প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ মন্তব্য করেছেন, নারীর টেকসই ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার জন্য শুধুমাত্র প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করলেই হবে না। নারীদের আত্মবিশ্বাস, যোগাযোগদক্ষতা এবং অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করার পাশাপাশি পারিবারিক ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনও অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে, গ্রামীণ ও অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা নারীদের ক্ষমতায়নে তাদের পরিবারকে সম্পৃক্ত করে কার্যকর কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) রাজধানীর বনানীর শেরাটন হোটেলে কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (কোইকা) এবং ইউনিসেফের যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়িত ‘হার স্কিলস, হার ফিউচার’ প্রকল্পের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরে থাকা কিশোরী ও তরুণীদের দক্ষতা উন্নয়নের কর্মসূচি তৈরির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতাগুলোকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা প্রয়োজন। একজন নারীকে তার পরিবার থেকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখা উচিত নয়। যদি পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করা যায়, তাহলে নারীর ব্যক্তিগত সক্ষমতা এবং অর্থনৈতিক স্বাধীনতা অর্জনের পথ আরও সহজ হবে।
তিনি বলেন, নারীর ক্ষমতায়নকে একটি সাধারণ ধারণা হিসেবে না দেখে বরং ব্যক্তিগত, শিক্ষাগত এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের বিষয়গুলো আলাদাভাবে চিহ্নিত করে সমন্বিত কর্মসূচি গ্রহণ করা উচিত। একজন নারীকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার আগে তার আত্মবিশ্বাস, নিজের অধিকার সম্পর্কে ধারণা এবং জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা তৈরি করাও অপরিহার্য।
যোগাযোগদক্ষতার গুরুত্ব তুলে ধরে ববি হাজ্জাজ বলেন, নারীদের জন্য তাদের দক্ষতা ও সম্ভাবনা অন্যের কাছে যথাযথভাবে উপস্থাপন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি একজন নারী তার কাজ, পণ্য বা সেবার গুণাগুণ কার্যকরভাবে উপস্থাপন করতে পারে, তাহলে কর্মসংস্থান এবং উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ বৃদ্ধি পাবে। এ কারণে নারীদের দক্ষতা উন্নয়নের কর্মসূচিতে যোগাযোগদক্ষতা এবং আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধির বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিতে হবে।
বাল্যবিয়ে প্রতিরোধের প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ, সামাজিক চাপ এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে অনেক সময় মেয়েদের অল্প বয়সে বিয়ে দেওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। এসব বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে পরিবারগুলোর দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনে কাজ করতে হবে। মেয়েদের শিক্ষা, দক্ষতা অর্জন এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ বৃদ্ধি পেলে তারা নিজেদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতাও বৃদ্ধি পাবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউনিসেফ বাংলাদেশের শিক্ষা বিভাগের প্রধান দীপা শঙ্কর। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউনিসেফ বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী প্রতিনিধি জিলিয়ান মেলসপ এবং কোইকা বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর জিহুন কিম।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন