প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বরিশালের উজিরপুর উপজেলার ৮৪ নম্বর রাখালতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ অফিস কক্ষে চরম দুর্ভোগ ও ঝুঁকির মধ্য দিয়ে চলছে দাপ্তরিক কার্যক্রম। সামান্য বৃষ্টিতেই ছাদ চুইয়ে পানি পড়ায় মাথায় পলিথিন দিয়ে অফিস করতে হচ্ছে শিক্ষকদের। একই সঙ্গে ভিজে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে বিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র, আসবাবপত্র ও শিক্ষাসামগ্রী।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৪৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এ বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন ধরে অবকাঠামোগত সংকটে রয়েছে। প্রতিষ্ঠার পর এত বছর পেরিয়ে গেলেও বিদ্যালয়ের জন্য একটি আধুনিক ও টেকসই অফিস ভবন নির্মাণ করা হয়নি। বর্তমানে ব্যবহৃত জরাজীর্ণ অফিস কক্ষে বৃষ্টি হলেই বিভিন্ন স্থান দিয়ে পানি পড়ে, ফলে স্বাভাবিকভাবে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে ওঠে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা শাহানাজ পারভীন বলেন, উপজেলা প্রশাসনের নিকটবর্তী স্থানে বিদ্যালয়টি অবস্থিত হলেও বহুবার ভবন নির্মাণ ও সংস্কারের আবেদন জানানো হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর উদ্যোগ বা বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। ফলে শিক্ষকরা প্রতিনিয়ত দুর্ভোগের মধ্যে দায়িত্ব পালন করছেন এবং শিক্ষার্থীদের পাঠদানও ব্যাহত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বৃষ্টির সময় গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও অফিসের আসবাবপত্র রক্ষায় নানা কৌশল অবলম্বন করতে হয়। কখনো মাথায় পলিথিন দিয়ে, কখনো নথিপত্র সরিয়ে রেখে কাজ চালাতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।
এ বিষয়ে উজিরপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম জানান, বিদ্যালয়টির ভবন নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ চেয়ে ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তালিকা পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলী সুজা বলেন, স্থায়ী ভবন নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত জরুরি ভিত্তিতে বিদ্যালয়টিকে ঢেউটিন দিয়ে সাময়িকভাবে সমস্যার সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এদিকে, বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত একটি পাকা অফিস ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে বিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগের অবসান ঘটাবে এবং একটি নিরাপদ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন