প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
টানা পাঁচদিন অবিরাম বর্ষণের ফলে এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে।
এখন বহু মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে, কারণ উপজেলার বিস্তীর্ণ নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। সড়কগুলো তলিয়ে যাওয়ার কারণে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হচ্ছে। তাছাড়া বিস্তীর্ণ ফসলি জমিগুলো প্লাবিত হয়ে গেছে এবং হালদা নদী ও ধুরুং খালের বেড়িবাঁধ ভেঙে যাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ফটিকছড়ির বিভিন্ন ইউনিয়নে ঘুরে দেখা যায়, একটার পর এক গ্রাম বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে খেটে খাওয়া মানুষ এবং স্থানীয় কৃষকদের।
বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে পাইন্দং ফকিরাচাঁন এলাকা, রোসাংগিরি ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড, সমিতিরহাট, সুয়াবিল, বক্তপুর এবং হারুয়ালছড়িসহ নীচু এলাকার শত শত একর আবাদি জমি। বিশেষ করে এই মৌসুমের আমন চাষের বীজতলা ও বিভিন্ন শাকসবজির ক্ষেত এখন পুরোপুরি তলিয়ে গেছে।
টানা বর্ষণের ফলে উপজেলার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়েছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ নাজিরহাট-কাজিরহাট সড়কের বিভিন্ন স্থান এখন হাঁটু সমান পানির নিচে। এ নিয়ে এই সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না।
পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতের জন্য ফটিকছড়ির বুক চিরে বয়ে যাওয়া হালদা নদী এবং ধুরুং খালের কিছু অংশের বেড়িবাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, দ্রুত ভাঙন কবলিত এলাকা মেরামত করা না হলে পুরো উপজেলাজুড়ে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটবে।
ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম বন্যা পরিস্থিতি সম্পর্কে জানিয়েছেন, "আমরা নিয়মিত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এবং নদী-খালের বাঁধ পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি।"
প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপদ্রুত এলাকার কৃষকদের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ এবং দুর্গতদের জরুরি সহায়তা দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলেও জানা গেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন