প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
শারীরিক চেহারার উন্নতি, ঘুমের মান বৃদ্ধি এবং নিজেকে উন্নত করার বিভিন্ন প্রচেষ্টা বর্তমানে ইন্টারনেটে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এই প্রবণতার প্রতিফলন হিসেবে ‘ম্যাক্সিং’ শব্দটিকে ২০২৬ সালের সেরা শব্দ হিসেবে ঘোষণা করেছে ‘ডিকশনারি ডটকম’।
শব্দটি একটি অনলাইন প্রবণতাকে নির্দেশ করে, যেখানে মানুষ জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সাফল্য অর্জনের জন্য চেষ্টা করে। এটি শারীরিক সৌন্দর্য বৃদ্ধি, ভালো ঘুম নিশ্চিত করা অথবা জীবনযাপনের মান উন্নত করার মতো বিষয়গুলোর সাথে সম্পর্কিত।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) ডিকশনারি ডটকম অনলাইন অনুসন্ধান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনা এবং সংবাদমাধ্যমে শব্দটির ব্যবহার বিশ্লেষণ করে এই ঘোষণা দেয়।
‘ম্যাক্সিং’ বলতে কী বোঝায়?
‘ম্যাক্সিং’ শব্দটি এসেছে ইংরেজি ‘ম্যাক্সিমাম’ এবং ‘ম্যাক্সিমাইজিং’ থেকে, যা নির্দেশ করে কোনো কিছুকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার ধারণাকে। জীবনের কোনো একটি দিক, অভ্যাস বা কাজকে যতটা সম্ভব উন্নত করার প্রচেষ্টাকেই ‘ম্যাক্সিং’ বলা হয়।
বিবিসি নিউজের তথ্য অনুযায়ী, ডিকশনারি ডটকমের নথিতে শব্দটির ব্যবহার দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৫ সালের মাসিক গড়ের তুলনায় ২০২৬ সালের আগস্টে ডিজিটাল মাধ্যমে শব্দটির ব্যবহার প্রায় ১৯ গুণ বেড়ে যায়।
শব্দটি এককভাবে ব্যবহারের পাশাপাশি অন্যান্য শব্দের সঙ্গেও যুক্ত হয়। যেমন শারীরিক সক্ষমতা বাড়ানোর প্রচেষ্টাকে বলা হয় ‘জিমম্যাক্সিং’, ঘুমের মান উন্নত করার প্রচেষ্টাকে ‘স্লিপম্যাক্সিং’ এবং প্রোটিন গ্রহণের পরিমাণ বাড়ানোর প্রচেষ্টাকে ‘প্রোটিনম্যাক্সিং’ বলা হয়।
অর্থাৎ, নিজের কোনো একটি দিককে যতটা সম্ভব উন্নত বা সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টাই হলো ‘ম্যাক্সিং’।
‘ম্যাক্সিং’ কীভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠল?
এই শব্দটির উৎপত্তি মূলত গেমিং বা ভিডিও গেমের পরিভাষা থেকে এসেছে। গেমিংয়ে ‘মিন-ম্যাক্সিং’ নামে একটি ধারণা বিদ্যমান, যেখানে বিশেষ সুবিধা পাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট কিছু সক্ষমতাকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে শক্তিশালী করা হয়।
বর্তমানে এর জনপ্রিয়তার সঙ্গে ‘লুকসম্যাক্সিং’-এর গভীর সম্পর্ক রয়েছে। এটি এমন একটি অনলাইন প্রবণতা, যা মূলত শারীরিক চেহারার উন্নতির ওপর গুরুত্ব দেয়। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘ম্যাক্সিং’ প্রবণতাটি প্রথমে পুরুষ-প্রধান অনলাইন কমিউনিটিগুলোতে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং পরে এটি মূলধারার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
তবে এই প্রবণতার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছু উদ্বেগও তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে, সৌন্দর্য নিয়ে অবাস্তব মানদণ্ড তৈরি হওয়া এবং সব সময় নিজেকে উন্নত করার চাপ মানুষের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
‘ম্যাক্সিং’ কেন বেছে নেওয়া হলো?
ডিকশনারি মিডিয়া গ্রুপের অভিধান প্রণয়ন বিভাগের পরিচালক স্টিভ জনসন সিবিএস নিউজকে বলেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে শব্দটির ব্যাপক ব্যবহারই ‘ম্যাক্সিং’কে ২০২৬ সালের সেরা শব্দ হিসেবে বেছে নেওয়ার অন্যতম কারণ।
প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ‘লুকসম্যাক্সিং’ শব্দটির ব্যবহার ১ হাজার শতাংশেরও বেশি বেড়েছে। শব্দটি মূলত নিজের শারীরিক সৌন্দর্য ও চেহারার আকর্ষণীয়তা বাড়ানোর প্রচেষ্টাকে নির্দেশ করে।
কর্মক্ষেত্রেও ‘ম্যাক্সিং’ শব্দটির ব্যবহার ছড়িয়ে পড়েছে। এর একটি উদাহরণ হলো ‘টোকেনম্যাক্সিং’। এর মাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ব্যবহার যতটা সম্ভব বাড়ানোর প্রবণতাকে বোঝানো হয়।
ডিকশনারি ডটকমের ২০২৬ সালের সেরা শব্দ নির্বাচনের ধারাবাহিকতায় রয়েছে ২০২৫ সালের বিজয়ী শব্দ ‘৬৭’। ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া এই শব্দটি মূলত অদ্ভুত ও অর্থহীন ধরনের হাস্যরসের সঙ্গে যুক্ত।
‘ম্যাক্সিং’ শব্দটিকে বছরের সেরা শব্দ হিসেবে বেছে নেওয়ার মাধ্যমে আধুনিক ইংরেজি ভাষায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এটি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, শারীরিক সৌন্দর্য উন্নত করা এবং ব্যক্তিগত জীবনে আরো ভালো করার প্রতি মানুষের ক্রমবর্ধমান আগ্রহেরও প্রতিফলন ঘটায়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন