প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) স্বাধীনতা হলে মশার উপদ্রবে ভোগান্তিতে পড়েছেন আবাসিক শিক্ষার্থীরা।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) হলের মধ্যে অবস্থানরত সাধারণ শিক্ষার্থীরা জানাচ্ছেন, মশার উৎপাত দিন-রাত তাদের পড়াশোনা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় বাধা সৃষ্টি করছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, মশার উপদ্রব বৃদ্ধি পাওয়ার পরেও হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে না। দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে থাকায় তারা দ্রুত মশা নিধনের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হলের আশপাশে ঝোপঝাড় ও আগাছা, পানি নিষ্কাশনের ড্রেন এবং ময়লা ফেলার স্থান নিয়মিত পরিষ্কার না করায় মশার উপদ্রব বাড়ছে। এছাড়া নিয়মিত মশানাশক ওষুধ ছিটানো হচ্ছে না বলেও অভিযোগ রয়েছে। এতে ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া ও চিকুনগুনিয়া সহ মশাবাহিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন শিক্ষার্থীরা।
স্বাধীনতা হলের আবাসিক শিক্ষার্থী আল-আমিন আরটিভিকে বলেন, "মশার উপদ্রব একদম অস্বাভাবিক। সব সময় মশার প্যানপ্যানানি শব্দ আছেই। মনে হয় যেন সব সময়ই বিশ্ববিদ্যালয়ে কনসার্ট চলে!" তিনি আরও জানান, সন্ধ্যার পর মশার সংখ্যা বেড়ে যায় এবং কয়েল জ্বালানো বা মশারি টাঙানো ছাড়া পড়ালেখা করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। রাতে ঘুমাতেও সমস্যা হচ্ছে এবং মশার কামড় থেকে বাঁচতে সব সময় সতর্ক থাকতে হচ্ছে।
স্বাধীনতা হলের আরেক শিক্ষার্থী জান্নাতুল ইসলাম জারিফ আরটিভিকে বলেন, "আমরা যারা নিচের তলার কক্ষগুলোতে থাকি, তারা মশার সহজ শিকারে পরিণত হচ্ছি।" তিনি বলেন, হলের চারপাশের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা এর মূল কারণ। সন্ধ্যা হওয়ার পর থেকেই মনে হয় যেন মশার রাজ্যে বসবাস করছি। তিনি অভিযোগ করেন, "মশারি টাঙালেও মশার অত্যাচার থেকে রেহাই পাওয়া যায় না।" এ বিষয়ে হল প্রশাসনের উদ্যোগ নেই বললেই চলে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাধীনতা হলের প্রভোস্ট আল ফাহাদ ভূঁইয়া আরটিভিকে জানান, "স্বাধীনতা হলের পাশে ময়লা ফেলার সমস্যা দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে।" তিনি বলেন, "এ বিষয়ে আমাদের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।" তিনি জানান, মশার উপদ্রব কমাতে ফগার মেশিন ব্যবহার করা হবে।
তিনি আরও বলেন, "ময়লা ফেলার কারণে আশপাশের পরিবেশ দূষিত হচ্ছে এবং জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে।" তিনি উল্লেখ করেন, "আগে পৌরসভা থেকে ময়লা সংগ্রহ করা হতো। কিন্তু বর্তমানে পৌরসভা ময়লা সংগ্রহ করছে না বলে জানানো হয়েছে।" বিষয়টি প্রো-ভিসি স্যারকে জানানো হয়েছে এবং তিনি এ বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেন, তা দেখতে হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, "ময়লা ব্যবস্থাপনার সমস্যার স্থায়ী সমাধান হোক এবং হলের আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকুক।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন