প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রক্তে শর্করা বা সুগার বাড়ানোর জন্য শুধুমাত্র মিষ্টি খাবার খাওয়া যথেষ্ট নয়। আরও অনেক কারণ রয়েছে যার ফলে সুগার বাড়তে পারে। আমাদের দৈনন্দিন কিছু ভুল অভ্যাসও সুগার বৃদ্ধির কারণ হতে পারে। অধিকাংশ মানুষ প্রতিদিন এই ভুলগুলি করে থাকেন।
নিচে উল্লেখিত ৭টি ভুল সম্পর্কে জানার মাধ্যমে সকলের সতর্ক থাকা জরুরি।
১. খালি পেটে দুধ চা বা কফি
সকালে ঘুম থেকে উঠে বিছানায় বসেই চিনি মেশানো কড়া এক কাপ চা বা কফি পান করা অনেকের জন্য একটি অভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর সঙ্গে দুইটি বিস্কুটও থাকে। দীর্ঘ সময় উপবাসের পর হঠাৎ করে চিনি বা ক্যাফেইন শরীরে প্রবেশ করলে তা দ্রুত রক্তপ্রবাহে মিশে যায়। এর ফলে রক্তে শর্করা আচমকা বেড়ে যেতে পারে। তাই দিনের শুরুটা প্রোটিন ও ফাইবার দিয়ে করা উচিত। কফি বা চা চিনি দিয়ে পান করতে চাইলে, নাস্তা করার পরই তা পান করা উচিত।
২. ঘুম ভেঙেই আলস্য
বিছানা থেকে উঠে মোবাইল ব্যবহার করা, এক স্থানে বসে থাকা, এসবও সুগার বাড়ানোর আরেকটি কারণ। ঘুম থেকে ওঠার পর শরীরে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা কিছুটা বেশি থাকে, যা রক্তে শর্করা বাড়ানোর জন্য যথেষ্ট। সকালে হালকা হাঁটাচলা না করলে পেশি সচল হয় না, ফলে রক্তে জমা অতিরিক্ত গ্লুকোজ ব্যবহার না হয়ে রক্তেই রয়ে যায়।
৩. সকালে ঘুম থেকে উঠে ধূমপান
তামাকের নিকোটিন শরীরের ইনসুলিন হরমোন ব্যবহারের ক্ষমতা কমিয়ে দেয় এবং ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স তৈরি করে। খালি পেটে ধূমপান করলে শরীরে কর্টিসল হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যায়, যা রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে।
৪. পর্যাপ্ত পানি না খাওয়া
রক্তে শর্করা বেড়ে যাওয়ার আরেকটি বড় কারণ হলো পানিশূন্যতা। যখন শরীর পর্যাপ্ত পানি পায় না, তখন রক্তে শর্করার ঘনত্ব বাড়তে থাকে। নিয়মিত এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা উচিত। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে সব সময় হাতের কাছে একটি পানির বোতল রাখার চেষ্টা করা উচিত। এছাড়া রাতে ৬-৮ ঘণ্টা ঘুমানোর পর সকালে উঠে পানি না খেয়ে চা বা কফি পান করা বা অন্য খাবার খাওয়ার অভ্যাসের কারণেও সুগার বাড়তে পারে।
৫. সময়মতো খাবার না খাওয়া
কাজের চাপের কারণে অনেকেই খাবার খেতে ভুলে যান বা অসময়ে খান। অনেকের ধারণা, এক বেলা না খেলে কিছু আসে যায়। যদি কেউ সকাল ৮টায় ঘুম থেকে ওঠে এবং বেলা ১২টায় জলখাবার খায়, তবে সুগার বাড়বে। রাতে দীর্ঘ সময় পেট খালি থাকার পর সকালে দেরিতে খেলে, লিভার তার জমানো গ্লাইকোজেন ভেঙে গ্লুকোজ তৈরি করে রক্তে পাঠাতে থাকে। ফলে দীর্ঘ সময় না খেলে রক্তের শর্করা দ্রুত বাড়তে থাকে। তাই নিয়মিত বিরতিতে আঁশযুক্ত এবং আমিষ ও শর্করাজাতীয় খাবার খাওয়া উচিত।
৬. পর্যাপ্ত না ঘুমানো
যদি পর্যাপ্ত ঘুম না হয়, তবে শরীরে ইনসুলিনের মাত্রা কমে যায়। এর ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ার আশঙ্কা থাকে। চেষ্টা করা উচিত প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়ার। এছাড়া ঘুমানোর আগে মুঠোফোন বা ডিজিটাল পর্দা থেকে দূরে থাকা উচিত।
৭. ওষুধে অনিয়ম
কিছু কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে রক্তে শর্করা বাড়তে পারে। এজন্য চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া কোনো ওষুধ গ্রহণ করা উচিত নয়। ওষুধের রুটিনে পরিবর্তন আনার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা উচিত।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন