প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দক্ষিণাঞ্চলীয় রিভার্স রাজ্যে অবৈধভাবে পেট্রোলিয়াম পণ্য চুরি করার সময় বিষাক্ত ধোঁয়া শ্বাসের সঙ্গে নেওয়ার ফলে অন্তত ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার দেশটির কর্তৃপক্ষ এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
রাতের অন্ধকারে রিভার্স রাজ্যের ওক্রিকা স্থানীয় সরকার এলাকার ওকারি জেটিতে এই দুর্ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, সেখানে একটি জাহাজে রপ্তানির জন্য পেট্রোলিয়াম পণ্য তোলা হচ্ছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্ধৃত করে তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলু জানিয়েছে, ওক্রিকা ও এর আশপাশের এলাকা থেকে ২০০ জনের বেশি তরুণ কাঠের নৌকায় করে সেখানে গিয়েছিলেন। তারা একটি পাইপলাইনে অবৈধভাবে সংযোগ দিয়ে পেট্রোলিয়াম পণ্য চুরি করার চেষ্টা করছিলেন।
স্থানীয়দের মতে, নৌকায় পেট্রোলিয়াম পণ্য তোলার সময় হঠাৎ করে ঘন বিষাক্ত ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। এতে উপস্থিত অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। কিছু ব্যক্তি ঘটনাস্থলেই জ্ঞান হারান। আরও কিছু লোক নদীতে পড়ে গিয়ে ডুবে মারা গেছেন বলে জানা গেছে।
নদীতে কয়েকটি মরদেহ ভাসতে দেখা গেছে। স্থানীয় একটি পরিবেশ ও মানবাধিকার সংগঠনের সূত্রে আরও কয়েকজন নিখোঁজ থাকার খবরও পাওয়া গেছে। রিভার্স রাজ্য পুলিশের মুখপাত্র ব্লেসিং আগাবে বলেন, ঘটনার বিস্তারিত জানার জন্য তদন্ত চলছে। তিনি আরও বলেন, ঘটনার ভয়াবহতা এবং প্রকৃত কারণ বের করার জন্য তদন্ত করা হচ্ছে।
নাইজার ডেল্টাভিত্তিক পরিবেশ ও মানবাধিকার সংগঠন ইয়ুথস অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল অ্যাডভোকেসি সেন্টার (ইয়েক-নাইজেরিয়া) একাধিক মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে।
সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক ফাইনফেস ডুমনামেনে ফাইনফেস জানান, নিহত ব্যক্তিরা একটি পাইপলাইনে অবৈধভাবে সংযোগ দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই পাইপলাইনের মাধ্যমে ইন্দোরামা এলেমে পেট্রোকেমিক্যালস এলাকা থেকে পোর্ট হারকোর্ট শোধনাগার করিডোর হয়ে রপ্তানির জন্য পেট্রোলিয়াম পণ্য বহনকারী জাহাজে পণ্য সরবরাহ করা হয়। ফাইনফেসের বক্তব্য অনুযায়ী, তরুণেরা অপেক্ষমাণ নৌকাগুলোতে পেট্রোলিয়াম পণ্য তুলছিলেন। একই সময়ে পাইপলাইনের ভেতর দিয়ে উচ্চচাপে পেট্রোলিয়াম পণ্য পাঠানো হচ্ছিল। এতে উপস্থিত লোকজন বিষাক্ত ধোঁয়ার সংস্পর্শে আসেন। তিনি বলেন, নদীতে কয়েকটি মরদেহ ভাসতে দেখা গেছে এবং আরও কিছু লোক নিখোঁজ রয়েছে।
রিভার্স রাজ্যের এই ঘটনা নাইজেরিয়ার তেলসমৃদ্ধ নাইজার ডেলটা অঞ্চলে তেল চুরি ও অবৈধভাবে তেল সংগ্রহের ঝুঁকি আবারও সামনে এনেছে। দীর্ঘদিন ধরে নাইজার ডেল্টায় অপরিশোধিত তেল চুরি, অবৈধভাবে তেল পরিশোধন এবং পেট্রোলিয়াম পণ্য অবৈধভাবে পরিবহনের ঘটনা ঘটে আসছে। এসব প্রতিরোধে রিভার্স ও আশপাশের রাজ্যগুলোতে নিরাপত্তা বাহিনী নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে। নাইজেরিয়ার সেনাবাহিনী জানায়, গত এপ্রিল মাসে তারা ১০টি অবৈধ তেল পরিশোধন কেন্দ্র ধ্বংস করেছে। এসব অভিযানে রিভার্স, ডেল্টা ও আকওয়া ইবোম রাজ্যে তেল চুরির সঙ্গে জড়িত সন্দেহে নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সেনাবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, এসব অভিযানে ১ লাখ ৩০ হাজার লিটারের বেশি চুরি করা অপরিশোধিত তেল উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া যানবাহনে ব্যবহারের জন্য রাখা ২৬ হাজার লিটারের বেশি ডিজেলও উদ্ধার করা হয়। এরপর গত ২৮ আগস্ট নাইজেরিয়ার নৌবাহিনী রিভার্স রাজ্যে দুটি অবৈধ তেল পরিশোধন কেন্দ্র ধ্বংস করার খবর দেয়। ওই অভিযানে অবৈধভাবে পরিশোধন করা হয়েছে বলে সন্দেহ করা ৩৪ হাজার লিটার ডিজেল উদ্ধার করা হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন