প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
হিমালয়ের দ্বিতীয় উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘার অপরূপ সৌন্দর্য একবারের জন্য দেখার উদ্দেশ্যে পঞ্চগড়ে হাজারো প্রকৃতিপ্রেমী ভিড় করেছেন। পূজার ছুটির সময় হিমালয়কন্যা পঞ্চগড়ের হোটেল, হোমস্টে এবং তেঁতুলিয়ার ডাকবাংলোতে পর্যটকদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। শুক্রবার ভোর থেকে তারা উত্তর আকাশের দিকে তাকিয়ে কাঞ্চনজঙ্ঘার দর্শনের অপেক্ষায় ছিলেন। তবে মেঘ এবং কুয়াশার কারণে অনেকের জন্য কাঙ্ক্ষিত দৃশ্য অধরা থেকে গেছে। যদিও হালকা শীতের আমেজ এবং চা-বাগানের সৌন্দর্য উপভোগ করে অনেকে ছুটির আনন্দ খুঁজে নিচ্ছেন।
জানা যায়, শুক্রবার ভোর থেকেই পর্যটকরা উত্তর আকাশের দিকে দৃষ্টি রেখেছিলেন। তাদের আশা ছিলো ভোরের প্রথম আলোতে কাঞ্চনজঙ্ঘার রঙের খেলা উপভোগ করবেন। কেউ জীবনসঙ্গী নিয়ে, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে এবং কেউ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু প্রকৃতি বড়ই নিষ্ঠুর। কুয়াশা এবং কিছু মেঘ তাদের এবং কাঞ্চনজঙ্ঘার মাঝে একটি পর্দা তৈরি করেছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা অপেক্ষা করছেন, যদি দেখা মেলে। এভাবে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে এসে হাজারো পর্যটক হতাশ হয়েছেন।
অন্যদিকে, যখন নগরে গরমে মানুষ হাহাকার করছে, তখন হিমালয় কন্যায় হালকা শীত প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য একটি বাড়তি আনন্দ যোগ করেছে। অনেকেই জেলার সমতলের চা বাগান, বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট, মহারাজার দিঘী, ভিতরগড় দুর্গনগরী, মির্জাপুর শাহী মসজিদ এবং বোদেশ্বরী পীঠমন্দিরসহ সবুজ শ্যামল গ্রামবাংলা নদী পথ এবং মাঠ ঘাট ঘুরে সময় কাটাচ্ছেন।
দক্ষিণের আরেক প্রান্ত চট্টগ্রাম থেকে আসা রাইসুল ইসলাম বলেন, "প্রথমবার এসেছে নিজ দেশের মাটি থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখবো বলে। কিন্তু ভাগ্য আমাদের সহায় নয়। বড়ই হতাশ হয়েছি।"
ঢাকা থেকে আসা শহিদুল ইসলাম শামু বলেন, "কাঞ্চনজঙ্ঘা প্রতিদিনই দেখা যাবে এমন না। আকাশ পরিষ্কার থাকলে হয়তো দেখা পেতাম। তবে আশা ছাড়িনি। তবুও পরিবার নিয়ে সময় কাটাতে বেশ ভালো লাগছে।"
ঢাকা থেকে আসা রুবাইয়া শায়েরা বলেন, "ভোর থেকে বসে আছি কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার পাই নি। তবে এখানে আগাম শীত বেশ উপভোগ করছি।"
স্থানীয় বাসিন্দা রুবেল ইসলাম জানান, "তেঁতুলিয়ায় গত কয়েকদিনে হাজার হাজার পর্যটক এসেছে। এখানকার পর্যটন শিল্প বেশ জমে উঠেছে। পর্যটন এলাকা, হোটেল, হোম স্টে এবং খাবার হোটেল কোথাও ফাঁকা নেই। পর্যটকদের সংখ্যা অনেক বেড়েছে। তবে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা গেলে এই সংখ্যা আরও বাড়তো। এছাড়া আমাদের এলাকার প্রকৃতিক সৌন্দর্য কিন্তু কম নয়।"
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জীতেন্দ্রনাথ রায় বলেন, "কয়েকদিনের মধ্যে বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টি হলে কাঞ্চনজঙ্ঘা দৃশ্যমান হবে। অক্টোবরের শেষ এবং নভেম্বরের শুরুতে কাঞ্চনজঙ্ঘা ভালোভাবে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।"
পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক মোসা. শুকরিয়া পারভীন জানান, "পঞ্চগড়ের পর্যটন শিল্পের অন্যতম সমস্যা আবাসন সংকট। আমরা সরকারি এবং বেসরকারিভাবে এই আবাসন সংকট দূর করার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। সেই সাথে পর্যটকদের নিরাপত্তা জোরদার করতে ট্যুরিস্ট পুলিশের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন