প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ৪ নভেম্বর, ২০২৬ : জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম মন্তব্য করেছেন যে, বাংলাদেশকে অভিবাসন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলা প্রয়োজন।
তিনি উল্লেখ করেন, অভিবাসন শুধুমাত্র বিদেশ থেকে পাঠানো অর্থের বিষয় নয়। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে আমাদের মানুষের অধিকার, মর্যাদা এবং নিরাপত্তা। এই রেমিট্যান্সের পেছনে রয়েছে সাধারণ নাগরিকদের কষ্ট ও সীমাহীন দুঃখ-দুর্দশা।
আজ রাজধানীর ওয়েস্টিন, ঢাকা হোটেলে ওয়ারবি ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন কর্তৃক আয়োজিত ‘অভিবাসন, অধিকার ও উন্নয়ন বিষয়ক ককাসের উদ্বোধন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক।
অনুষ্ঠানে সংসদীয় ককাসের সভাপতি এবিএম মোশাররফ হোসেন এবং ককাস সচিবালয়ের সভাপতি সৈয়দ সাইফুল হক স্বাগত বক্তব্য দেন। উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন সংসদীয় ককাসের মহাসচিব এমপি মাহমুদা হাবিবা।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশের অভিবাসী শ্রমিকদের দুঃখ-কষ্ট লাঘবের জন্য আমাদের সচেতন হতে হবে। নারী শ্রমিকরা অভিবাসন গন্তব্যে অবর্ণনীয় কষ্টের শিকার হন। আমাদের প্রচলিত আইনের প্রয়োগের মাধ্যমে অভিবাসন নীতিমালা বাস্তবায়ন করতে হবে এবং অভিবাসন গন্তব্য দেশগুলোর সঙ্গে শ্রমিকদের স্বার্থ সংরক্ষণে আলোচনা করতে হবে।
স্পিকার আরও বলেন, বিগত স্বৈরাচারী সরকারের শাসনামলে বিদেশে কর্মী প্রেরণে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হয়েছে।
শ্রমিক প্রেরণে অব্যবস্থাপনা এবং দালালদের দৌরাত্ম্যের কারণে বিগত বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে প্রবাসী কর্মী প্রেরণ বন্ধ রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই সর্বদলীয় ককাসের মাধ্যমে সংসদ সদস্যগণ বিদেশে কর্মী প্রেরণে সহায়তা এবং মাঠপর্যায়ে অভিবাসন আইনের সঠিক বাস্তবায়ন তদারকি করবেন।
ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, প্রবাসী শ্রমিকদের পাঠানো রেমিট্যান্স আমাদের অর্থনীতির চালিকাশক্তি। তিনি জানান, প্রবাসী শ্রমিকরা অভিবাসন গন্তব্যে দীর্ঘমেয়াদে নিপীড়ন ও শোষণের শিকার হয়ে আসছেন। তিনি বলেন, কূটনৈতিক মিশনগুলোর মাধ্যমে অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার সংরক্ষণে পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মো. তৌফিকুর রহমান, উইটনেস ফাউন্ডেশনের সভাপতি শিপা হাফিজা, আইএলও’র জাতীয় কর্মসূচি ব্যবস্থাপক রাহনুমা সালাম খান, আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার শাহরিন মুনির এবং উইনরক ইন্টারন্যাশনালের কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভ দিপ্তা রক্ষিত প্যানেল আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন।
প্যানেল আলোচকগণ প্রবাসীদের নিরাপদ অভিবাসন, মনোসামাজিক ও আর্থসামাজিক সুরক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়া, মানবপাচার বন্ধে সরকারের অভিবাসন নীতির প্রয়োগের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে ককাসের নির্বাহী কমিটির সদস্যবৃন্দ, মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবৃন্দ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, অভিবাসন বিশ্লেষক ও আলোচকবৃন্দ, আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ এবং গণমাধ্যমকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন