প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
স্পেনে দুটি দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষের ফলে অন্তত ৬৮ জনের মৃত্যু হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছেন। বুধবার এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
সানচেজ দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে বলেছেন, ‘পুরো স্পেন শোকাহত।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, একই বছরে স্পেনের মতো একটি দেশে এ ধরনের দুটি ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটার বিষয়টি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
টাইমস অব ওমানের রিপোর্ট অনুযায়ী, বুধবারের প্রাণঘাতী ট্রেন দুর্ঘটনার পর স্পেন সরকারের পদত্যাগের দাবিতে মাদ্রিদে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিক্ষোভের এক পর্যায়ে সহিংসতা দেখা দেয়। স্পেনের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম টিভিই জানিয়েছে, কট্টর ডানপন্থী গোষ্ঠীগুলো পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সামনে এই বিক্ষোভের আয়োজন করে। এতে প্রায় ১ হাজার ৫০০ জন অংশগ্রহণ করে।
বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ ঘটে। জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। বুধবারের ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনার পর এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। দুর্ঘটনায় অন্তত ৬৮ জন নিহত হয়েছে এবং প্রায় ৫০ জন গুরুতর আহত হয়েছে।
স্পেনের প্রতি সংহতি জানিয়ে বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে ইউরোপীয় কমিশনের সদর দপ্তরের বাইরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে। ইউরোপীয় কমিশন জানিয়েছে, স্পেন তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করার পর পতাকাগুলো অর্ধনমিত করা হয়।
আজ সকালে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ তিন দিনের শোক ঘোষণার সিদ্ধান্ত জানান। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বুধবারের এ দুর্ঘটনায় অন্তত ৬৮ জন নিহত হয়েছে। এটি ২০১৩ সালের পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতী ট্রেন দুর্ঘটনা।
আঞ্চলিক জরুরি সেবাদানকারী সংস্থা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক হালনাগাদ তথ্যে জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর কাস্তিয়া-লা মাঞ্চা অঞ্চলের বিভিন্ন হাসপাতালে অন্তত ১০৭ জন ভর্তি রয়েছে। স্পেনের সংবাদমাধ্যম এল পাইসের তথ্য অনুযায়ী, তাদের মধ্যে ১৮ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। দুর্ঘটনাটি কাস্তিয়া-লা মাঞ্চা অঞ্চলের উর্দা শহরের কাছে ঘটে।
মাদ্রিদ থেকে দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর সেভিলের মধ্যে চলাচলকারী দুটি দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষে অন্তত ৬৮ জন নিহত হয়েছেন। সরকারি সংস্থা রেনফের পরিচালিত একটি ট্রেনের সঙ্গে বেসরকারি সংস্থা ইরিওর পরিচালিত আরেকটি ট্রেনের সংঘর্ষ ঘটে। রেললাইনের সামনে থেমে থাকা ইরিওর ট্রেনটির পেছনে ধাক্কা দেয় রেনফের ট্রেনটি।
বুধবার সকাল ৯টার কিছু পর টলেডো শহরের কাছে মোরা ও অর্গাজ শহরের মধ্যবর্তী স্থানে এই দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুটি ট্রেনে প্রায় ৫৪০ জন যাত্রী ছিলেন। এই ঘটনায় আহত হয়েছে আরো ১০০ জনের বেশি মানুষ।
ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বুধবারের জন্য নির্ধারিত স্পেনের ফুটবল কাপের ২০টিরও বেশি ম্যাচ স্থগিত করেছে দেশটির ফুটবল ফেডারেশন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন