প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলায় ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবন একপ্রকার স্থবির হয়ে পড়েছে। দিনে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গড়ে মাত্র ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং অতিরিক্ত গরমে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন এবং শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়ালেখা ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কিছুদিন ধরে গোমস্তাপুর পৌরসভাসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বিদ্যুতের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। দিনে-রাতে মিলিয়ে মাত্র ৬-৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়ার কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যে চরম ধস নেমেছে। বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান, রাইস মিল, ওয়েল্ডিং কারখানা, ফটোকপি ও কম্পিউটার কেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা অলস সময় কাটাচ্ছেন, ফলে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তাঁরা।
তীব্র তাপপ্রবাহের সঙ্গে এই রেকর্ড পরিমাণ লোডশেডিংয়ের কারণে এলাকাবাসী চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন। বিশেষ করে শিশু এবং বয়োবৃদ্ধরা হিটস্ট্রোক, পানিশূন্যতা ও ডায়রিয়াসহ গরমজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং স্থানীয় ক্লিনিকগুলোতে গরমজনিত রোগীর চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এদিকে, লোডশেডিংয়ের কারণে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। রাতে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় এবং গরমে পড়ার টেবিলে বসা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামনে বিভিন্ন পরীক্ষা থাকলেও বিদ্যুৎ না থাকার কারণে শিক্ষার্থীরা সঠিকভাবে প্রস্তুতি নিতে পারছেন না।
এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, "দিনে-রাতে কতবার যে বিদ্যুৎ যায় আর আসে, তার হিসাব নেই। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অর্ধেকের বেশি সময় বিদ্যুৎ থাকে না। গরমে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে, আর বাচ্চাদের পড়ালেখার তো চরম ক্ষতি হচ্ছে।"
বিদ্যুৎ বিভাগের স্থানীয় কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা জানান, চাহিদার তুলনায় প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ না পাওয়ায় জাতীয় গ্রিড থেকেই সরবরাহ কম রয়েছে। তবে তাঁরা আশ্বস্ত করেন যে, এ সংকট দ্রুত কাটিয়ে উঠে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
সামগ্রিক পরিস্থিতিতে দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করে জনজীবনকে দুর্ভোগ মুক্ত করার জন্য গোমস্তাপুরের ভুক্তভোগী এলাকাবাসী ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন