প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বর্তমানে তাইওয়ানের সম্পর্ক আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে প্রযুক্তি ও উন্নত শিল্প উৎপাদন খাতে দুই দেশের সহযোগিতা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
তাইওয়ানের বিভিন্ন কোম্পানির যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ দেশটির শিল্প খাতকে পুনরায় শক্তিশালী করতে সহায়তা করছে।
সোমবার তাইপেতে অনুষ্ঠিত একটি অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কূটনীতিক রেমন্ড গ্রিন এসব মন্তব্য করেন। তিনি কার্যত তাইপেতে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করছেন। গ্রিন উল্লেখ করেন, “তাইওয়ানের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক কখনোই এত শক্তিশালী ছিল না।”
তিনি আরও বলেন, “বিশেষ করে উচ্চপ্রযুক্তি ও উন্নত শিল্প উৎপাদন খাতে আমাদের সহযোগিতা আরো গভীর হচ্ছে।” যুক্তরাষ্ট্রের মতো বেশির ভাগ দেশের তাইওয়ানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। চীন তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড হিসেবে দাবি করে। তবে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সমর্থক।
এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের বড় অস্ত্র সরবরাহকারী দেশও। অন্যদিকে, তাইওয়ানের বিভিন্ন কোম্পানি যুক্তরাষ্ট্রে কয়েক বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় বিনিয়োগকারী হচ্ছে তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি বা টিএসএমসি।
অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যে টিএসএমসির বিনিয়োগের পরিমাণ ২৬৫ বিলিয়ন ডলার। গ্রিন মন্তব্য করেন, গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে তাইওয়ানের সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ একটি নতুন রেকর্ড তৈরি করেছে।
তিনি বলেন, তাইওয়ান যুক্তরাষ্ট্রের শিল্প খাতকে পুনরায় শক্তিশালী করতে সহায়তা করছে। অ্যারিজোনা ও টেক্সাসে বিনিয়োগের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোও তাইওয়ানে তাদের কার্যক্রম সম্প্রসারিত করছে। বিশেষ করে তাইওয়ানের রাজধানী তাইপে এবং প্রধান সেমিকন্ডাক্টর শিল্পকেন্দ্র সিঞ্চুতে মার্কিন কোম্পানিগুলো প্রযুক্তি খাতে অংশীদারত্ব বৃদ্ধি করছে। তাইপেতে এ সপ্তাহে সেমিকন চিপ বাণিজ্যমেলা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই মেলার প্রাক্কালে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে গ্রিন এসব কথা বলেন।
মেলায় মাইক্রোসফট, গুগলসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রযুক্তি কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করবেন। সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি পণ্য। স্মার্টফোন, কম্পিউটার, গাড়ি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং সামরিক প্রযুক্তির মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে চিপ ব্যবহৃত হয়। তাইওয়ান উন্নত চিপ তৈরির ক্ষেত্রে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। বিশেষ করে টিএসএমসি বিশ্বের অনেক বড় প্রযুক্তি কোম্পানির জন্য চিপ উৎপাদন করে। তাইওয়ানের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে একদিকে সহযোগিতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, অন্যদিকে কিছু বিষয়ে টানাপোড়েনও বিদ্যমান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন সময়ে তাইওয়ানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সেমিকন্ডাক্টর ব্যবসা ‘চুরি’ করার অভিযোগ তুলেছেন। তাইওয়ান সরকার এই অভিযোগ ও ধারণাকে অন্যায্য মনে করে। তবে তবুও তাইওয়ানের সরকার দেশটির কোম্পানিগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ বাড়াতে উৎসাহিত করে আসছে।
অনুষ্ঠানে গ্রিনের সঙ্গে বক্তব্য দেন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের একজন কর্মকর্তা। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন বাড়ানোর সরকারি কর্মসূচি ‘চিপস অ্যাক্ট’ দেখভাল করেন। তিনি বলেন, এই কর্মসূচি আগামী কয়েক দশকের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সমৃদ্ধি ও উদ্ভাবন নিশ্চিত করতে কাজ করছে। বাণিজ্য বিভাগের সেমিকন্ডাক্টর বিনিয়োগ ও উদ্ভাবনবিষয়ক নির্বাহী পরিচালক বিল ফ্রাউনহোফার বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার প্রশাসন শুধু সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই কাজ করছে না। তাদের লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করা এবং এমন পেশার সুযোগ সৃষ্টি করা, যা দেশের অর্থনীতি ও জনগণকে আরো শক্তিশালী করবে। ফ্রাউনহোফার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ার মাধ্যমে দেশটির প্রযুক্তি খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। যুক্তরাষ্ট্র ও তাইওয়ানের মধ্যে প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির এই উদ্যোগ বিশ্বব্যাপী চিপ সরবরাহ ব্যবস্থার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন