প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) নতুন কান্ট্রি ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন চিংফেং ঝাং। আজ ঢাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন তিনি, এ সম্পর্কে এডিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে যে, চিংফেং ঝাং বাংলাদেশে সংস্থাটির অন্যতম বৃহৎ দেশভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবেন। এ সময় তিনি বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে এডিবির দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্বকে আরও জোরদার করবেন, সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সঙ্গে কৌশলগত নীতিসংলাপ করবেন এবং বাংলাদেশের জন্য এডিবির পরবর্তী কান্ট্রি পার্টনারশিপ স্ট্র্যাটেজি (সিপিএস) প্রণয়নে নেতৃত্ব দেবেন।
নতুন দায়িত্ব গ্রহণ প্রসঙ্গে ঝাং বলেছেন, বাংলাদেশের উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ের মধ্যে এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করার সুযোগ পাওয়া অত্যন্ত সম্মানের বিষয়। গত কয়েক দশকে, বাংলাদেশ স্থিতিশীলতা ও উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক অগ্রগতি অর্জন করেছে।
তিনি আরও বলেছেন, এডিবি উদ্ভাবনী অর্থায়ন, জ্ঞানভিত্তিক সমাধান এবং বড় ধরনের বিনিয়োগের মাধ্যমে মানসম্মত কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সক্ষমতা বৃদ্ধি, বেসরকারি খাতের নেতৃত্বে প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে সরকার ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এডিবি জানাচ্ছে, টেকসই উন্নয়ন খাতে চিংফেং ঝাংয়ের ৩০ বছরেরও বেশি পেশাগত অভিজ্ঞতা রয়েছে। এর মধ্যে, তিনি ২০ বছরেরও বেশি সময় এডিবিতে দায়িত্ব পালন করেছেন। কৃষি, খাদ্যব্যবস্থা, পানিসম্পদ, পরিবেশ, প্রাকৃতিক সম্পদ ও গ্রামীণ উন্নয়ন খাতে তিনি বিভিন্ন রূপান্তরমূলক কর্মসূচি এবং কৌশলগত উদ্যোগে নেতৃত্ব দিয়েছেন। সরকার, উন্নয়ন সহযোগী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি খাতের সঙ্গে কার্যকর অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
বাংলাদেশে দায়িত্ব পাওয়ার আগে, চিংফেং ঝাং এডিবির অ্যাগ্রিকালচার, ফুড, নেচার অ্যান্ড রুরাল ডেভেলপমেন্ট সেক্টর অফিসের সিনিয়র ডিরেক্টর হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ওই দায়িত্বে তিনি এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে টেকসই ও স্থিতিশীল উন্নয়ন এগিয়ে নিতে এডিবির কৌশলগত কার্যক্রমে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
চীনের নাগরিক চিংফেং ঝাং সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডক্টরেট, সিচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় স্নাতকোত্তর এবং হাইড্রোলজিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তিনি হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলে বিশেষায়িত পেশাগত শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। এছাড়া, তিনি হার্ভার্ড বিজনেস স্কুল থেকে এক্সিকিউটিভ এডুকেশন সম্পন্ন করেছেন।
বাংলাদেশ ১৯৭৩ সালে এডিবির সদস্য পদ লাভ করে। বর্তমানে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশে এডিবির চলমান সরকারি ও বেসরকারি খাতের পোর্টফোলিওর পরিমাণ প্রায় ১২.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশকে এডিবির অন্যতম বৃহৎ কান্ট্রি প্রোগ্রামে পরিণত করেছে।
এডিবি দেশের উন্নয়নে এ পর্যন্ত মোট প্রায় ৪৩ বিলিয়ন ডলার ঋণ ও অনুদান দিয়েছে। আগামী কয়েক বছরে, বাংলাদেশ টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষমতা বৃদ্ধি, আঞ্চলিক সংযোগ উন্নত করা এবং জীবনযাত্রার মান বাড়াতে এডিবি বার্ষিক প্রায় ২.৪ বিলিয়ন ডলার ঋণ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে।
এডিবি, এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি অর্জনে সহায়তা প্রদানকারী একটি শীর্ষস্থানীয় বহুপাক্ষিক উন্নয়ন ব্যাংক। ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এডিবির বর্তমান সদস্য সংখ্যা ৬৯, যার মধ্যে ৫০টি এই অঞ্চলের।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন