প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কাতারের রাজধানী দোহায় এক ফিলিস্তিনি নারীর ব্যাগ চুরি করার পর, সেটি আবার সসম্মানে ফেরত দিয়ে গেছে এক চোর! ব্যাগটি ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি, নিজের ভুলের জন্য অনুতপ্ত হয়ে একটি ক্ষমা প্রার্থনার চিঠি রেখে গেছে সে। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া এই অদ্ভুত ও ব্যতিক্রমী ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানায়, ওই ফিলিস্তিনি নারী সকালে ঘুম থেকে উঠে নিজের বাড়ির দরজার সামনে চুরি হওয়া ব্যাগটি অক্ষত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। ব্যাগের ভেতরে থাকা ২৭৫ মার্কিন ডলার (নগদ অর্থ), গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত নথিপত্র এবং চিকিৎসার কাগজপত্র—সবকিছুই একদম ঠিকঠাক ছিল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্যাগটি চুরি করার পর চোর যখন ভেতরের নথিপত্র এবং চিকিৎসার কাগজগুলো পরীক্ষা করছিল, তখন সে জানতে পারে ব্যাগের মালিক একজন ফিলিস্তিনি নারী এবং তিনি একটি শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেন। এই সত্যটি জানার পর চোরের বিবেক জাগ্রত হয় এবং সে ব্যাগটি ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
ব্যাগটির সাথে চোর একটি হাতে লেখা চিরকুট বা ক্ষমা প্রার্থনার নোট রেখে যায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সেই চিঠির একটি সংস্করণে লেখা ছিল, “আমাকে ক্ষমা করে দিন। আমি জানতাম না যে আপনি একজন ফিলিস্তিনি। যদি আগে জানতাম, তবে আমি কখনই আপনার জিনিস চুরি করতাম না।”
চিঠির আরেকটি সংস্করণে লেখা ছিল, “আমাদের ক্ষমা করবেন। আপনি ফিলিস্তিনি তা জানা থাকলে আমরা কখনই এই কাজ করতাম না। আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত।”
এই অদ্ভুত ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নেটিজেনদের মধ্যে বেশ রসাত্মক ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই চোরের এই জাতীয়তাবোধ এবং সহানুভূতির প্রশংসা করে তাকে রসিকতার ছলে “নীতিবান চোর” বলে আখ্যা দিয়েছেন। তবে কেউ কেউ বলছেন, চুরি অপরাধই, তবে ফিলিস্তিনিদের প্রতি এই চোরের আবেগ ও সম্মান প্রদর্শনের বিষয়টি সত্যিই বিরল।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন