প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে আয়োজিত উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় স্থানীয় প্রতিনিধি ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। মাদক কারবারিদের অর্থ নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ, কথিত ‘ক্যাশিয়ার’ রাখা এবং পুরস্কারপ্রাপ্ত কৃষকের বিরুদ্ধে মামলা করার মতো বিষয়গুলো নিয়ে সংক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করা হয়েছে।
সোমবার সকালে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় রাজনৈতিক প্রতিনিধি, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহরাম আলী অভিযোগ করেন, অনেক সময় মাদক কারবারিদের গ্রেপ্তার করার পর অর্থ নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক চিকিৎসক কমল কদর দাবি করেন, মাদক কারবারিরা থানার কথিত এক ব্যক্তির সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের কথা বলে থাকে। তবে এসব দাবির সপক্ষে সভায় কোনো দাপ্তরিক প্রমাণ বা নথি উপস্থাপন করা হয়নি।
অভিযোগ অস্বীকার করে সীতাকুণ্ড থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবু হেনা মোস্তফা কামাল বলেন, থানায় তথাকথিত কোনো ‘ক্যাশিয়ার’ বা অর্থ সংগ্রাহক নেই। তিনি উল্লেখ করেন, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশ সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও কঠোর অবস্থানে থেকে কাজ করছে।
সভায় আলোচনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল সারবোঝাই ট্রাকের কাগজপত্র পরীক্ষা করতে গিয়ে জাতীয় কৃষি পুরস্কারপ্রাপ্ত কৃষক মো. আইয়ুব আলীর গ্রেপ্তার ও মামলা। উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব মো. মোরসালিন অভিযোগ করেন, কৃষি দপ্তরের পরামর্শে সার পরিবহনের সঠিকতা যাচাই করতে গেলে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা দেওয়া হয়। অন্যদিকে পুলিশ জানিয়েছে, সারগুলো নিলামে কেনা হয়েছিল এবং স্থানান্তরের বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও চলাচলে বাধা দেওয়ায় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া সভায় সীতাকুণ্ড মডেল থানা, বার আউলিয়া হাইওয়ে থানা ও কোস্ট গার্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রধানদের অনুপস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জহুরুল আলম জহুর। তিনি উপকূলীয় অঞ্চলে অবৈধ বালু উত্তোলন ও সংঘাতের বিষয়গুলো তদন্তের আহ্বান জানান।
কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতি প্রসঙ্গে ইউএনও মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিদের বাধ্যতামূলক উপস্থিত করানোর আইনি সুযোগ নেই। তবে অনুপস্থিতির এ ধারা অব্যাহত থাকলে বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হবে।
সভায় সম্প্রতি সলিমপুর এলাকায় বীর মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে ডাকাতি, বৈদ্যুতিক সার্ভিস তার ও কৃষিসরঞ্জাম চুরির ঘটনা নিয়েও গভীর উদ্বেগ ব্যক্ত করেন অংশগ্রহণকারীরা। সচেতন মহলের মতে, উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সুনির্দিষ্ট তথ্যভিত্তিক তদন্ত, পুলিশের স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ এবং সব সংস্থার পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে কেবল এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন