প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণের সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং। ২০২০ সালের গালওয়ান উপত্যকার রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর এই প্রথমবার ভারতীয় মাটিতে দুই দেশের শীর্ষ নেতার এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। যদিও বিশ্লেষকদের একটি অংশ এটিকে ভারত-চীন সম্পর্কের ‘নতুন সূচনা’ বা সংঘাত কাটিয়ে বরফ গলার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন, বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন কথা বলছে। এই সম্পর্কের উন্নয়ন উত্তেজনা কমানোর একটি প্রচেষ্টা মাত্র, তবে এটি গভীর সীমান্ত বিরোধ ও কূটনৈতিক দূরত্বকে ঢাকার মতো কোনো যুগান্তকারী পরিবর্তন নয়।
দ্য ডিপ্লোমেটের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে, বৈঠকটি ইতিবাচক মনে হলেও দুই দেশের মৌলিক মতপার্থক্যগুলো এখনও অমীমাংসিত রয়ে গেছে। বিশেষ করে সীমান্ত সমস্যা, লাদাখ ইস্যুতে চীনের অবস্থান, পাকিস্তানের সঙ্গে বেইজিংয়ের ঘনিষ্ঠতা এবং দীর্ঘদিনের বাণিজ্য ঘাটতি—এসব স্পর্শকাতর বিষয়ে কোনো ইতিবাচক অগ্রগতি হয়নি। বৈঠকের পর কোনো যৌথ বিবৃতিও প্রকাশিত হয়নি। চীনা বিবৃতিতে তিব্বত ও তাইওয়ানের উল্লেখ থাকলেও ভারতীয় বিবৃতিতে তা অনুপস্থিত ছিল। বেইজিং ভারতকে ‘অংশীদার’ হিসেবে উল্লেখ করলেও নয়াদিল্লি একই পরিভাষা ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বন করেছে, যা দুই দেশের রাজনৈতিক ব্যবধানকে স্পষ্ট করে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক ভারত-মার্কিন সম্পর্কের টানাপোড়েন বা ওয়াশিংটনের নীতি পরিবর্তনের কারণে ভারতের এই চীন-বান্ধব মনোভাব তৈরি হয়েছে—এমন ধারণা করা ভুল হবে। ভারত শুরু থেকেই নিজের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন বজায় রেখে নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখোমুখি হয়েছে। আরেকটি সীমান্ত সংঘাত এড়ানো নয়াদিল্লির অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক অগ্রাধিকার, আর সে কারণেই আলোচনার পথ খোলা রাখা হয়েছে। গালওয়ান সংঘাতের পর থেকে ‘হ্যান্ড-ইন-হ্যান্ড’ সামরিক মহড়াসহ নিরাপত্তা সহযোগিতা বন্ধ রয়েছে এবং বিশ্বাস পুনরুদ্ধারের পথ এখনও সুদূরপ্রসারী।
সব মিলিয়ে, শীর্ষ পর্যায়ের এই বৈঠকটি নতুন করে যুদ্ধ বা উত্তেজনা বৃদ্ধি ঠেকানোর একটি সাময়িক সমাধান হতে পারে, তবে একে সম্পর্কের মৌলিক পরিবর্তন বলা যায় না। যতক্ষণ না অমীমাংসিত সীমান্ত বিরোধের স্থায়ী সমাধান হচ্ছে এবং বেইজিং ভারতের সার্বভৌমত্বকে সম্মান জানাচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত ভারত-চীন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ২০২০-পূর্ববর্তী স্থিতাবস্থায় ফিরে যাওয়ার বা কোনো বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা বেশ ক্ষীণ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন