প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সম্প্রতি ভারতের মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের রাজধানী ভোপালে অনুষ্ঠিত এক জনসভায় বিজেপি বিধায়ক রামেশ্বর শর্মা কথিত ‘লাভ জিহাদ’ (হিন্দু নারীদের ধর্মান্তরিত করার কাল্পনিক অভিযোগ) এর অজুহাতে মন্তব্য করেছেন যে, মুসলিম যুবকদের একা একা গরবা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করা উচিত নয়। তিনি বলেন, যদি তারা আসতেই চান, তবে নিজেদের পরিবারের বোন ও মেয়েদেরও সঙ্গে নিয়ে আসা উচিত। তিনি আরও যোগ করেছেন, "আমাদের ছেলেরাও প্রস্তুত রয়েছে।"
বিধায়কের এই মন্তব্যের পর সভাস্থলে উপস্থিত তার সমর্থকরা উল্লাসে ফেটে পড়ে। বিজেপি বিধায়কের এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর ভারতের রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস এবং এআইএমআইএম এই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে চরম ধর্মীয় মেরুকরণ সৃষ্টির অপচেষ্টা এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি কুরুচিকর আক্রমণ বলে অভিহিত করেছে।
রাজনৈতিক প্রতিবাদের পাশাপাশি নাগরিক সমাজ ও নেটিজেনরা বিধায়কের এই বক্তব্যকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন। তাদের মতে, এই বক্তব্যের মাধ্যমে নারীদের সম্মানকে কার্যত সামাজিক প্রতিশোধের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার এক কুরুচিকর ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, যা চরম লিঙ্গবৈষম্যমূলক ও অবমাননাকর।
ভোপাল সেন্ট্রালের কংগ্রেস বিধায়ক আরিফ মাসুদ অত্যন্ত কঠোর ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, "রামেশ্বর শর্মার এই মন্তব্য অত্যন্ত নোংরা ও জঘন্য। আমি কেবল এটুকুই বলব—নিজের স্বভাব শুধরে নিন। মুখ থেকে এমন নোংরা কথা উগড়ানো বন্ধ করুন। প্রথমত, সাধারণ মুসলমানেরা গরবা অনুষ্ঠানে যায় না, গরবার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। যে ধরণের ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে তা চরম আপত্তিকর।"
অন্যদিকে, এআইএমআইএম-এর মধ্যপ্রদেশ সভাপতি মহসিন আলী খান তীব্র আক্রমণ চালিয়ে বিধায়ককে দেশের সংবিধান পড়ার পরামর্শ দেন।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, "এই ধরণের উসকানিমূলক বক্তব্য দেশ ভাগ করার চক্রান্ত। রামেশ্বর শর্মা যদি মুসলমানদের নিজেদের বোন ও মেয়েদের গরবায় আনার কথা বলেন, তবে বিজেপির নিজস্ব মুসলিম নেতারা—যেমন শাহনেওয়াজ হোসেন বা সৈয়দ জাফর ইসলামরা কি তাদের নিজেদের বোন-মেয়েদের গরবা অনুষ্ঠানে নিয়ে যাবেন?"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন