প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জুলাই মাসের অভ্যুত্থানকালে রাজধানীর রামপুরায় একটি ভবনের কার্নিশে ঝুলে থাকা আমির হোসেন নামে এক যুবককে গুলিসহ দুজনকে হত্যার অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ঢাকা মহানগর পুলিশের সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ পুলিশের পাঁচজনের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করা হয়েছে।
রায়ে সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান সহ ৩ পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন ট্রাইব্যুনাল। একসাথে, গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকা রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে ২০ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে। পলাতক রামপুরা থানার সাবেক এসআই তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়াকেও যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
রোববার (২৬ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজমুদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য সদস্যরা হচ্ছেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান ছাড়াও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য দুইজন হলেন খিলগাঁও জোনের সাবেক এডিসি মো. রাশেদুল ইসলাম ও রামপুরা থানার সাবেক ওসি মো. মশিউর রহমান।
এদিন বেলা ১১টা ৪৮ মিনিট থেকে রায় পড়া শুরু হয়। প্রথমেই রায়ের কার্যক্রম বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) সরাসরি সম্প্রচারের জন্য অনুমতি চেয়ে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। এরপর অনুমতি সাপেক্ষে এ কার্যক্রম বিটিভিতে সরাসরি দেখানো হয়।
শুরুতেই এই মামলার আসামিদের দায় পড়ে শোনান ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা। এরপর চার্জ পড়েন বিচারক মোহিতুল হক এনাম। এবং রায় ঘোষণা করেন বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ।
রায় ঘোষণার কার্যকম শুরুর আগে, বেলা ১১টা ৩৫ মিনিটে একমাত্র গ্রেপ্তার আসামি রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে এজলাসে তোলা হয়। মামলার অপর চার আসামি পলাতক অবস্থায় রয়েছেন।
প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই ছাত্র-জনতার আন্দোলনে পুলিশের গুলি থেকে প্রাণ বাঁচাতে রামপুরার বনশ্রী-মেরাদিয়া সড়কে থাকা একটি নির্মাণাধীন ভবনে ওঠেন আমির হোসেন। ওই সময় পুলিশ তার পিছু-ফুসলে যায়। একপর্যায় ছাদের কার্নিশের রড ধরে ঝুলে থাকার সময় তার ওপর ছয় রাউন্ড গুলি ছোড়ে এক পুলিশ সদস্য। এতে তিনি জীবন বাঁচালেও গুরুতর আহত হন। একই দিন বনশ্রী এলাকায় পুলিশের গুলিতে নাদিম ও মায়া ইসলাম নিহত হন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন