প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের জন্য আওয়ামী লীগের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক। তিনি অভিযুক্তদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন এবং গত ১৭ বছরে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে নিহত, আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারীদের রাষ্ট্রীয় ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি করেছেন। এই কথাগুলি তিনি মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২৪তম দিনে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও গণহত্যার বিচার’ শীর্ষক জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে বলেন। এসময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক বলেন, রাজনৈতিক সমঝোতার ভিত্তিতে ফ্যাসিবাদের বিচার প্রশ্নে জাতীয় ঐকমত্য গড়তে হবে। ভবিষ্যতে যাতে কোনো ফ্যাসিবাদী শক্তি ক্ষমতায় এসে গুম, খুন ও দমন-পীড়ন চালাতে না পারে, সেজন্য আওয়ামী লীগের দৃষ্টান্তমূলক বিচার প্রয়োজন। একইসঙ্গে অভিযুক্তদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের প্রয়োজনীয়তা তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, জুলাই-আগস্টের ৩৬ দিনের গণঅভ্যুত্থানেই শুধু নয়, গত ১৭ বছরে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে যারা আহত হয়েছেন বা স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ববরণ করেছেন, তাদের তালিকা প্রণয়ন করে রাষ্ট্রীয়ভাবে ক্ষতিপূরণ দেওয়া উচিত। বক্তৃতায় তিনি দাবি করেন, প্রতিবেশী একটি রাষ্ট্রের ষড়যন্ত্র এবং ওয়ান-ইলেভেন-পরবর্তী বিতর্কিত সরকারের নীলনকশার মাধ্যমে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ধ্বংস করে দেশকে একটি ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রে পরিণত করা হয়েছিল। প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক সেনাবাহিনীকে দুর্বল করে দেওয়ার উদ্দেশ্যে পিলখানা বিদ্রোহের নামে মেধাবী সেনা কর্মকর্তাদের হত্যা করেছিল। কারণ, ১৯৭১, ১৯৯০ এবং সর্বশেষ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সেনাবাহিনী যখনই জনবান্ধব অবস্থান নিয়েছে, তখনই জনগণের বিজয় নিশ্চিত হয়েছে।' প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'সেনাবাহিনীকে দুর্বল করার পাশাপাশি ইসলামপ্রিয় আলেম-ওলামাদের ওপর শাপলা চত্বরে নির্মম, নিষ্ঠুর ও বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছিল।' বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে সেনানিবাসের বাসভবন থেকে উচ্ছেদের প্রসঙ্গে নুরুল হক বলেন, 'জাতীয়তাবাদী শক্তির প্রতীক বেগম খালেদা জিয়াকে তার স্বামীর স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি থেকে পৈশাচিকভাবে বের করে দেওয়া হয়েছিল।' তিনি দাবি করেন, 'সে সময় উল্লাস করে বলা হয়েছিল যে যেদিন আমাকে ক্যান্টনমেন্টে ঢুকতে দেওয়া হয়নি, সেদিনই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম তাকে ওই বাড়ি থেকে বের করব।' বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তিনি প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাসী নন; বরং সংসদীয় বিতর্কের মাধ্যমে দেশ পরিচালনা করছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'দুঃখজনক হলেও সত্য, অনেক আহত ও পঙ্গু জুলাইযোদ্ধা যথাযথ চিকিৎসা না পাওয়ায় সুস্থ হয়ে উঠতে পারেননি। এর দায় অন্তর্বর্তী সরকারের সময় স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা খাতের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের নিতে হবে।' তিনি বলেন, 'বর্তমানে অনেকেই বিপ্লবী বক্তব্য দিচ্ছেন, অথচ তারা দীর্ঘ ১৮ মাস সরকারের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিলেন। কিন্তু ওই সময়ে আহতদের ক্ষতিপূরণ ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে কার্যকর কোনো পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়নি।' এমনকি আহতদের তালিকা প্রণয়নেও নানা ধরনের অনিয়ম ও নয়ছয়ের ঘটনা ঘটেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন