প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দেশের বেসামরিক শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধান, ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের ‘ক্রসফায়ার’ সম্পর্কিত বক্তব্যকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান অত্যন্ত উদ্বেগজনক হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, পুলিশের প্রধানের এই মন্তব্য বিগত ফ্যাসিস্ট আমলের পুলিশের নিষ্ঠুর স্মৃতিগুলোকেই পুনরুজ্জীবিত করে।
সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে মাওলানা গাজী আতাউর রহমান এ মন্তব্য করেন।
বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, আজ এক অনুষ্ঠানে আইজিপি বলেছেন—‘ক্রসফায়ার যদি প্রয়োজন হয়, সরকার যদি অ্যালাউ করে, আমরা সেটাই করব।’ এই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করতে চাই, জনাব আলী হোসেন ফকির হালকা মেজাজে এ মন্তব্য করেছেন; যদিও রাষ্ট্রের এত গুরুত্বপূর্ণ ও দায়িত্বশীল পদে থেকে এমন সংবেদনশীল বিষয়ে হালকা মেজাজে মন্তব্য করার সুযোগ নেই।’
মাওলানা গাজী আতাউর রহমান আরও বলেন, ক্রসফায়ার সম্পর্কে পুলিশের প্রচলিত আনুষ্ঠানিক ভাষ্য হলো—অপরাধী চক্রের হামলার মুখে আত্মরক্ষার্থে পুলিশের পাল্টা গুলিবর্ষণের ফলে কথিত অপরাধীর মৃত্যু ঘটে। যদিও বাস্তবতা ভিন্ন, পুলিশ এতদিন এভাবে দায় এড়িয়ে এসেছে। কিন্তু আজ পুলিশ প্রধান যেভাবে ‘ক্রসফায়ার দেওয়ার’ কথা বললেন, তাতে স্পষ্টতই স্বীকার করা হলো যে, বিচারবহির্ভূতভাবে নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে টার্গেট করে গুলি করে হত্যা করাকেই তারা ক্রসফায়ার হিসেবে উল্লেখ করছেন। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—আইন, আদালত ও সংবিধানবহির্ভূত এবং মানবাধিকারের সুস্পষ্ট পরিপন্থি এমন কর্মকাণ্ড পরিচালনার পক্ষে পুলিশ প্রধান প্রকাশ্যে ঘোষণা দিচ্ছেন।
তিনি স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘সরকার চাইলেও জনগণের ট্যাক্সের টাকায় পরিচালিত একটি রাষ্ট্রীয় বাহিনী কোনোভাবেই এমন মানবতাবিরোধী কাজে লিপ্ত হতে পারে না। আইন ও স্বীকৃত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সরকারের বেআইনি নির্দেশ অন্ধভাবে মানার প্রবণতাই বিগত ফ্যাসিস্ট শাসনামলে দেশকে একটি নরকে পরিণত করেছিল। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর নতুন বাংলাদেশে পুলিশের মধ্যে সেই একই ফ্যাসিবাদী মনোভাব কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন