এবং চাষাবাদ করেছি।" কেরু চাদের অভিযোগ করেন, চীনা সামরিক বাহিনী সীমান্তের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি) লাগোয়া আপার সুবনসিরি জেলার অন্তত পাঁচটি অঞ্চলে প্রবেশ করে স্থায়ী পরিকাঠামো নির্মাণ করেছে এবং স্থানীয় গ্রামবাসীদের সেখানে যেতে বাধা দিচ্ছে। কেরু আরও জানিয়েছেন যে, গত ১২ বছর আগে মাঝে মাঝে ওই এলাকাগুলোতে চীনের সেনাবাহিনী ঢুকে পড়তো, কিন্তু ২০২০ সালে তারা পাকাপাকিভাবে ওই অঞ্চলগুলো দখল করে নেয়। তিনি বলেন, "সরলভাবে বললে, ওই সময় থেকেই আমাদের সেখানে যাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে।" আসাফিলার ওয়িং এবং পানিয়ারের (চুজার্তা অঞ্চল), মারপানের (মারনাফে), পোত্রাং (হ্রদ) ও টিনডিংতাং (টিজি)-তে চীনারা দখলদারি করেছে বলেও উল্লেখ করেন কেরু চাদের। এসব স্থান তাকসিং সদর দফতরের কাছাকাছি এবং স্থানীয়রা এর মধ্যে কিছু স্থানকে তীর্থস্থান হিসেবেও বিবেচনা করেন। গত কয়েক বছর আগে লাদাখেও ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢুকে স্থানীয় পশুপালকদের বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল চীনের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে। তবে কেন্দ্রীয় সরকার তখন জানিয়েছিল, লাদাখে ভারতের এক ইঞ্চি ভূখণ্ডও চীন দখল করেনি। টাইমস অব ইন্ডিয়া জানাচ্ছে, সম্প্রতি আপার সুবানসিরি জেলার ডেপুটি কমিশনারের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন নাহ ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সভাপতি কেরু চাদের। সেখানে তিনি বলছেন, "কয়েক বছর আগে যেসব পূর্বপুরষের জমিতে আমরা অবাধে শিকার করতে পারতাম, বনজ সম্পদ সংগ্রহ করতে পারতাম এবং গবাদিপশু চরাতে পারতাম, সেগুলো এখন চীনা সেনাবাহিনীর দখলে রয়েছে।" এনডব্লিউএসের অভিযোগ, আপার সুবানসিরির তাকসিং রাজস্ব সার্কেলের আওতাধীন পাঁচটি এলাকায় চীন ধীরে ধীরে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বিস্তার করছে। সংগঠনটি দাবি করছে, আন্তর্জাতিক সীমান্ত বরাবর গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোকে কৌশলগতভাবে দখল করে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করছে চীনের সরকার। নাচো এলাকার বিধায়ক নাকাপ নালো বলেছেন, বিষয়টি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এবং তাই অভিযোগগুলো প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। তিনি মন্তব্য করেন, "এটি জাতীয় ইস্যু হওয়ায় অভিযোগগুলো নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ রয়েছে।" স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১০ থেকে ১৫ বছরে তাকসিং সীমান্ত এলাকায় চীনের কার্যকলাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সংগঠনটি বলছে, চীনের সেনাবাহিনী যত বেশি সম্ভব অঞ্চল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে চাইছে। স্মারকলিপিতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, ভারতের ভূখণ্ডের ভেতরে চীনা সেনাবাহিনী সামরিক ক্যাম্প ও সড়ক নির্মাণ করেছে। কেরু চাদের দাবি, "ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রতি আমাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। তারা বহু বছর ধরে আমাদের সীমান্ত রক্ষায় নিয়োজিত। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের প্রচেষ্টা যথেষ্ট নয়। তাকসিং এলাকায় চীনা সামরিক বাহিনীর কার্যক্রম এবং উদ্দেশ্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আমরা প্রতিদিন ইঞ্চি ইঞ্চি করে আমাদের ভূমি হারাচ্ছি।" রিপোর্ট লেখার সময় জেলা প্রশাসন বা অরুণাচল প্রদেশ সরকার যে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। টাইমস অব ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, জেলা প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারাও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন