প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নাম 'শান্তি বেগম' হলেও তার কার্যক্রমে অশান্তির ছায়া বিরাজমান। সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতালি যাওয়ার প্রলোভন সৃষ্টি করে, ভাইয়ের মাধ্যমে লিবিয়ায় নিয়ে নির্যাতন চালানো হয়। সেই নির্যাতনের ভিডিও স্বজনদের পাঠিয়ে হাতিয়ে নেওয়া হয় লাখ লাখ টাকা। লিবিয়ায় মাফিয়াদের সাথে তাদের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। লোক ছাড়ানোর জন্য তারা চুক্তিও করতেন। এভাবে কোটি কোটি টাকা কামিয়ে নিজ এলাকায় গড়ে তুলেছেন আলিশান ভিলা। অথচ তার স্বামী শাহ আলম পেশায় একজন ভ্যানচালক। স্বামী ভ্যানচালক হওয়া সত্ত্বেও কিভাবে এমন অট্টালিকা গড়ে উঠল, তা নিয়ে এলাকায় চলছে নানা কানাঘুষা ও ক্ষোভ।
মাদারীপুর সদর উপজেলার কুনিয়া ইউনিয়নের ত্রিভাগদি গ্রামের তৈয়ব আলি ফকিরের মেয়ে শান্তি বেগম এবং তার ভাই সোহেল ফকিরের বিরুদ্ধে মানবপাচার ও নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সদর উপজেলার ত্রিভাগদি গ্রামে মানবপাচারকারী হিসেবে শান্তি বেগমের নাম বেশ পরিচিত। তিনি অবৈধপথে লিবিয়া হয়ে বহু লোককে ইতালি পাঠিয়েছেন। এই অপকর্মের মাধ্যমে তিনি প্রচুর অর্থ উপার্জন করেন। তার লোক পাঠানোর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকার যুবকরা প্রবাসে যাওয়ার জন্য তার কাছে ভিড় জমাতেন। এই সুযোগকে কাজে লাগাতেন তিনি। বিভিন্ন সময়ে লিবিয়ায় মাফিয়া চক্রের হাতে জিম্মি করার নাটক সাজিয়ে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হতো। টাকা দিতে না চাইলে চালানো হতো অমানবিক শারীরিক নির্যাতন। এসব নির্যাতনের মূল হোতা ছিলেন শান্তি বেগমের ভাই সোহেল ফকির। তাদের অত্যাচারে ইতিমধ্যে অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। অথচ প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
ভয় ও আতঙ্কের কারণে এলাকার অনেকেই ক্যামেরার সামনে মুখ খুলতে রাজি হননি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, এই ভাই-বোনের খপ্পরে পড়ে অনেকেই সর্বস্বান্ত হয়েছেন। তাদের পাঠানো অনেক তরুণের খোঁজ মেলেনি, আবার সাগরে বোড ডুবির ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে একাধিকবার। অত্যন্ত চালাক প্রকৃতির হওয়ায় এরা ভুক্তভোগীদের সাথে কৌশলে আপস করে ফেলতেন অথবা বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে মুখ বন্ধ রাখতেন। এলাকাবাসীর প্রশ্ন, এত গুরুতর অপরাধের পরও কীভাবে তারা প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে বহাল তবিয়তে এলাকায় অবস্থান করছে।
সদর উপজেলার শ্রীনদী এলাকার রায়কান্দি গ্রামের হাতিম মোল্লা নামের এক ভূক্তভোগী জানান, 'তার জামাতা শান্তি বেগমের মাধ্যমে লিবিয়া হয়ে ইতালি যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন এবং পরবর্তীতে সমুদ্রপথে নৌকা ডুবে তিনি নিহত হন। এছাড়াও আরও ১৩ জন ওই বোটে নিহত হন। ওই বোটে শান্তি বেগমের আরও বেশ কয়েকজন যাত্রী ছিলেন। তবে শান্তি বেগম বোট ডুবির ঘটনার পর এলাকার মাদবরদের ধরে আমাকে শালিসি মানাতে বাধ্য করা হয়। শালিসিতে আমাকে কিছু টাকাও দেয়া হয়। কিন্তু টাকায় কি সব পাওয়া যায়। আমি কি আমার জামাইকে ফেরত পাব।'
তিনি আরও বলেন, আমার মেয়ের ঘরে ৩ কন্যা সন্তান রয়েছে। তাঁরা এখনো অনেক ছোট। তাঁদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমি বেশ চিন্তায় আছি।
এ বিষয়ে শান্তি বেগমের বক্তব্য জানতে তার বাড়িতে গেলে স্বামী শাহ আলম দাবি করেন, তিনি ঢাকায় কাজে গেছেন। পরবর্তীতে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে মুঠোফোনে আলাপকালে শান্তি বেগম দাবি করেন, তিনি আগে এই কাজ করলেও গত দুই মাস ধরে লোক পাঠানো বন্ধ রেখেছেন। তবে নিহতের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।
অন্যদিকে, শান্তি বেগমের ভাই সোহেল ফকিরের খোঁজ নিতে বাড়িতে গেলে জানানো হয় তিনিও ঢাকায় আছেন। কিছু দিন হল দেশে ফিরেছেন। মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনিও একই দাবি করে জানান, তারা এখন আর লোক নেন না। এছাড়া নির্যাতন ও নিহতের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, ভুক্তভোগীদের সাথে তাদের আপস-মীমাংসা হয়ে গেছে।
এ ব্যাপারে মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ফারিহা রফিক ভাবনা জানান, শান্তি বেগম ও সোহেল ফকিরের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যদি কেউ অভিযোগ দেন, তাহলে দ্রুতই তাদের গ্রেফতার করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন